ঢাকা, বুধবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭ শাবান ১৪৪৫

আন্তর্জাতিক

গ্রেপ্তারের পর যে সাজা হতে পারে ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭১০ ঘণ্টা, মার্চ ৩১, ২০২৩
গ্রেপ্তারের পর যে সাজা হতে পারে ট্রাম্পের

পর্ন তারকার মুখ বন্ধ রাখতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে মামলার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

 

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি স্টর্মি ড্যানিয়েলস নামে ওই নারীর (পর্ন তারকা) সঙ্গে তার সম্পর্ক গোপন রাখার বিনিময়ে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দেন। তদন্ত শেষে গ্র্যান্ড জুরি তাকে অভিযুক্ত করতে ভোট দেয়।  

তবে ৭৬ বছর বয়সী ট্রাম্প অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনিই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট যিনি ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন।

কী অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সাবেক পর্ণ অভিনেত্রী এবং স্ট্রিপার স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে অর্থ প্রদানের জন্য তার তৎকালীন আইনজীবী মাইকেল কোহেনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

স্টর্মির দাবি, ২০০৬ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এটি ট্রাম্পের বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়াকে বিয়ে করার পরের বছরের ঘটনা।  

২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে এ নিয়ে মুখ না খুলতে তাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। মূলত এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়।

কোহেন আদালতে বলেন, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় এক লাখ ৩০ হাজার ডলারের বিষয়টি দফারফা করেছেন। কোহেন ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত একাধিক অভিযোগে জেলে ছিলেন।

কবে আদালতে হাজির হবেন ট্রাম্প

ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি আলভিন ব্র্যাগের দপ্তর ট্রাম্পের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করে। তার দপ্তর নিশ্চিত করেছে, তারা ট্রাম্পের আইনজীবীর সঙ্গে ট্রাম্পের আত্মসমর্থনের বিষয়ে যোগাযোগ করেছে।  

সাবেক এই প্রেসিডেন্ট এখন ফ্লোরিডায় থাকছেন। সোমবার তিনি নিউইয়র্কে যাবেন এবং পরে মঙ্গলবার তিনি আদালতের সামনে হাজির হতে পারেন। এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র সিবিএস নিউজ ও বিবিসিকে এসব তথ্য জানিয়েছে।  

শুনানিতে অভিযোগ পড়ে শোনানো হবে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত এর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আদালতে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।  

ট্রাম্পকে গ্রেপ্তারের পর যা হবে

আদালত চাইলে মিডিয়ার সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার বদলে গোপন পথে প্রবেশের অনুমোদন দিতে পারেন। আদালতে প্রবেশের পর তার অন্য ফৌজদারি আসামির মতো আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি নেওয়া হবে। তাকে মিরান্ডা রাইটস শোনানো হবে। তাকে জানিয়ে দেওয়া হবে যে, সাংবিধানিকভাবে আইনজীবী নিয়োগের অধিকার তার রয়েছে।  
 
আসামিদের ক্ষেত্রে সাধারণত সাময়িকভাবে হাতকড়া পরানো হয়। ট্রাম্পের আইনজীবীরা হয়তো চাইবেন, তার যেন তা না পরতে হয়। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার সময় তার সঙ্গে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা থাকবেন।

ট্রাম্পকে বিচারকের সামনে উপস্থিত হওয়ার আগে একটি হাজতখানায় অপেক্ষা করতে হবে। বিচারকের সামনে আসামিরা কোনো আবেদন জানানোর সময় যে কেউ উপস্থিত থাকতে পারেন।  

মামলা নথিভুক্ত হয়ে গেলে এবং বিচারক নির্ধারিত হয়ে গেলে আরও কিছু কাজ সম্পাদন করা হয় যেমন ট্রায়ালের সময় নির্ধারণ, সম্ভাব্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় ইত্যাদি।  

সামান্য অপরাধের ক্ষেত্রে সাধারণত জরিমানা হয়ে থাকে। ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অনেক আইন বিশেষজ্ঞ মনে করেন জরিমানা হতে পারে। তাকে বন্দি রাখার সম্ভাবনা নেই।  

গ্রেপ্তার হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কি

ফৌজদারি মামলাটি ২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ের দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে। ট্রাম্প এখনও সম্ভাব্য সব প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে আছেন।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলেও তার নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে- এমনকি কারাগার থেকেও রাজনীতি করে যেতে কোনো বাধা নেই।

অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনায় কে কী বলছেন

এক বিবৃতিতে ট্রাম্প ম্যানহাটনের ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নিকে কটাক্ষ করে কলঙ্ক হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাকে জো বাইডেনের নোংরা কাজ করার জন্য অভিযুক্ত করেন। ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের এই তদন্তকে বিরোধী পক্ষের পরিচালিত রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে কটাক্ষ করেছেন।

ব্র্যাগ একজন নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই মাসের শুরুর দিকে তিনি টুইট করেন, আমরা ঘটনা, আইন এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আমাদের মামলাগুলো মূল্যায়ন করি।  

ট্রাম্পের আইনজীবী সুসান নেচেলেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। আমরা আদালতে এই রাজনৈতিক মামলার বিরুদ্ধে শক্তভাবে লড়াই করব।  

অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযুক্ত হওয়ার বিষয়ে স্টর্মি ড্যানিয়েলস তার সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।  

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থি বলেছেন, আলভিন ব্র্যাগ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার মাধ্যমে আমাদের দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। তিনি বিচারব্যবস্থাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করছেন।

তবে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের অভিযুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।   

ট্রাম্প ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের মাধ্যমে দুবার অভিশংসিত হয়েছেন তিনি। যদিও দুবারই সিনেট থেকে তিনি খালাস পেয়ে যান।

বিবিসি অবলম্বনে

বাংলাদেশ সময়: ১৭০০ ঘণ্টা, মার্চ ৩১, ২০২৩
আরএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।