ঢাকা, শনিবার, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫ রজব ১৪৪৪

শিক্ষা

ঢাবি শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা, সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের দাবি

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১০৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ৩০, ২০২২
ঢাবি শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা, সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, (ঢাবি): বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণা ভাতাসহ অন্যান্য বাতিলকৃত সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সাদা দল।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপি উপাচার্যের কাছে দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের ‘গবেষণা ভাতা’ বাতিলের একটি অনাকাক্ষিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপনি জানেন, শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের এক মাত্র কাজ নয়। বরং বিদ্যমান জ্ঞানের বিকাশ ও নতুন জ্ঞান সৃজনও তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আর এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোনো না কোনোভাবে গবেষণা কাজের সাথে যুক্ত থাকতে হয়। শিক্ষকদের গবেষণা কাজের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব উপলব্ধি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ গবেষণা ভাতা চালু করেছিল। শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় এর পরিমাণ বৃদ্ধিও করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এতে আরও বলা হয়, যদিও গবেষণা কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় গবেষণা ভাতার পরিমাণ ছিল যৎসামান্যই। তারপরও হাঠাৎ করেই এটি রহিত করা হলো। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যেই ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাসকারী শিক্ষকদের জন্য যাতায়াত ভাতা রহিত করা হয়েছে। লেকচারার হিসেবে যোগদানের সময় একজন শিক্ষককে যে সর্বোচ্চ চারটি ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হতো সেটিও হ্রাস করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অবসর গ্রহণের ক্ষেত্রে যে সেশন বেনিফিট ছিল তাও বাতিল করা হয়েছে।

বিদেশে সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত নির্ধারিত অনুদানও এখন বন্ধ রয়েছে বলে আমরা জেনেছি। শতবর্ষ অতিক্রমকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা ও গবেষণার অনন্য উচ্চতায় প্রতিস্থাপন এবং এর বৈশ্বিক র‌্যাংকিং বৃদ্ধির জন্য যখন নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে, সে সময় শিক্ষকদের জন্য পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি না করে বিদ্যমান সুযোগ সুবিধাসমূহ একের পর এক হ্রাস বা রহিত করা অযৌক্তিক এবং অন্যায্য বলে আমরা মনে করি। এ ধরণের সিদ্ধান্ত কেবল শিক্ষকদের জন্য আর্থিক ক্ষতিই নয়, অসম্মানজনকও বটে। এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ও স্বায়ত্তশাসনের অবস্থানও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে রয়েছে- অন্য কোনো বিকল্প নয়, বরং অবিলম্বে গবেষণা ভাতা পুনর্বহাল; ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাসকারী শিক্ষকদের যাতায়াত ভাতা পুনর্বহাল; লেকচারার হিসেবে যোগদানের সময় একজন শিক্ষককে যে সর্বোচ্চ চারটি ইনক্রিমেন্ট প্রদানের বিধি চালু ছিল তা পুনর্বহাল; লেকচারার ও সহকারী অধ্যাপকদের জন্য টেলিফোন ভাতা পুনর্বহাল; শিক্ষকদের বিদেশে সেমিনারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অনুদান প্রদান অব্যাহত রাখা; শিক্ষকদের বিদ্যমান কোনো সুযোগ-সুবিধা হ্রাস নয়, বরং ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বহুল প্রত্যাশিত স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বাংলাদেশ সময়: ০১০৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ৩০, ২০২২
এসকেবি/এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa