ঢাকা, শনিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৫ মে ২০২৪, ১৬ জিলকদ ১৪৪৫

জলবায়ু ও পরিবেশ

কয়লায় নষ্ট লালাখাল

নাসির উদ্দিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭৪০ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৪, ২০১৪
কয়লায় নষ্ট লালাখাল ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সিলেট: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখালের অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করে পর্যটকদের। লালাখালের পান্না সবুজ জল ও মেঘালয় পাহাড় দেখতে প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক পর্যটক ভিড় করেন এখানে।

কিন্তু ক্রমশই লালাখাল তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অপরিকল্পিতভাবে সারি নদী ও এর একাধিক খাল থেকে ফের কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। এছাড়া সালফার পরীক্ষা ছাড়াই এখানকার উত্তোলিত কয়লা পুড়ানোর ফলে পরিবেশও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

সিলেটের অন্যতম সীমান্ত নদী সারি। মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা এ নদী জৈন্তাপুর দিয়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। নদীর একাধিক খালের মধ্যে লালাখাল পর্যটকদের আকর্ষণীয় একটি স্থান। এর উজানে ভারতের মেঘালয় পাহাড়।

সারি নদী থেকে কয়লা উত্তোলনে আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গত ১৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।

এতে বলা হয়, লালাখাল চা বাগানের পাশ দিয়ে প্রবাহিত সারি নদীর উৎসমুখ হতে ভাটির দিকে ৩ কিলোমিটার এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে খনিজদ্রব্য উত্তোলন ও আহরণে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তবে সম্প্রতি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফের কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানায় বেলা।

সরেজমিনে লালাখালে গিয়ে দেখা যায়, নদী থেকে কয়লা উত্তোলনের জন্য নিয়োজিত আছেন শতাধিক শ্রমিক। শ্রমিকদের প্রায় সকলেই সিলেটের বাইরের। স্থানীয় প্রভাবশালী বাসিন্দারা তাদের সিলেটে এনে কয়লা উত্তোলনের কাজে লাগিয়েছেন।

নদী খুঁড়ে কয়লা তুলে আনার পর নদীতেই তা বস্তাবন্দি করে ফেলা হচ্ছে। প্রশাসনের নজর এড়াতে চটের বস্তায় ঢুকিয়ে ইঞ্জিন নৌকায় করে উত্তোলিত কয়লা আনা হচ্ছে সারিঘাটে। সেখান থেকেই ট্রাকে করে ক্রেতারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কয়লা।

অভিযোগ আছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় নিজপাট ইউনিয়নেরই ১০/১২ জন প্রভাবশালী পুরো সারি নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে কয়লা উত্তোলন করছেন।

লালাখালে সারি নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে কয়লা উত্তোলনের ফলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে উল্লেখ করে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে বেলা। এই রিটের প্রেক্ষিতে এ বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সারি নদীর জিরো পয়েন্ট থেকে তিন কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত সব ধরনের খনিজ পদার্থ উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এই নিষেধাজ্ঞা জারির পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালানো হয়। এতে কিছুকাল বন্ধ ছিলো কয়লা উত্তোলন। তবে সম্প্রতি আবার কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। ফলে সারি নদীতে গর্ত সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে সৃষ্ট সারি নদীতে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে বালি ও পাথরের সঙ্গে কয়লাও নেমে আসে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমতে শুরু করলে নদীর তলার বালির মধ্যে আটকে থাকে কয়লা। তখন বালি খুঁড়ে কয়লা উত্তোলন শুরু করে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী।

কয়লা ব্যবসায়ীরা জানান, লালাখাল থেকে প্রতিদিন ৪০/৪৫ টন কয়লা উত্তোলন করা হয়। ভারত থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় চাহিদা বেড়েছে এখানকার কয়লার।

বেলা’র সিলেটের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, সারি নদীর লালাখাল এলাকা থেকে সব ধরনের খনিজ পদার্থ উত্তোলনে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খালেদুর রহমান বলেন, লালাখাল থেকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে শুনেছি।

‘তবে একেবারে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কয়লা উত্তোলন হওয়ায় সেখানে আমাদের তেমন কিছু করার নেই। ’

বাংলাদেশ সময়: ০৭৩৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৪, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।