ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৩০ মে ২০২৪, ২১ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

ধূমকেতু দেখতে এসে চাঁদ দেখলেন দর্শনার্থীরা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২২৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ২১, ২০২৪
ধূমকেতু দেখতে এসে চাঁদ দেখলেন দর্শনার্থীরা

রাজশাহী: দীর্ঘ প্রায় ৭১ বছর পর আজ সূর্যের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করছিল ধূমকেতু ১২পি/পনস-ব্রুকস। কিন্তু রাজশাহীতে সব আয়োজন শেষ করলেও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে ঢাকা পড়েছিল ডেভিল ধূমকেতু।

আজ রোববার (২১ এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টা করেও দেখা মেলেনি সেই ধূমকেতুর। তবে দর্শকরা টেলিস্কোপে চাঁদ দেখতে পেয়েও খুশি হয়েছেন।

রাজশাহী অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার এবং বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন উদ্যোগে রোববার সন্ধ্যায় ডেভিল ধূমকেতু এবং বৃহস্পতি গ্রহ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে পর্যবেক্ষণের সময় আকাশ মেঘলা থাকায় আগত দর্শকরা কেবল চাঁদ দেখতে পেরেছেন আজ। রাজশাহী মহানগরের টি-বাঁধ পদ্মার পাড়ে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলে এই ব্যাতিক্রমী আয়োজন।

আর এই ধূমকেতুটির নাম ১২পি/পনস-ব্রুকস। যা অনেকটা গরুর শিংয়ের মতো দেখতে।

বলা হচ্ছে, এটি ২৯ কিলোমিটার ব্যসের। প্রতি ৭১ বছর পরপর এটি দেখা যায়। তাই ২০৯৫ সালের আগে একে আর দেখা যাবে না। ধূমকেতুটি ধূলিকণা, শিলা ও বরফ দিয়ে তৈরি।

১৩৮৫ সালে চীনা জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথম এই ধূমকেতু দেখতে পান। এরপর ১৪৫৭ সালে দেখেছিলেন এক ইতালীয় জ্যোতির্বিদ। তবে নামকরণ করা হয়েছে আরও পরে।  

তাই এই দুই জ্যোতির্বিজ্ঞানীর নামানুসারেই তার নাম রাখা হয়। ১৮১২ সালে ফরাসি জ্যোতির্বিদ জিন-লুই পনসের নামানুসারে ধূমকেতুর প্রথম অংশ ও ১৮৮৩ সালে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলিয়াম ব্রুকসের নামানুসারে এর দ্বিতীয় অংশের নামকরণ করা হয়েছে।

আয়োজকরা বলছেন, দীর্ঘ ৭১ বছর পর আজ ডেভিল ধূমকেতুর সূর্যের সবচাইতে কাছে অবস্থান করছিল। সূর্যাস্তের সময় থেকে ঘণ্টাখানেক ধূমকেতুটি পশ্চিম আকাশে অবস্থান করার কথা ছিল এটির। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও শেষ করা হয়েছিল। কিন্তু মেঘযুক্ত আকাশ থাকায় শেষ পর্যন্ত কেবল দেখা মিলেছে চাঁদের।  

আগ্রহী সব দর্শনার্থীর জন্যই টেলিস্কোপে চাঁদ পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পটি উন্মুক্ত ছিল।

অনেকে টেলিস্কোপে প্রথমবারের মতো চাঁদ দেখতে পেরে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিলেন।

রাজশাহী অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের সভাপতি আহসান কবির লিটন বলেন, এখানে একসঙ্গে এত মানুষ চলে আসবে সেটা বুঝতে পারিনি। তা না হলে আগে থেকেই বলে দেওয়া হতো যে, মাত্র ২শ জনকেই সুযোগ দেওয়া সম্ভব। তারপরও তরুণ-তরুণীরা আজ অ্যাস্ট্রোনমি (জ্যোতির্বিজ্ঞান) নিয়ে যেই আগ্রহ দেখিয়েছেন তাতে আমরা খুশি। আর এই আগ্রহটা আমাদের কাছে ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে যখন আয়োজন করবো, তখন সবকিছুই বিবেচনা করে আরও বড় পরিসরেই এই ধরনের আয়োজন করবো।

বাংলাদেশ সময়: ২২২৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২১, ২০২৪
এসএস/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।