ঢাকা, বুধবার, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১, ২৪ জুলাই ২০২৪, ১৭ মহররম ১৪৪৬

খেলা

প্যারা অ্যাথলেটদের ট্রেনিংয়ের জন্য স্থায়ী ভেন্যুর দাবি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, স্পোর্টস | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬০৭ ঘণ্টা, জুন ১০, ২০২৪
প্যারা অ্যাথলেটদের ট্রেনিংয়ের জন্য স্থায়ী ভেন্যুর দাবি

কারো একটি হাত নেই, কারো অকেজো। কেউ বা ক্র্যাচে ভর দিয়ে দূরের জেলা থেকে ঢাকার পল্টনস্থ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ উডেন ফ্লোর জিমনেশিয়ামে এসেছেন প্যারা টেবিল টেনিস টুর্নামেন্টে অংশ নিতে।

 

আসরে হুইল চেয়ারে অংশ নেওয়া প্যারা অ্যাথলেটদের অংশও নেহায়েত কম নয়। দেশের ১৪ জেলা থেকে মোট ৩৬ জন (নারী-পুরুষ) প্যারা টেবিল টেনিস খেলোয়াড়কে এবার এক ছাতাতলে নিয়ে এসেছে ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশ (এনপিসি, বাংলাদেশ)। ১০-১১ জুন অনুষ্ঠিত হবে এবারের প্যারা টেবিল টেনিস প্রশিক্ষণ ও টুর্নামেন্ট।  

সোমবার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন প্যারা টেবিল টেনিস খেলোয়াড়রা। মঙ্গলবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ হয়ে টুর্নামেন্টে খেলবেন তারা। আজ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটির মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. মাকসুদুর রহমান। দেশব্যাপী প্যারা টেবিল টেনিস ছড়িয়ে দেওয়াই লক্ষ্য আয়োজকদের।

দেশের জন্য বিভিন্ন সময় সাফল্য, সম্মান-পদক বয়ে এনেছেন প্যারা অ্যাথলেটরা। জাতীয় পর্যায়েই শুধু নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তারা সাফল্যের স্মারক এঁকেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্টে প্যারা অলিম্পিকেও ইতিহাস রচনা করেছেন বাংলাদেশের প্যারা অ্যাথলেটরা।  

চলতি বছর আগস্টে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হবে প্যারা অলিম্পিক গেমস প্যারিস ২০২৪। সেখানে ওয়াইল্ড কার্ডের করুণাতে নয়; সরাসরি যোগ্যতা দিয়ে খেলার টিকিট পেয়েছেন বাংলাদেশের প্যারা আরচার ঝুমা আক্তার। এত বড় সাফল্যের পরও প্যারা অ্যাথলেটদের জন্য নেই কোনো সুনির্দিষ্ট আবাসন, নেই অনুশীলন গ্রাউন্ডও। এই আক্ষেপ তাদের দীর্ঘদিনের।  

এ ব্যাপারে এনপিসির মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রীড়াবান্ধব সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের কল্যাণে সব সময় নিবেদিত প্রাণ। আজকে আমরা যে প্যারা টেবিল টেনিস টুর্নামেন্টটি আয়োজন করছি সেটাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণেই। ওনি প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের উন্নয়নে আমাদের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছেন। সেটা দিয়েই আমরা এ কার্যক্রম চলাচ্ছি। ’

‘আমাদের ক্রীড়ামন্ত্রী মহোদয় নাজমুল হাসানও বিশেষ খেলোয়াড়দের প্রতি অত্যন্ত সদয়, তাদের বিষয়ে অবগত। এটা ঠিক যে আমাদের নিজস্ব কোনো ভেন্যু নেই। আমাদের কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হলে, বিদেশি কোচ আনতে হলে তাদের রাখার জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গা নেই। তবে সরকার আন্তরিক। আমাদের জন্য কাজ করছেন তারা। আশা করছি শিগগিরই আমরা নিজস্ব ভেন্যু পাব। ’

প্যারা টেবিল টেনিস খেলোয়াড়রা এবার শুধু টুর্নামেন্টেই অংশ নিচ্ছেন না; তাদের থাকা-খাওয়া থেকে আবাসন এমনকি সকলের যাতায়াতেও ভূমিকা রাখছে আয়োজকরা। টেবিল টেনিসের অভিজ্ঞ কোচ গৌতম দাসের অধীনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন নাহিয়ান, সৌমিকরা।

এ ব্যাপারে হুইল চেয়ার প্যারা টেবিল টেনিস খেলোয়াড় নূর নাহিয়ান বলেন, দুই বছর আগে এই আসরে আমরা অংশ নিয়েছিলাম। সেবার প্রতিযোগী কম ছিল। কিন্তু এবার অনেক প্রতিযোগী এসেছে। কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ ভালো হচ্ছে। আগামীকাল আমাদের টুর্নামেন্ট শুরু হবে। এবার অনেক ভালো একটা টুর্নামেন্ট হবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট হবে। ’

অন্যান্য ইভেন্টের চাপে প্যারা টেবিল টেনিস গত বছর অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে এটি ন্যাশনাল প্যারা অলিম্পিকের ক্যালেন্ডারভুক্ত বলে মন্তব্য ইঞ্জিনিয়ার মাকসুদের। এ ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা টেবিল টেনিস ফেডারেশন থেকে অনুমতি নিয়ে এবারের আসর আয়োজন করছি। আমাদের ছোট্ট ফেডারেশন। অনেক প্রতিকূলতা থাকার পরও আমরা নিয়মিত সব ইভেন্টই করে থাকি। ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টগুলোতেও প্রতিনিয়ত অংশ নিই। সেখানে আমাদের প্লেয়াররা দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনেন। এবার প্যারা টেবিল টেনিসে ১৪টি জেলা থেকে খেলোয়াড়রা এসেছেন। সামনে এর ব্যাপ্তি আরো হবে। এর চেয়ে বেশি প্রতিযোগী ইনশাল্লাহ অংশ নেবে। ’

বাংলাদেশ সময়: ১৬০৭ ঘণ্টা, জুন ১০, ২০২৪
এআর/আরইউ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।