ঢাকা, বুধবার, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ শাবান ১৪৪৫

ভারত

অক্সিজেন সংকটে ভারতকে সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছে বহু দেশ

ভাস্কর সরদার, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬০৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৮, ২০২১
অক্সিজেন সংকটে ভারতকে সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছে বহু দেশ

কলকাতা: করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিশ্বের সবচেয়ে সংকটজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে ভারত। অক্সিজেন সংকটে প্রতিদিনই প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের।

পাশাপাশি প্রতিষেধক, করোনা কিট ও নানান সরঞ্জামেও আকাল দেখা দিয়েছে দেশটিতে। ১৩৫ কোটি ভারতবাসীর ওপর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে নাজেহাল হয়ে পড়ছে মোদী সরকার। ভারতের সেই সংকটকালে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

ইতোমধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়ে দিয়েছেন, দুঃসময়ে ভারত পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাই ভারতে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমেরিকা সব রকমের শক্তি দিয়ে সাহায্য করবে।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, আমি শিগগিরই ভারতে সব রকমের সাহায্য পাঠাচ্ছি। তার মধ্যে রেমডেসিভির ও অন্যান্য ওষুধও রয়েছে। ভারতে টিকা তৈরির জন্য যে কাঁচামাল প্রয়োজন তাও আমরা পাঠাচ্ছি। এতে টিকা উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারই নয়, দেশটির বেসরকারি সংস্থাগুলোও সংকটকালে ভারতের পাশে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে। ১৩৫ কোটি রুপির অর্থসাহায্য দিচ্ছে গুগল। এগিয়ে এসেছে গ্লিড এবং মাইক্রোসফট। সংস্থা দুটি ক্রিটিক্যাল অক্সিজেন কনসেনট্রেশন ডিভাইস কিনতে সাহায্য করবে ভারতকে। অ্যাপল, আমাজনসহ আমেরিকার আরও কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা একযোগে নেমে পড়েছে ভারতের পাশে দাঁড়াতে।

আমাজন ভারতকে ১৫০০টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর এবং অন্যান্য আপৎকালীন চিকিৎসার সরঞ্জাম কিনতে সাহায্য করবে। এক হাজার অক্সিজেন কনসেনট্রেটর দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ডিলয়েট এর মতো প্রতিষ্ঠান।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা ভারতে ৪৯৫টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর এবং ১২০টি নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেটর মেশিন এবং ২০টি ম্যানুয়াল ভেন্টিলেটার মেশিন পাঠাবে। ইতোমধ্যে দেশটি ১০০ ভেন্টিলেটর মেশিন এবং ৯৫টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর পাঠিয়ে দিয়েছে।

ফ্রান্স দুই ধাপে সাহায্য পাঠাবে বলে জানিয়েছে। প্রথম সাহায্য দেশটি পাঠিয়েছে ৮টি বিশাল মাপের অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট দিয়ে। দিয়েছে তরল অক্সিজেন, শ্বাসযন্ত্রের সরঞ্জাম এবং ২০০ পিস বৈদ্যুতিক সিরিঞ্জ। পরের সপ্তাহেই ভারতে এসে পৌঁছাচ্ছে ৫টি তরল অক্সিজেনের কন্টেইনার।

ভারতে সাহায্য পাঠাচ্ছে আয়ারল্যান্ডও। দেশটি আগামী সপ্তাহে পাঠাচ্ছে ৭০০ তরল অক্সিজেনের কনসেনট্রেটর। জার্মানি পাঠাচ্ছে মোবাইল অক্সিজেন প্রোডাকশ প্ল্যান্ট, ১২০ পিস ভেন্টিলেটার মেশিন এবং ৮০ মিলিয়নের বেশি কেএন-৯৫ মাস্ক।

ভারতের এই সহযোহিতার তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ঘোষণা দিয়েছেন, ৫০০ ভেন্টিলেটার মেশিন, এক মিলিয়ন সার্জিক্যাল মাস্ক, ৫ লাখ পি-টু এবং এন-৯৫ মাস্ক, ১ লাখ করোনা প্রতিরোধ চশমা, ১ লাখ জোড়া গ্লোভস এবং কুড়ি হাজারের মতো ফেস শিল্ড পাঠাবে।

ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরও অক্সিজেন দিয়ে সহযোগিতা করেছে। পাঠাচ্ছে ৫০০টি বাইপাপ মেশিন, ২৫০টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, ৪টি ক্রায়োজেনিক অক্সিজেন কন্টেইনার দেবে। পাশাপাশি সৌদি আবর, হংকং, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

সৌদি আবর পাঠাবে তরল অক্সিজেন। হংকং দেবে ৮০০টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর। থাইল্যান্ড পাঠাচ্ছে ৪টি ক্রায়োজেনিক অক্সিজেন ট্যাঙ্ক। সংযুক্ত আরব আমিরাত দেবে ৬টি ক্রায়োজেনিক অক্সিজেন কন্টেইনার।

এছাড়া ভারতকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কুয়েত, রাশিয়ার মতো দেশ। ভারতকে জীবনদায়ী অক্সিজেন দিয়ে ভুটানও সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০০ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৮, ২০২১
এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।