ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মাঘ ১৪২৯, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০ রজব ১৪৪৪

শেয়ারবাজার

বিদায়ী সপ্তাহে পুঁজিবাজারে লেনদেন কমেছে ১১০৬ কোটি টাকা 

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩১৫ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০২১
বিদায়ী সপ্তাহে পুঁজিবাজারে লেনদেন কমেছে ১১০৬ কোটি টাকা 

ঢাকা: বিদায়ী সপ্তাহে (১৪ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ) সূচকের পতনে পুঁজিবাজারে লেনদেন শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে টাকার পরিমাণে লেনদেন এবং বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে।

পতনের কারণে সপ্তাহটিতে লেনদেন কমেছে ১১০৬ কোটি টাকা।  

এর মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৯৬৮ কোটি ১১ লাখ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমেছে ১৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকা।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহে চার কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২ হাজার ৬২৭ কোটি ৮৫ লাখ ৮২ হাজার ১২১ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের সপ্তাহ থেকে ৯৬৮ কোটি ১১ লাখ ৯৭ হাজার ১২৫ টাকা বা ২৬.৯২ শতাংশ কম হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৫৯৫ কোটি ৯৭ লাখ ৭৯ হাজার ২৪৬ টাকার।

ডিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছে ৬৫৬ কোটি ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার ৫৩০ টাকার। আগের সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছিল ৭১৯ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৯ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে গড় লেনদেন ৬২ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ৩১৯ টাকা কম হয়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৪.১৬ পয়েন্ট বা ২.৪১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৩৪.৬৯ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৮.০৯ পয়েন্ট বা ১.৪৩ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮০.৭৮ পয়েন্ট বা ৩.৭৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়ে ১২৪৭.৬৮ এবং ২০৭৩.৮৯ পয়েন্টে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৮৫৪ কোটি ৩০ লাখ ৮৪ হাজার টাকায়। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৭৫৬ কোটি ৬৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৬৮টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৭২টির বা ১৯.৫৭ শতাংশের, কমেছে ২১০টির বা ৫৭.০৬ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৬টির বা ২৩.৩৭ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

জানা গেছে, গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১৭.২৩ পয়েন্টে। যা সপ্তাহ শেষে ১৬.৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও ০.৩৩ পয়েন্ট বা ১.৯২ শতাংশ কমেছে।

সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘এ’ ক্যাটাগরি বা ভালো কোম্পানির অবদান ছিল ৬৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এছাড়া ‘বি’ ক্যাটাগরি ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ, ‘জেড’ ক্যাটাগরি দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং ‘এন’ ক্যাটাগরি ১১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ অবদান ছিল।

গত সপ্তাহে ডিএসইর টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- বেক্সিমকো, রবি, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, লাফার্জহোলসিম, সামিট পাওয়ার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, লুব-রেফ, জিবিবি পাওয়ার, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ১১৬ কোটি ৪২ লাখ ২১ হাজার ১৫২ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২৫৪ কোটি ৬২ লাখ ৬৫ হাজার ৭৩৫ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ১৩৮ কোটি ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৩ টাকা বা ৫৪.২৮ শতাংশ কম হয়েছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪১৪ পয়েন্ট বা ২.৫৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৫০.১২ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ২৯৫টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৭টির বা ১৯.৩২ শতাংশের দর বেড়েছে, ১৬১টির বা ৫৪.৫৮ শতাংশের কমেছে এবং ৭৭টির বা ২৬.১০ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০৮ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০২১
এসএমএকে/আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa