ঢাকা, শনিবার, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫ রজব ১৪৪৪

শিক্ষা

ফিরে দেখা-২০১৫

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইউটার্ন, ক্ষতি অবরোধে

ইসমাইল হোসেন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৪৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৫
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ইউটার্ন, ক্ষতি অবরোধে

ঢাকা: বিএনপির হরতাল-অবরোধে বছর শুরু হয়ে পুরো তিন মাস ক্লাস-পরীক্ষায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটলেও বিদায়ী বছর ২০১৫ সালের শেষদিকে শিক্ষাখাতে সুখবর হলো- এবার পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।

বছরের শুরুর ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ক্লাস-পরীক্ষায় মনোযোগী হয়ে বছরের শেষদিক বেতন ও মর্যাদার প্রশ্নে আন্দোলনে ছিলেন শিক্ষকরা।


চারটি পাবলিক পরীক্ষা ছাড়াও শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে ‘মডেল’ হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শিক্ষামন্ত্রী-শিক্ষাসচিবের ‘দূরত্ব’। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জেএসসি-জেডিসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নকলমুক্ত করে পরীক্ষা নিয়েছে।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীতেও এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সাফল্য দেখিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

হাঁস-ফাঁস প্রথম তিন মাস!
নতুন বছরে বই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন উদ্যমে ক্লাস শুরু হয়। ছেদ ঘটে ৫ জানুয়ারি, এদিন নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে জাতিকে হরতাল-অবরোধের ফাঁদে ফেলে দেয় বিএনপি-জামায়াত জোট।
 
নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ক্ষমতা ও বিরোধী দলের বাইরে থেকে এই বর্ষপূর্তির দিন সমাবেশ করতে না পেরে ৬ জানুয়ারি থেকে অবরোধ ডাকেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও জোট প্রধান খালেদা জিয়া।
 
বিএনপি জোটের হরতালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৬ দিনে ৩৬৮টি বিষয়ের সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব পরীক্ষা শুক্র ও শনিবার নেওয়া হয়। ক্ষতিটা কেমন তা পরীক্ষার ফলাফলেও প্রকাশ হয়েছে। ২০১৪ সালে পাসের হার ছিল ৯১.৩৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন। আর বিদায়ী বছরে পাসের হার কমে হয় ৮৭.০৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ এগারো হাজার ৯০১ জন।
 
পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি জোটের হরতাল-অবরোধের কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে পরীক্ষার ফলাললে।

দীর্ঘ তিন মাস হরতাল-অবরোধে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা। ৫ কোটি শিক্ষার্থীকে হরতাল-অবরোধে এসএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সূচি বদল ছাড়াও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধ ছিল ক্লাস। স্কুল-কলেজে ক্লাস হলেও নাশকতার ভয়ে উপস্থিতি কম। টানা হরতালে বোমাবাজি এবং পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা ও দগ্ধ করা করে আতঙ্কিত তুলেছিল শিক্ষার্থীদের।

প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি...
২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি, জেএসসি-জেডিসি এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যায়। এইচএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের একটি পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন করে নেওয়া হয়।
 
পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ অনেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সমালোচনার মুখে পড়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
 
এখন সে অবস্থা নেই। বিদায়ী বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কারিগরি, প্রশাসনিক ও কৌশলগত পদক্ষেপে প্রশ্নপত্র ফাঁস এড়িয়ে সুষ্ঠু পরিবেশে হয়েছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী, জেএসসি-জেডিসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা।
 
জনপ্রশাসন, শিক্ষা, তথ্য, মন্ত্রিপরিষদ ও আইসিটি বিভাগ, বিজি প্রেস, র‌্যাব-পুলিশ-গোয়েন্দা সংস্থা, বিটিআরসি, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে গঠিত জাতীয় মনিটরিং কমিটি এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ভূমিকা পালন করেছে।
 
এ কমিটি প্রশ্ন ছাপানোর স্থান বিজিপ্রেস ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একাধিক বৈঠক করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে তৎপরতা চালায়। ফেসবুক মনিটরিং, বিজিপ্রেসে কঠোর নজরদারি, কোচিং সেন্টারগুলো মনিটরিং এবং বিভাগীয় কমিশনার-ডিসি-এসপি-ইউএনও-ওসিকে শিক্ষা সচিবের ডিও লেটারও ভূমিকা রেখেছে।
 
প্রত্যেক শিক্ষাবোর্ডে পৃথক প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ প্রশ্ন ফাঁস এড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রী-সচিবের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।
 
মন্ত্রীকে না জানিয়ে একাধিক পরিপত্র ও নির্দেশনা জারি এবং একাদশ শ্রেণিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় সমালোচিত হন শিক্ষা সচিব।
 
শিক্ষামন্ত্রী বাধ্য হয়ে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানের ক্ষমতা খর্ব করে ২৬ অক্টোবর নির্দেশনা দেন। তাতে বলা হয়, মন্ত্রীকে না জানিয়ে কোনো আইন, বিধি, নীতিমালা, বদলির আদেশ প্রকাশ বা ওয়েবসাইটে দেওয়া যাবে না।
 
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাজার মেয়াদ চার বছর রেখে শিক্ষা আইনের খসড়ার ওপর মতামত নেওয়ার জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার পর সাজার মেয়াদ ‘কম’ থাকায় এ নিয়ে বিভিন্ন মহলের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এরপর নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। যদিও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
 
একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। একাদশ শ্রেণিতে পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ রেখে চতুর্থ ও শেষ মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর উত্তীর্ণ ১২ লাখ ৮২ হাজার ৬১৮ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেদন করে সমস্যায় পড়েন অনেকে।
 
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা সচিব এককভাবে অনলাইনে ভর্তির সিদ্ধান্ত দেন। ওই সময়ও শিক্ষামন্ত্রীকে না জানিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছিলেন মন্ত্রী।

এর আগে ক্লাসে উপস্থিতি ৭০ শতাংশ হলে টেস্ট পরীক্ষা না দেওয়াসহ বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন সচিব।
 
শিক্ষকদের আন্দোলনের বছর
অষ্টম বেতন কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিষয়ে নির্দেশনা না থাকায় সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসজুড়ে আন্দোলনে ছিলেন তারা।
 
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকেরা স্বতন্ত্র বেতন-কাঠামো এবং সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিল করায় সরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তারা বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও অষ্টম বেতন কাঠামোর গেজেটে শিক্ষকদের বিষয়ে নির্দেশনা নেই। আর এ বেতন কাঠামোতে নন-ক্যাডার পদের ৩ লাখ কর্মকর্তা নতুন করে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন।
 
এছাড়া প্রাথমিকের প্রায় দুই লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এমপিও’র দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। তারা মাসব্যাপী গণঅনশন কর্মসূচিও পালন করেছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে।

এলাকাভিত্তিক ভর্তি
চট্টগ্রাম মহানগরী ছাড়া ঢাকা মহানগরীসহ বিভাগীয় ও জেলা সদরের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০১৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করা হয়েছে। আগে শুধু ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের কিছু সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছিল।
 
বরাবরের মতো প্রথম শ্রেণিতে লটারি আর দ্বিতীয়-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা ও নবম শ্রেণিতে জেএসসি ও জেডিসি’র ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হচ্ছে।

রাজধানীর স্কুলগুলোকে এবার ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণ করে ৪০ শতাংশ এলাকা কোটা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে নীতিমালায়। নির্দিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে ৪০ শতাংশ কোটা।
 
শিক্ষক নিয়োগে নতুন নিয়ম
ব্যবস্থাপনা কমিটির ক্ষমতা খর্ব করে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা আপত্তি জানান। এ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতারও সুরাহা হয়নি।
 
‘লটারিতেই গণ্ডগোল’
ফাঁস ঠেকাতে কৌশলে প্রশ্নপত্র বিতরণ করে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১৪ সালে এইচএসসিতে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের ইংরেজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর এবার কৌশলে লটারির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। এতে পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়ায় প্রভাব পড়েছে। গত বছরের তুলনায় পাস কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। বছরের শুরুতে জ্বালাও-পোড়াও-আতঙ্কের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটাও অবশ্য খারাপ ফলের জন্য দায়ী।

বিদায়ী বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৬৯.৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ হাজার ৮৯৪ জন। ২০১৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৮. ৩৩ শতাংশ; ৭০ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
 
আটটি বোর্ডের ৩২ সেট প্রশ্নপত্রের মধ্যে নিজ নিজ বোর্ডের প্রশ্ন বাদ রেখে লটারি করে চার সেট নির্বাচন করা হয়েছে। কোন বোর্ডের প্রশ্ন কোথায় গেছে তা কেউই বলতে পারেননি।

৩৪তম বিসিএসে ‘জালিয়াতি’
সোনার হরিণ, বিসিএস ক্যাডার। সেই চাকরি নিয়ে অভিযোগের শেষ ছিল না ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে মনোনয়ন ছাড়াও কোটা মানা হয়নি। এ নিয়ে নন-ক্যাডারের প্রার্থীরা নিজেদের শরীরের রক্ত ছিটিয়ে আন্দোলন করেছেন।
 
গত ২৯ আগস্ট ৩৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৮৪ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৫৯ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে পিএসসি। পরবর্তীতে আরও ১৭ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। সব মিলিয়ে ২ হাজার ১৭৬ জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
 
নন-ক্যাডারের ৭৮ জনকে উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার এবং সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছে কমিশন।

গর্বে বাংলাদেশ...
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে ইউনেস্কোর দ্বিতীয় ক্যাটাগরির স্বীকৃতি এবং শিক্ষামন্ত্রীকে সংস্থার সহ সভাপতি নির্বাচিত করা বছরের শেষদিকের ভালো খবর।
 
গত ৭ নভেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কো’র সদর দফতরে সংস্থার ৩৮তম সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে ইউনেস্কো’র ক্যাটাগরি-২ ইনস্টিটিউটে উন্নীত করার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। ৪ নভেম্বর শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ সংস্থার সহ সভাপতি নির্বাচিত হন।

প্রথমবার অশান্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপের তিনমাস পর সেপ্টেম্বরে অশান্ত হয়ে ওঠে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
 
সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রথমবার বড় ধরনের আন্দোলনে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করে নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে শান্ত হয়ে আসে বেসরকারি শিক্ষাঙ্গন।
 
সেরা প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার
এসএসসি ও এইচএসসি’র মতো পাবলিক পরীক্ষায় প্রতি বছর সকল বোর্ডে সেরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হলেও ২০১৫ সাল থেকে সেই সুযোগ না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
 
সেরা হওয়ার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য অসাধু প্রক্রিয়ায় কিছু শিক্ষক নিজ নিজ শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেন বলে অভিযোগ ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।  
 
বাংলাদেশ সময়: ০৮৪৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৫
এমআইএইচ/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa