ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩১ চৈত্র ১৪৩২, ১৫ মে ২০২৫, ১৭ জিলকদ ১৪৪৬

সারাদেশ

ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা সৈয়দপুর রেল কারখানায়, আছে সংকট

মো. আমিরুজ্জামান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯:১৫, মে ১৪, ২০২৫
ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা সৈয়দপুর রেল কারখানায়, আছে সংকট মেরামতে ব্যস্ত এক শ্রমিক

নীলফামারী: ঈদযাত্রার জন্য কোচ মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকেরা। জনবল ও কাঁচামালের সংকট থাকলেও পুরোদমে কাজ চলছে।

সৈয়দপুরের এই কারখানায় মেরামত করা কোচ যুক্ত হবে বিভিন্ন ট্রেনে।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ৪৫ কর্মদিবসে ১০০টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা। এরমধ্যে ৬০টি কোচ এরইমধ্যে মেরামত শেষ হয়েছে। সেগুলো রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিগুলোও মেরামত শেষে হস্তান্তর করা হবে।  

কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, জনবল সংকটে চারজন শ্রমিকের কাজ করছেন একজন শ্রমিক। প্রতি মাসে ৩২টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ঈদে সেই সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়।  

১৮৭০ সালে ১১০ একর জমিতে সৈয়দপুর রেলকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ কারখানার ২৮টি শপে কোচ মেরামত করা হয়। এ ছাড়া ক্যারেজ, ওয়াগন ও লোকোমোটিভের এক হাজার ২০০ রকমের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি হয় এ কারখানায়। নানা সংকটে এখন বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

কথা বলে জানা যায়, জনবল সংকটের কারণে কারখানায় প্রতিদিনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। ঈদের আগে প্রতিদিনের লক্ষ্যমাত্রা তিনটি কোচ মেরামত। তবে হচ্ছে দুটি। ২৮টি শপে ৭৪০টি মেশিন পরিচালনায় নেই প্রয়োজনীয় দক্ষ শ্রমিক। পর্যাপ্ত বাজেটও নেই। ফলে চাহিদা ও সময়মতো কাঁচামালের সরবরাহ পাওয়া যায় না।

কারখানা সূত্র জানায়, বর্তমানে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকের পদ আছে দুই হাজার ৮৫৯টি। এর মধ্যে আছেন ৭১৬ জন। দুই হাজার ১৪৩টি পদই শূন্য।

কারখানার ক্যারেজ শপের ইনচার্জ (এসএসএই) মমিনুল ইসলাম জানান, এ কারখানায় মিটারগেজ (ছোট) ও ব্রডগেজ (বড়) উভয় লাইনের কোচ মেরামত হয়ে থাকে। ঈদযাত্রার জন্য কোচ মেরামতের কাজ চলছে পুরোদমে। মেরামত শেষে এসব কোচ আন্তঃনগর ট্রেনসহ বিশেষ ট্রেনে সংযোজন করা হবে।

জনবল সংকট নিয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, সর্বশেষ ২০২৩ সালে ২৮৯ জনকে খালাসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও অনেক পদ শূন্য।  

তিনি বলেন, নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে শ্রমিকেরা অতিরিক্ত সময় কাজ করে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শূন্যপদ পূরণ হলে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে আবার এ কারখানা কর্মমুখর হবে।

এই কর্মকর্তা বলেন, ঈদের কোচ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে কারখানার শ্রমিকেরা কাজ করছেন। আশা করি ঈদের আগেই সব কোচ রেলবহরে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে।

আরএইচ
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।