ঢাকা, রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাতীয়

দাফনের ৩ বছর পর কবর থেকে ওঠানো হলো কিশোরীর মরদেহ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৩৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২
দাফনের ৩ বছর পর কবর থেকে ওঠানো হলো কিশোরীর মরদেহ

লক্ষ্মীপুর: দাফনের তিন বছর পর এক গৃহকর্মী কিশোরীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। অপমৃত্যু নয়, তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বরর) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌস আরার উপস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদীর মণ্ডলতলী এলাকার একটি কবরস্থান থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে মরদেহটি ফরেনসিকে পাঠায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

২০১৯ সালের ১৬ আগষ্ট রাজধানীর একটি বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে নিহত হয় ১৩ বছর বয়সী রিয়া আক্তার নামে এক গৃহকর্মী। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। ওই মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে নারাজী দিয়ে ওই কিশোরীর মা কুলসুম বেগম এটিকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার দাবি করেন। পরে ঢাকা এমএম আদালত নং-৮ গত মে মাসের ১ তারিখে ডিএনও টেস্টের জন্য মরদেহ উত্তোলনের আদেশ প্রদান করেন। সেই নির্দেশের ভিত্তিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

নিহত রিয়া টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার রাজু আহম্মেদের মেয়ে। সে টঙ্গী আউচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার নানার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩ আগস্ট রিয়া ও শিমলা নামে দুই কিশোরীকে গৃহকর্মীর কাজের কথা বলে ধানমন্ডির ৯১ নম্বর বাসায় নিয়ে যান তাদের পরিচিত জাকির হোসেন। এর ৪-৫ দিন পর রিয়া ফোন দিয়ে কান্নাজনিত কন্ঠে বলে 'মা আমি এ বাসায় ভালো নেই, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। ' একই বছরের ১৬ আগস্ট ভোরে একটি প্রাইভেটকারে কয়েকজন লোক গিয়ে রিয়া অসুস্থ বলে জানান। পরে বাসায় গিয়ে দেখে রিয়া মারা গেছে। এ সময় বাসার মালিক মমিনুল দাবি করেন, বিল্ডিংয়ের ১০ম তলার বেলকুনি দিয়ে শাড়ি বেয়ে নামার সময় রিয়া পড়ে মারা গেছে।

পরে একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরের দিন লক্ষ্মীপুর সদরের হামছাদী এলাকায় নিহতের নানার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহতের মা কুলসুম বেগম জানান, ন্যায় বিচারের জন্য মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পিবিআই ২০২১ সালের ৭ জুলাই তদন্ত গ্রহণ করে। মামলা তদন্তকালে বিভিন্ন স্বাক্ষী, জবানবন্দী, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ফুটেজ সংগ্রহ করে আদালতে চলতি বছরের ৩ মার্চ পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল করে। মামলার চলমান প্রক্রিয়ায় প্রতিবেদন উপযুক্ত মনে না করায় আদালত মামলাটি ডিএনএ টেষ্ট করার জন্য ডিবিকে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌস আরা জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২
এফআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa