ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২১ মে ২০২৪, ১২ জিলকদ ১৪৪৫

দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা

তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমে যোগ দিলেন ৩০০ মুসলিম

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০২৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩, ২০২৩
তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমে যোগ দিলেন ৩০০ মুসলিম

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক হওয়া কি স্রোতের উল্টোদিকে বইছে? কারণ, এতদিন দেখা গিয়েছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মানুষ শাসক দলে যাওয়ার হিরিক পড়তো। কিন্তু, রোববার (২ এপ্রিল) হলো উল্টোটা।

পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের পতাকা ছেড়ে সিপিআইএমের পতাকা তুলে নিলেন ৩০০ মুসলিম।

রোববার নদিয়া জেলার তেহট্ট থানার শ্যামনগরের গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য নুরজাহান বিবি ও তার স্বামী হাবিব শেখসহ ৬০ পরিবার তৃণমূল ছেড়ে সিপিআইএম- এ যোগ দিয়েছে।

নুরজাহান বলেছেন, তৃণমূল এখন দুর্নীতিগ্রস্ত দল। এই দলের হয়ে আর ভোট চাইতে যেতে পারবো না। আর বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে তৃণমূলের ক্ষমতা নেই লড়াই করার। সিপিআইএম-ই একমাত্র দল যারা এই লড়াই করতে পারে। তাই আমাদের গ্রামের ৩০০ জন এই দলে যোগ দিলাম।

শ্যামনগরের একটি পথসভায় দলে আসা মানুষদের হাতে, কাস্তে হাতুড়ি তারা আঁকা পতাকা তুলে দেন ওই অঞ্চলের সাবেক বিধায়ক তথা সিপিআইএম নেতা রঞ্জিত মন্ডল এবং এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুবোধ বিশ্বাসের হাতে।

এ যোগদান নিয়ে সুবোধ বিশ্বাস বলেছেন, মানুষ বুঝতে পেরেছেন যে সর্বসাধারণের জন্য কাজ করে একমাত্র সিপিআইএম। আর বিজেপি-তৃণমূল যে সেটিং তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। আগামী পঞ্চায়েত ভোটের আগে আরও মানুষ আমাদের দিকে ফিরবেন।

যদিও বিষয়টি নিয়ে পাত্তা দিতে নারাজ পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি এর ফলে দলের ক্ষতি হবে না। ওই অঞ্চলের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বিশ্বরূপের রায়ের কথায়, এসব ঘটনা একদমই গুরুত্বহীন। তবে বিস্তারিতভাবে খোঁজ নিয়ে দেখব।

সামনেই পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোট। তার আগে রাজ্যে সমস্ত রাজনৈতিক দল ঘর গোছাতে শুরু করেছে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের থেকে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোট সরে যাওয়ায় যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইঙ্গিত পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের কাছে অশনি সংকেত। রাজ্যের শাসক দলের একের এক পর এক দুর্নীতির সঙ্গে নাম জড়িয়ে ফেলা, বিশেষ করে মানুষের মধ্যে শিক্ষক দুর্নীতির প্রতিফলন পড়ছে।

গত ২ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘী বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল বড় ব্যবধানে হেরেছে বাম এবং কংগ্রেস জোটের কাছে। সেখানে জয়ী হয়েছিল বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস।

প্রসঙ্গত ৭২ সালের পর সাগরদিঘী থেকে কখনোই জেতেনি কংগ্রেস। এরপর তৃণমূল জামানার আগে সাগরদিঘী বামদুর্গ বলেই পরিচিত ছিল। ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত সাহা। তার মারা যাওয়ায় উপ-নির্বাচন হয়েছিল সাগরদিঘী বিধানসভা কেন্দ্রে।

তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সাগরদিঘির ৬৪ শতাংশ ভোটারই সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের। যে ভোট এতদিন শাসকদলের পক্ষে ছিল। সেই ভোট এবার পড়েছে বাম এবং কংগ্রেসের জোটের পক্ষে। আর তখন থেকেই ধারণা করা যাচ্ছিল জোটের এই মডেল আগামীতে দিশা দেখাতে পারে পঞ্চায়েত ভোটে। আর রোববার প্রায় ৩০০ জন শাসক দলের পতাকা ছেড়ে সিপিআইএমের পতাকা তুলে নিল।

যদিও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারেবারে অভিযোগ করে আসছেন বাম-কংগ্রেস এবং বিজেপি এক হয়ে তৃণমূলকে হারানোর চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন রায় চৌধুরী সম্প্রতি বলেছিলেন, তৃণমূল নেত্রীও অপরাজিত নন, তাকেও পরাজিত করা যেতে পারে। আর ওনাকে পরাজিত করবে ওনার দলের দুর্নীতি!

বাংলাদেশ সময়: ০০২০ ঘণ্টা, ০৩ মার্চ, ২০২৩
ভিএস/এমএইচএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।