ঢাকা, বুধবার, ১১ বৈশাখ ১৪৩১, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫

ক্রিকেট

ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের যে ১১ দাবি

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২২১ ঘণ্টা, অক্টোবর ২১, ২০১৯
ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের যে ১১ দাবি ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। ছবি: শোয়েব মিথুন

১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। আর এসব দাবি না মানা হলে এখন থেকে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে অংশ নেবেন না তারা।

সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এমনটি জানান ক্রিকেটাররা।

সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটাররা এসে আলাদা ভাবে দাবি উত্থাপন করেন।

 নিচে ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হলো:কথা বলছেন সাকিব।  ছবি: শোয়েব মিথুন১. ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-কোয়াব এর প্রেসিডেন্ট, সেক্রোটারি যারা আছেন তাদের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। তারা আমাদের কোনো উন্নতি করেননি। আমাদের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি কে হবেন সেটা আমরা প্লেয়াররা নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক করবো। -নাঈম ইসলাম।

২. গত কয়েক বছরে প্রিমিয়ার লিগের অবস্থা কি? যেভাবে প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে তাতে সব প্লেয়ারই অসন্তোষ প্রকাশ করছে। পারিশ্রমিকের একটা মানদণ্ড বেধে দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক সীমাবদ্ধতা এখানে আছে। আমরা যেভাবে আগে প্রিমিয়ার লিগ খেলতাম এবং প্লেয়াররা যেভাবে ক্লাব অফিসিয়ালদের সাথে ডিল করত সেটা এখন আর নেই। আমাদের দাবি হচ্ছে আগে যেভাবে প্রিমিয়ার লিগটা চলত সেভাবে যেন আমরা পাই। -মাহমুদউল্লাহ। কথা বলছেন তামিম।  ছবি: শোয়েব মিথুন৩. এবারের বিপিএল অন্য নিয়মে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের যেটা মূল দাবি সেটা হল বিপিএল যেন আগের নিয়মে ফিরে আসে এবং লোকাল প্লেয়ারদের ন্যায্য মূল্যটা যেন বিদেশি প্লেয়ারদের সাথে সামঞ্জস্য থাকে। আমরা দেখি যে বিপিএলে বিদেশি প্লেয়াররা আসে এবং তাদের অনেক পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়রা সেটা পায় না। বিসিবিকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। আপনারা যদি খেয়াল করে দেখেন বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে যে যে প্লেয়ার তারা নিলামেই নিশ্চিত করে যে কোন গ্রেডে থাকবে। আমার মনে হয় আমাদেরও সেই সম্মানটা দেওয়া উচিত। -মুশফিক

৪. আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্লেয়ারদের বেতন ১ লাখ টাকা হওয়া উচিত। আমরা এই দাবিটা অবশ্যই জানাচ্ছি। আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্লেয়ারদের বেতন অনেক কম। সেটা নুন্যতম ৫০ ভাগ বাড়াতে হবে। অনুশীলন সুবিধা বাড়াতে হবে। জিম, ইনডোর, মাঠ সব কিছুর সুবিধা বাড়াতে হবে। ১২ মাস কোচ, ফিজিও, ট্রেনার থাকাটা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই এটা আসছে মৌসুমের আগেই হবে। আমরা চাই না প্রতিটি অনুশীলনই ঢাকাতে হোক। ঢাকার বাইরে বরিশাল তাদের হোম ভেন্যুতে, খুলনা তাদের হোম ভেন্যুতে অনুশীলন করবে তাহলেই ক্রিকেটের প্রসার বৃদ্ধি পাবে। কথা বলছেন মুশফিক।  ছবি: শোয়েব মিথুন৫. আমরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যে বল দিয়ে খেলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই বল দিয়ে খেলা হয় না। ফলে আমাদের নতুন করে বলের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। এই জিনিসটা যেন আমাদের না করতে হয়। ডেইলি অ্যালাউন্স বাবদ আমাদের ১৫’শ টাকা দেওয়া হয়। আমার মনে হয় না এটা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত। যে ফিটনেস লেভেল বিসিব প্লেয়ারদের থেকে দাবি করে, মনে হয় না সেটা ১৫’শ টাকায় সম্ভব। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে এবং ভালো হোটেলে থাকতে হবে। সেটা বিবেচনা করে যে টাকা দিলে ভাল হয় বিসিবি সেটা যেন করে। ভ্রমণ এটা বড় একটি ইস্যু। ভ্রমণ বাবদ যে টাকা দেওয়া হয় সেটা পর্যাপ্ত না। আমাদের ২৫’শ টাকা দেওয়া হচ্ছে এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে ভ্রমণ বাবদ। আপনারা বলতে পারেন ২৫’শ টাকায় বাসা ছাড়া অন্য কোনো ভাবে সে পৌঁছাতে পারে? অতএব বিসিবি থেকে যেন বিমান ভাড়া দেওয়া হয় সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। হোটেলে জিম এবং সুইমিং পুল অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ চার দিনের ম্যাচ শেষে প্রতিটি প্লেয়ারের অনেক কষ্ট হয়। তো এখানে অবশ্যই রিকভারির জায়গা থাকতে হবে। টু স্টার বা থ্রি স্টার হোটেলে প্লেয়ারদের থাকা সম্ভব নয়। বাস, আপনারা দেখেন আমরা কি বাসে চলা ফেরা করি। এটা প্লেয়ারদের জন্য একবারেই আরামদায়ক নয়। এতএব একটা এসি বাস অবশ্যই যেন থাকে। -সাকিব

