ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৮ মে ২০২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৪৫

জলবায়ু ও পরিবেশ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৫৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান দক্ষিণ এশীয় দেশ সমুহে জলবায়ু অর্থায়ন এবং সুশাসন শীর্ষক সংলাপ

ঢাকা: বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ সমুহের ক্ষতিপূরণে অর্থায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে দক্ষিণ এশিয়াসহ সারা বিশ্বের নেতৃত্বকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহনের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।  
পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যেসব দেশ দায়ী হয়েও দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আদায় করছে না, তাদেরকে স্বচ্ছ জবাবদিহিতার আওতায় আনারও আহ্বান জানানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর)  সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে  দুই দিনব্যাপী আয়োজিত  'দক্ষিণ এশীয় দেশ সমুহে জলবায়ু অর্থায়ন এবং সুশাসন ' শীর্ষক আন্তর্জাতিক ২য় ঢাকা চলমান সংলাপের সমাপনী দিনে টিআইবির পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।  

সংলাপে বিশেষজ্ঞরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় জলবায়ু তহবিল প্রদান ও তার ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নাগরিক অংশগ্রহণ ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতে দক্ষিণ এশিয়ার সংশ্লিষ্ট সরকারী প্রতিনিধিদের জরুরি ভাবে সামষ্টিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

জলবায়ু সংক্রান্ত প্রকল্পসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে  উপ-মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (জ্যেষ্ঠ) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন,  সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জলবায়ু তহবিলের ওপর ছয়টি অডিট প্রতিবেদন আলোচিত হয়েছে এবং আরো কয়েকটি প্রকল্পের অডিট বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেহেতু দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো প্রশমন অপেক্ষা অভিযোজনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে, তাই এ অঞ্চলের স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রয়োজনসমূহ পূরণে এ অঞ্চলের সরকারসমূহের চলমান উন্নয়ন কর্মসূচির মূলধারায় অভিযোজনকে অবশ্যই সন্নিবেশিত করতে হবে।  

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্বাচার নিশ্চিতে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও এ খাতে তহবিল প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ উন্নত দেশসমূহের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে সকলকে আহ্বান জানান।  

 ডিএফআইডি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সুশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও সুশাসন বিষয়ক দলনেতা আইসলিন বেকার বলেন, জলবায়ু বিবর্তনের সংকট মোকাবেলায় বৈশ্বিক অঙ্গীকারের প্রতি যুক্তরাজ্য শ্রদ্ধাশীল হয়ে ২০১৬-২০২১ পর্যন্ত ৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে।  

এছাড়া বাংলাদেশের জলবায়ু তহবিলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাজ্য উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে উল্লেখ করে তিনি জলবায়ু অর্থায়নের স্বচ্ছতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৮-১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুরু হওয়া  ‘জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজন তহবিল ২: জলবায়ু অর্থায়ন ও সুশাসন বিষয়ে ইন্টেগ্রিটি ডায়ালগ’ শিরোনামে দুদিনব্যাপী এ সংলাপে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপ, নেদারল্যান্ডস্, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।  

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯
এএম/বিএস 
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।