ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আষাঢ় ১৪২৯, ০৫ জুলাই ২০২২, ০৫ জিলহজ ১৪৪৩

শিক্ষা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে যোগ্যতা অপরিবর্তিত রাখার দাবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩১ ঘণ্টা, মে ২৮, ২০২২
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে যোগ্যতা অপরিবর্তিত রাখার দাবি ছবি: বাংলানিউজ

বরিশাল: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় গ্রেড পয়েন্ট যোগ্যতায় আগের নিয়ম বহাল রাখার দাবিতে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আয়োজিত এ সমাবেশে উচ্চশিক্ষায় আসন সংখ্যা বৃদ্ধিরও দাবি জানানো হয়।

শনিবার (২৮ মে) বেলা ১১ টায় বিএম কলেজের জিরো পয়েন্টে এ সমাবেশ করে ছাত্র সংগঠনটি।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিগত বছরগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন যোগ্যতায় এই গ্রেড পয়েন্ট ছিল ২.০০। এবার ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তিতে হঠাৎ তা বাড়িয়ে মানবিক বিভাগের জন্য এসএসসিতে ৩.৫ ও এইচএসসিতে ৩.০ এবং বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এসএসসিতে ও এইচএসসিতে ৩.৫ যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।  

তারা বলেন, প্রতিবছর প্রায় দশ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পার করে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিট সংকুলান না হওয়ায় উচ্চ শিক্ষার জগতে প্রবেশের জন্য তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে সর্বাগ্রে থাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এই গ্রেড পয়েন্ট বৃদ্ধির মাধ্যমে আসে বিশাল অংশের শিক্ষার্থীর জন্য সেই দ্বারকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আবার একদিকে উচ্চশিক্ষায় পর্যাপ্ত আসন নেই অন্যদিকে জাতীয় বাজেটের খুবই নগন্য হারে বরাদ্দ দেওয়া হয় শিক্ষা খাতে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ২৫% দাবি থাকলেও তা প্রতিবছর ১২/১৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এটা সরকারের শিক্ষা সংকোচন নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।

তারা আরও বলেন, উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য এই পদক্ষেপ এমন কথা বলা হচ্ছে। অথচ শিক্ষা ব্যবস্থায় ধনী-গরীব, গ্রাম-শহর নারী-পুরুষ বৈষম্য চালু রেখে, পর্যাপ্ত মান সম্মত শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি না করে, বাণিজ্যিকীকরণ অব্যাহত রেখে শুধুমাত্র গ্রেড পয়েন্ট কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে এতগুলো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এটা মান ঠিক রাখার উদ্যোগ নয়, ছাঁটাই প্রক্রিয়া, যা ক্রমশ আরও আগ্রাসী হবে।  

এছাড়াও প্রতি বছর সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আগেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করে শিক্ষার্থীদের অবর্ণনীয় ভোগান্তির মধ্যে ফেলা হয় এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল অংশের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এই ধরণের ভর্তি বাণিজ্য ও মুনাফালোভী পদক্ষেপ বন্ধেরও আমরা দাবি জানাচ্ছি।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সরকারি ব্রজমোহন কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান রাকিবের সভাপতিত্ব বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিজন সিকদার, রেজওয়ান রেজা, মহানগর শাখার দফতর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সরকারি মহিলা কলেজের সংগঠক অদিতি ইসলাম, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ সরকারি বরিশাল কলেজ শাখার সংগঠক সিফাত আকন প্রমুখ।
 

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৮ ঘণ্টা, মে ২৮, ২০২২
এমএস/এসএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa