ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২১ মে ২০২৪, ১২ জিলকদ ১৪৪৫

শিক্ষা

বিলুপ্ত ছিটমহলে অগ্রাধিকার, নিয়মে এলো বিদ্যালয় স্থাপন

ইসমাইল হোসেন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০০৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬
বিলুপ্ত ছিটমহলে অগ্রাধিকার, নিয়মে এলো বিদ্যালয় স্থাপন

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বেসরকারি বিদ্যালয় স্থাপন নিয়মের মধ্যে নিয়ে এসেছে সরকার। শিক্ষার্থী ভর্তি, উত্তীর্ণ এবং শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয় স্থাপনে অনুমতি নিতে হবে।

ঢাকা: ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বেসরকারি বিদ্যালয় স্থাপন নিয়মের মধ্যে নিয়ে এসেছে সরকার। শিক্ষার্থী ভর্তি, উত্তীর্ণ এবং শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয় স্থাপনে অনুমতি নিতে হবে।

যত্রতত্র স্কুল স্থাপন বন্ধ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিলুপ্ত ছিটমহল ও অনগ্রসর এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপনে অগ্রাধিকার দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) বাংলানিউজকে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আসায় বেসরকারি বিদ্যালয় স্থাপনের নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

সম্প্রতি জারি করা এই নীতিমালার ফলে বিদ্যালয় স্থাপন একটি সিস্টেমের মধ্যে আসবে এবং এতে পড়ালেখার মান উন্নত হবে বলে মন্তব্য করেন অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল স্থাপনের পূর্বে উদ্যোক্তাদের প্রথমে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের উপর অঙ্গীকারনামা পূরণ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের (ডিপিইও) কাছের আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই বাছাই করে ২৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডিপিইও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের (বাপ্রাশিপই) মহাপরিচালকের কাছে পাঠাবেন।

ডিপিইও’র প্রস্তাব ৬০ দিনের মধ্যে বাপ্রাশিপই’র সহকারী পরিচালকের নিচে নয়, এমন একজন কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের স্থান পরিদর্শন ও কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মহাপরিচালকের কাছে দেবেন। এই কাজে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সহায়তা করবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রস্তাব পাঠাতে ব্যর্থ হলে ডিপিইও’র বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর ভিত্তিতে মহাপরিচালক অনুমতি বা প্রত্যাখানের প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে। এই প্রাথমিক অনুমতি ছাড়া ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো স্কুল স্থাপন কিংবা চালু করা যাবে না।

অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে প্রথম পর্যায়ে তিন বছর মেয়াদে পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হবে। এই প্রাথমিক অনুমতিকে পাঠদানের স্বীকৃতি বলে গণ্য করা যাবে না।

এই মেয়াদকালে কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ থেকে শিক্ষার প্রত্যাশিত মান অর্জনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্বীকৃত বা নিবন্ধন প্রাপ্তির জন্য প্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় একবার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করতে হবে। অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীর ন্যূনতম ৭৫ শতাংশকে সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ন্যূনতম ৭০ শতাংশকে উত্তীর্ণ হতে হবে।
 
তিন বছর মেয়াদে প্রাথমিক অনুমতির মেয়াদ শেষে সমাপনীর ফল, ভর্তির হার, উপস্থিতি ও বার্ষিক পরীক্ষায় অংশহগ্রহণকারীর সংখ্যা, আইটির ব্যবহার বিবেচনা করে পাঁচ বছরের জন্য অস্থায়ী স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে একই উপায়ে পাঁচ বছর অন্তর অস্থায়ী স্বীকৃতি নবায়ন করতে হবে। এই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সরকারি অংশের ব্যয় সরকারের উপর বর্তাবে না। প্রথমবার অস্থায়ী স্বীকৃতি দেওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষককে অবশ্যই পেশাগত প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
 
অস্থায়ী স্বীকৃতি পাওয়ার পর যে কোনো পর্যায়ে শর্তের ব্যতয় ঘটলে সরকার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী স্বীকৃতি স্থগিত বা প্রত্যাহার করতে পারবে।
 
ছিটমহল এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপনে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং ছিটমহলসহ অনগ্রসর এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষমতা মন্ত্রণালয় সংরক্ষণ করবে, নীতিমালায় বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৭ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬
এমআইএইচ/এমজেএফ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।