ঢাকা, রবিবার, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭, ১২ জুলাই ২০২০, ২০ জিলকদ ১৪৪১

খেলা

জার্মানি-ইংল্যান্ড মহারণ রোববার

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-২৬-০৬ ১১:০০:১৪ এএম

ঢাকা: জার্মানিকে দেখা হয় গতিময় ফুটবলের প্রতীক হিসেবে। যেকোন দলের জন্যই তারা ভয়ংকর।

বিশ্বকাপের ফেবারিটও বটে। ইংলিশরা লড়াকু জার্মানির মুখোমুখি হচ্ছে নকআউট ম্যাচে।

ইংলিশদের বুকে ধুকপুক শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। হয়তো ভেতরে দুরু দুরু কাঁপছে। কিন্তু জার্মানি বলিষ্ঠ। যুদ্ধের ময়দানে লড়াকু দলটি পরের ধাপে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

কারণ তাদের আছে শিরোপা ুধা। ২০০৬ সালে দেশের মাটিতে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার জ্বালা। প্রথম পর্বের পরীক্ষায় ভালভাবেই উৎড়ে গেছে। এবার নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত। গন্তব্যে পৌঁছাতে সামর্থ্যরে পুরোটাই উজাড় করে দিতে মোটেও কার্পণ্য করবেন না মিরোস্লাভ কোসারা।

বিশ্বকাপে জার্মানির শুরুটা ছিলো অসাধারণ। অস্ট্রেলিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিলেও পরের ম্যাচেই হোঁচট খায় সার্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে। জার্মানিরা দমে যাওয়ার নয়। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টালির শীর্ষে থেকেই দ্বিতীয় ধাপে এসেছে।

সেখানে ইংল্যান্ড কোন ম্যাচ হারেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও আলজেরিয়ার সঙ্গে পর পর ড্র করে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা অনিশ্চিয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছিলো। তবে শেষ ম্যাচে স্লোভেনিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে বাজিমাত করে ফেলে ইংল্যান্ড। ‘সি’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউটে খেলছে তারা।
 
প্রথম পর্বের খেলা দিয়ে দুই দলের শক্তির বিচার করা যায় না। পেছনের অনেক ঘটনাই প্রভাবিত করে একে অন্যকে। অতীত রেকর্ডকে প্রেরণা হিসেবে কাজে লাগাতে চেষ্টা করে। রুনিদের প্রেরণা যোগাচ্ছে ১৯৬৬ সালের ফাইনাল। দেশের মাটিতে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়েই সেইবার শিরোপা জিতেছিলো তারা। এবার নকআউট ম্যাচে পুরনো শত্রুকে ঘায়েল করতে তাদেরও চেষ্টার কমতি থাকবে না।

প্রেরণা খোঁজার অনেক ঘটনাই আছে জর্মানদের সামনে। ১৯৯০ সালে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়েই ফাইনাল খেলেছিলো তারা। তারই ধারাবাহিকতায় সাফল্য চায় এবার।

জার্মান কোচ জোয়াকিম লো তবুও সতর্ক। বলেন,“ইংল্যান্ড দলটি অভিজ্ঞ, মাঠে লড়াকু এবং দৃঢ় মানসিকতার অধিকারী। রুনি, টেরি, ল্যাম্পার্ড ও গেরার্ডদের ইংল্যান্ড ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল। ”

সার্বিয়ার ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়া মিরোস্লাভ কোসা একাদশে ফিরেছেন। ডান উরুতে চোট পাওয়ায় এ ম্যাচে অনিশ্চিত গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার বাস্টিয়েন সোয়েনস্টেগার। যাকে বলা হয় প্রাণভোমরা। বিষয়টি কিছুটা হলেও জার্মান কোচের জন্য চিন্তার কারণ।

ইংল্যান্ডও সুখে নেই। তাদেরও আছে চোট সমস্যা। খেলতে পারছেন না লেডলি কিং। এছাড়া একাদশে কোন পরিবর্তন আনার ইচ্ছে নেই কোচ ফ্যাবিও ক্যাপোলোর।

তিনি বলেন,“প্রথম পর্বে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে জয় দরকার ছিল খেলোয়াড়দের জন্য। আমিও তা চেয়েছিলাম। সেখানে ইংল্যান্ড একটি দল হিসেবেই খেলেছে। আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। ”

এ পর্যন্ত ২৭ বার মুখোমুখি হয়েছে দল দু’টি। বার জিতেছে ইংল্যান্ড, দশ বার জার্মানি আর পাঁচবার খেলা শেষ হয়েছে অমীমাংসিতভাবে।

বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় ব্লুমফনটেইনের ফ্রি স্টেট স্টেডিয়ামে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি খেলতে নামবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

জার্মানি সম্ভাব্য একাদশ: ম্যানুয়েল নেউয়ের (গোলরক্ষক), আর্নে ফ্রেড্রিক, পের মের্তেসাকাকের, হোলগার বাদস্তুবার, ফিলিপ লাম, সামি খেদিরা, টনি ক্রস, মেসুট ওজিল, থমাস মুয়েলার, লুকাস পোডোলস্কি ও মিরোস্লাভ কোসা।

ইংল্যান্ড সম্ভাব্য একাদশ: ডেভিড জেমস (গোলরক্ষক), গ্লেন জনসন, জস টেরি, জামি কারাগার, অ্যাশলে কোল, স্টিভেন গেরার্ড, ফ্রাঙ্ক লাম্পার্ড, গ্যারেথ ব্যারি, জেমস মিলার, জার্মেইন ডেফো ও ওয়েনে রুনি।  

বাংলাদেশ সময়: ২১০১ ঘন্টা, ২৬ জুন, ২০১০
সিজি/এসএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa