ঢাকা, রবিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৬ মে ২০২৪, ১৭ জিলকদ ১৪৪৫

অর্থনীতি-ব্যবসা

ফিরে দেখা-২০১৫

ঘুরে দাঁড়িয়েছে পোশাক শিল্প

ঊর্মি মাহবুব, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৩৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২১, ২০১৫
ঘুরে দাঁড়িয়েছে পোশাক শিল্প ফাইল ফটো

ঢাকা: অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে ২০১৫ সাল শুরু হলেও বছরের শেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পোশাক শিল্প।

বিদায়ী বছরের ৫ জানুয়ারি বিএনপির ডাকা অনির্দিষ্টকালের হরতাল-অবরোধের বিভীষিকাময় তাণ্ডবে বহির্বিশ্বে ইমেজ সঙ্কটে পড়েছিলো।

বছরের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে শেষভাগে এসে তার অনেকটাই কাটিয়ে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী ও বৈদেশিক মুদ্রা আহরণকারী এ শিল্প খাতটি।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুসারে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নিট পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। আয় হয়েছে ১২ হাজার ৪২৬ মিলিয়ন ডলার।

২০১৪-১৫ অর্থবছর শেষে ওভেন পোশাকে রফতানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ শতাংশ। একইসঙ্গে হোম টেক্সটাইলের রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ওভেন পোশাকে রফতানি হয়েছে ১৩ হাজার ৬৪ মিলিয়ন ডলার ও হোম টেক্সটাইলে রফতানি হয়েছে ৮০৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য।

এসবের ফলে ২০১৫ সালে রফতানিতে পোশাক শিল্প খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

অন্যদিকে গার্মেন্টস মালিকদের পুরো বছরটাই কারখানা পরীক্ষা-পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কেটেছে। দেশের তালিকাভুক্ত প্রায় সব কারখানা পরিদর্শন করেছেন অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স প্রতিনিধিরাও। কারখানাগুলোকে সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনাও (রেমিডিয়েশন প্লান) দিয়েছে অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স।

অ্যালায়েন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাহ রবিন জানান, বাংলাদেশের ৮৩৭টি কারখানা পরিদর্শন করেছে অ্যালায়েন্স। প্রতিটি কারখানাতেই ছোট-বড় নানা ধরনের ত্রুটি ছিলো। এসব ত্রুটি সমাধানে রেমিডিয়েশন প্লান দিয়েছে অ্যালায়েন্স। কারখানাগুলোর ছোট ও মাঝারি সমস্যার সমাধানে প্রায় ১৬শ’ কোটি টাকার প্রয়োজন।

তবে বড় ধরনের সমস্যার সমাধানে কারখানাগুলোর খরচ প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

তবে মালিকদেরকে ২০১৫ সালটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে পার করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি ও ইএবি’র সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘২০১৫ সালটি উদ্যোক্তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের বছর ছিলো। বছরের শুরুই হয় হরতাল-অবরোধ দিয়ে। আমাদের বেশিরভাগ পণ্য আকাশপথে পাঠাতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কারণ, ক্রেতাদের সময়মতো সাপ্লাই না দিলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে’।

‘অন্যদিকে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের পরিদর্শন চলমান ছিলো। তবে অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনের ফলে আমাদের কারখানাগুলো মানসম্মত হয়ে যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে আমাদের কারখানা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলতে পারবেন না’।

এ বছর রফতানির প্রবৃদ্ধিও পজিটিভই রয়েছে বলেও জানান আব্দুস সালাম মুর্শেদী।

অন্যদিকে ২০১৮ সালের জুলাই মাসের পর বাংলাদেশে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স আর থাকতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।  

বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সকে যে নির্দিষ্ট সময় পরিদর্শনের জন্য দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে একদিনও বাড়ানো হবে না। ২০১৮ সালেই অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সকে ‘খোদা হাফেজ’ বলা হবে।

২০১৫ সালে তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছাড়া তেমন উল্লেখযোগ্য শ্রমিক অসন্তোষ না থাকলেও সময়টা পোশাক শ্রমিকদের জন্য বেশ থমথমে কেটেছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রমিকনেত্রী নাজমা আক্তার।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ২০১৫ সালে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো শ্রমিক অসন্তোষ নেই বলে শ্রমিকরা ভালো আছেন, এটি ভাববার অবকাশ নেই। কারখানাগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন করাকে কেন্দ্র করে পুরো বছরটাই শ্রমিকদের মালিকপক্ষের চাপে থাকতে হয়েছে। তাছাড়া শ্রমিকদের ওপর চালানো চাপেরতো অভাব নেই।

তবে সব মিলিয়ে ২০১৫ সাল খুব একটা খারাপ যায়নি বলে স্বীকার করেন নাজমা আক্তার।  

বাংলাদেশ সময়: ০৮৪০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২১, ২০১৫
ইউএম/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।