ঢাকা, শনিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৮ মে ২০২৪, ০৯ জিলকদ ১৪৪৫

ব্যাংকিং

অর্ধেকের বেশি ব্যাংক কর্মকর্তা সাইবার নিরাপত্তায় অজ্ঞ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩০৭ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১৭
অর্ধেকের বেশি ব্যাংক কর্মকর্তা সাইবার নিরাপত্তায় অজ্ঞ গবেষণা প্রতিবেদন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিথিরা

ঢাকা: দেশের ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে ২৮ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা সামান্য ধারণাও রাখেন না। ২০ শতাংশ কর্মকর্তার এ ধারণা অতি সামান্য। মাত্র ২২ শতাংশ কর্মকর্তা কিছুটা ধারণা রাখেন।

তবে ৯০ শতাংশ কর্মকর্তা এটা জানেন যে, ব্যাংকগুলো সাইবার ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকি জানা সত্বেও বিষয়টি অবহেলা করছেন এমন কর্মকর্তার সংখ্যাই বেশি।

মঙ্গলবার (১৬ মে) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) অডিটরিয়ামে ‘ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা’ শীর্ষক কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরে বিআইবিএম।  

এতে বলা হয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে খুবই ভালো ধারণা রয়েছে এমন কর্মকর্তা মাত্র ৪ শতাংশ। ভালো ধারণা রয়েছে বলা চলে এমন সংখ্যা ১০ শতাংশ। আর মোটামুটি ধারণা রাখেন ১৬ শতাংশ কর্মকর্তা।  

দেশের ২১টি ব্যাংকের উপর এ জরিপ চালায় বিআইবিএম। যার মধ্যে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১৪টি, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ৪টি এবং বিদেশি ব্যাংক ৩টি।  

বিআইবিএমের প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ৯০ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন তারা অনুধাবন করতে পারেন, ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে।  

গবেষণায় ব্যাংকিং খাতে তথ্য নিরাপত্তার ঝুঁকির পেছনে কয়েকটি কারণ নির্দেশ করা হয়েছে। যার অন্যতমগুলো হচ্ছে- নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জ্ঞানের অভাব, বাইরের আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর ব্যাংকগুলোর অতি নির্ভরশীলতা, ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের অভাব, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকা এবং বাজেটের স্বল্পতা।

গ্রাহকদের অসচেতনতাকেও সাইবার ঝুঁকি বাড়ার কারণ হিসেবে এই গবেষণায় দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ৫৪ শতাংশ গ্রাহক সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা রাখেন না।
 
কর্মশালা ও প্রতিবেদন উপস্থান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, বিপুল অংকের অর্থ খরচ করার পরেও দেশের অনেক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী সাইবার নিরাপত্তার যথার্থ মানে পৌঁছাতে পারেনি। এ কারণে ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে গত কয়েক বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে জানিয়ে এস কে সুর চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর আইটি নিরাপত্তায় রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরও দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে।  
 
তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপর সাইবার হামলা প্রায়ই ঘটছে, যা বড় ধরনের ও জটিল। এটি আর্থিক খাতের পুরো ব্যবস্থাকে নষ্ট করে ফেলেছে। সাইবার অপরাধীরা বড় অংকের তহবিল হাতিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে এটিএম জালিয়াতির মতো ঘটনা ঘটছে।
 
বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, সাইবার ঝুঁকিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এ ধরনের একটি বড় ঝুঁকি ব্যাংকিং খাতে থাকলেও দক্ষকর্মীর অভাব রয়েছে। তাই ভারতের মতো আলাদা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ব্যাংকারদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এটি করতে না পারলে আরও ঝুঁকিতে পড়বে দেশের ব্যাংকিং খাত।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক দেবদুলাল রায় বলেন, সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে গাইডলাইনে বেশকিছু পরিবর্তন আনা হবে। আইটি নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
 
অধিকাংশ ব্যাংকে অ্যালার্ট ম্যাসেজ দেখলেও ঠেকানোর জন্য দক্ষ জনবল নেই বলে উল্লেখ করেন পূবালী ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ আলী।
 
বিআইবিএম এর মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  
 
এতে ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাজডাক টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজ আহমেদ।  
 
‘অ্যান এক্সপ্লোরেশন অব দ্য ডিজিটাল ব্যাংকিং রেভ্যুলুশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএম’র সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম।  
 
বাংলাদেশ সময়: ১৯০৮ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১৭
এসই/জেডএস/এমএমকে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।