ঢাকা, রবিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৬ মে ২০২৪, ১৭ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, জলকামান ভাঙচুর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ২১, ২০২৪
বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, জলকামান ভাঙচুর

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে সড়ক অবরোধ করেছেন ক্রোনী গ্রুপের অবন্তী গার্মেন্টসের শ্রমিকরা।

এ সময় শ্রমিকদের বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে অবরোধকারীদের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের জলকামান ভাঙচুর করেছেন।

রোববার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কের শাসনগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গার্মেন্টসটিতে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।

জানা যায়, গত মার্চ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে শ্রমিকদের। ঈদের পর ২০ এপ্রিল কারখানা খুলেছে। ২২ এপ্রিল তাদের বকেয়া পরিশোধ করার কথা বলেছিল মালিকপক্ষ। সকালে কাজে যোগ দিতে এসে বকেয়া বেতনের দাবি করেন শ্রমিকরা। তবে মালিকপক্ষ মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বেতন দেওয়া হবে জানালে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানান। এ সময় বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে ও বাঁশ ফেলে সড়কের দুই পাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪ এর পরিদর্শক (ইনটেলিজেন্স) সেলিম বাদশা জানান, শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন বকেয়া ছিল ঈদের আগে। বোনাসও এক সঙ্গে দেওয়ার কথা ছিল। ঈদের আগে বোনাস দিলেও মার্চ মাসের বেতন দিতে পারেননি মালিকপক্ষ। তবে মালিকপক্ষ কথা বলে ঠিক করে নিয়েছিল শ্রমিকদের সঙ্গে। আজ কাজে যোগ দিয়েই শ্রমিকরা বেতন চান। বেতন বৃহস্পতিবার দিতে চাচ্ছিল মালিকপক্ষ। এ নিয়ে কথা চলার মধ্যেই শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেন। মালিকপক্ষ পরবর্তীতে মঙ্গলবার বেতন দিতে রাজি হলেও শ্রমিকরা তা মানেনি। তারা আজই বেতন চান।

তিনি জানান, সড়ক অবরোধ করা শ্রমিকদের সরে যেতে বললে তারা পুলিশের ওপর ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ উপায়ন্তর না পেয়ে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিকও আহত হয়েছেন। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে মালিক শ্রমিক সমঝোতার চেষ্টা করছেন।

ক্রোনী গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার ইনতিসার আহমেদ জানান, আমরা ২০ এপ্রিল কারখানা খুলেছি, ২২ এপ্রিল বেতন দেওয়ার কথা ছিল। সকালে শ্রমিকরা এসে আজই বেতন চান। পরে তারা সড়ক অবরোধ ও কারখানায় ভাঙচুর চালায়। ঈদের আগেই তাদের সঙ্গে ২২ এপ্রিল বেতন দেওয়া হবে বলে কথা হয়েছিল।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ২১, ২০২৪
এমআরপি/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।