ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীনীতি নেই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১০০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭
নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীনীতি নেই নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীনীতি নেই

ঢাকা: নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীনীতি নেই। শুধুমাত্র ২০০৯ সালে হাইকোর্ট থেকে একটি রায় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাও বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া টাস্কফোর্স, নদী কমিশন রয়েছে। কিন্তু তাদের সিদ্ধান্তের কোনো বাস্তবায়ন নেই। তাই নদীরক্ষা করাও সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নদী রক্ষাকারী বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতারা।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনের প্রগতি সভাকক্ষে ‘বিশ্ব নদী দিবস সমন্বয় পরিষদ বাংলাদেশের’ আয়োজনে বিশ্ব নদী দিবস ২০১৭ পালন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পরিবেশবাদী আন্দোলনকারী নেতারা।

বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ও আয়োজক সংগঠনটির সমন্বয়কারী ডা. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন শরীফ জামিল, হালিম দাদ খান, জাকিয়া শিশির, গাউস পিয়ারী, সামাদ প্রধান, হাসনাৎ কাইয়ুম, মো. এজাজ, মিহির বিশ্বাসসহ বিভিন্ন নদী বাঁচাও আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতারা।

 

বক্তারা বলেন, একটি সংঘবদ্ধ জনগোষ্ঠী নদী ধ্বংসের পক্ষে কাজ করছে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে। অথচ নদীকে এদেশের মা বলা হয়। দেশের মাকে মেরে ফেললে দেশ বাঁচবে কিভাবে? আমাদের নদী কমিশন আছে। কিন্তু অকার্যকর। নদী টাস্কফোর্স আছে কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয় না। সরকার নদী প্রশ্নে ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতায় ভুগছে।  

নদী সংকটে বাংলাদেশ যুগসন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, এখনও ঘুরে দাঁড়ালে নদীরক্ষা হতে পারে। নেতৃত্ব দিতে হবে সরকারকে। দেশের রাজনৈতিক, সাংবাদিক, লেখক, সরকার, সাধারণ জনগণ সবসময় নদীরক্ষায় প্রত্যয় ঘোষণা করে বা নদী বাঁচানোর পক্ষে আছে। কিন্তু গত ৮ বছরে একটি নদীও পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি। বরং ৫০০ নদী নষ্ট হয়েছে ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের কারণে।

এলজিইডি রাস্তা করে নদী ভরাট করে। বাজার মার্কেট নদীর পাড়ে সৃষ্টি করে নদী ধ্বংস করা হচ্ছে। আমরা সরকারের স্বেচ্ছা ব্যর্থতার অবসান চাই।

এছাড়া হাইকোর্টের রায় ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবার কথা থাকলেও তা হয়নি উল্লেখ করে বলেন, হাইকোর্ট জায়গা জরিপ করে নদীর সীমানা পিলার দিতে বলেছিল। নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা ব্যতিক্রমভাবে ভাঙতে আদেশ দিয়েছিল। এরপর পাড় রক্ষা করে ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ীত্ব দিতে হবে। কিন্তু এসব কিছু না করেই ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নদী ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নদীর উপর অবৈধ স্থাপনা সরানোর কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ নেই।  

এদিকে ২০০৫ সালে কানাডার বিশিষ্ট বিজ্ঞানি মার্ক অ্যাঞ্জেলো এই নদী দিবসের প্রবর্তন করেন এবং সম্প্রতি বাংলাদেশকে দেয়া এক চিঠিতে তিনি জানান, বিশ্ব নদী দিবস হচ্ছে নদীর সারা পৃথীবির পানি প্রবাহকে গুরুত্ব সহকারে মূল্যায়ন করা। তাদের সম্মান সূচক উদযাপন করা। এই দিনটিতে নদীর গুরুত্ব তুলে ধরা। নদীর জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। আর একমাত্র নদী কর্মীদের নদী রক্ষা কাজে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সতেজ নদী নিশ্চিত হতে পারে।

‘দখল দূষণমুক্ত মুক্ত প্রবাহমান নদী; বাঁচবে প্রাণ ও প্রকৃতি, স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে সংগঠনটির আয়োজনে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় রাজধানীর বাহাদুর শাহ পার্কের ভিতরে স্মৃতি সৌধের সামনে মূল অনুষ্ঠানে সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

এরপর ১১টায় বুড়িগঙ্গা নদী অভিমূখী পদযাত্রার পর সংক্ষিপ্ত জনসমাবেশের পর কর্মসূচি শেষ হবে।

এছাড়া  সংগঠনটি গঠন করা হয়েছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী আন্দোলনের সহযোগিতায় এবং নদী আন্দোলনকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪০৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭
এমএএম/এসএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।