৬. জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ প্লেয়ারদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বিশ্বব্যাপী যদি আপনারা চিন্তা করেন আমার মনে হয় আমাদের চুক্তিবদ্ধ প্লেয়ারদের সংখ্যা কম। আমার মনে হয় চুক্তিবদ্ধ প্লেয়ারদের সংখ্যা ৩০ জন করা উচিত এবং করতে হবে। শুধু তাই নয়, আমাদের বেতন বাড়াতে হবে তিন বছর যাবত আমাদের বেতন বাড়নো হয় না। অতএব বেতনও বাড়াতে হবে। -এনামুল হক জুনিয়র

৭. আমাদের গ্রাউন্ডস ম্যান,কোচ মাস শেষে অনেক কম টাকা বেতন পায়। বিদেশি প্লেয়াররা যে বেতন পায় সে তুলনায় আমাদের স্থানীয়রা বেতন খুব বেতন পায়। আমাদের আম্পায়ার, ফিজিও ও ট্রেনারদের ও একই অবস্থা। অতএব তাদের বেতনও বাড়ানো উচিত। -তামিমকথা বলছেন মাহমুদউল্লাহ।  ছবি: শোয়েব মিথুন৮. ঘরোয়া ক্রিকেটে আমরা দুই ধরনের লঙ্গার ভার্সন খেলি বিসিএল ও এনসিএল। কিন্তু ওয়ানডেতে আমরা একটা মাত্র ভার্সন খেলি। এই সংখ্যাটি আরও বাড়ানো উচিত। টি টোয়েন্টিতে আমরা বিপিএল নামক মাত্র একটা একটি টি-টোয়েন্টি লিগ খেলি। আমার মনে হয় বিপিএলে আরও ভালো করতে অন্তত আরও একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলা উচিত। আগে জাতীয় লিগে আমরা আগে একটি ওয়ানডে খেলতাম। যা এখন আমরা পাই না। সেটা বাড়ানো হোক। -বিজয়

৯. ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য একটি নির্ধারিত ক্যালেন্ডার থাকতে হবে। এটা হলে আমরা আগে থেকে আমরা থেকে প্রস্তুতি নিতে পারি। -সোহান

১০. প্রিমিয়ার লিগে যে বকেয়া সেটা যেন ক্লিয়ার করা হয় না। প্রতিবছর যে সময়টা দেওয়া থাকে তার মধ্যে যেন ক্লিয়ার করা হয়। -জুনায়েদ

১১. ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে একটি নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে যে দুটার বেশি খেলতে পারব না। সেই জায়গায় আমাদের যদি জাতীয় দলের বাইরে যদি ফ্রি থাকি এবং আমাদের যদি ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে আমরা কয়েকটি ম্যাচ বেশি খেলতে পারব। -ফরহাদ রেজা

বাংলাদেশ সময়: ১৮২০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২১, ২০১৯
এমএমএস/আরএআর
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।