ঢাকা, বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২২ মে ২০২৪, ১৩ জিলকদ ১৪৪৫

আওয়ামী লীগ

বিশেষ সভায় নেতারা এলেও এলেন না প্রার্থীই!

এম আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০১৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮
বিশেষ সভায় নেতারা এলেও এলেন না প্রার্থীই!

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ): মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সব নেতাই আছেন। বাদ যাননি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাও। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সহ-সভাপতিরাও নিয়েছেন অতিথির আসন। 

দলীয় বিশেষ বর্ধিত সভায় সবার টার্গেট এক এবং অভিন্ন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসন থেকে দল মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন মাদানীর জয় নিশ্চিত করা।

 

কিন্তু যার জন্য এতো আয়োজন, সেই প্রার্থীই এলেন না সভায়। নেতাকর্মীরা এই আচরণকে দেখলেন ‘অনাদর’ হিসেবে, আর ‘কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া’ বলে দেখলেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।  

এ নিয়ে সভাস্থল থেকেই শুরু হয় নানা কানাঘুষা। প্রার্থীর ‘অনুপস্থিতি’ দলীয় পরিমণ্ডলেও তুলেছে তোলপাড়। অবশ্য বাবা মাদানীর হয়ে সভায় ‘প্রক্সি’ দিয়েছেন ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাসান মাহমুদ!

শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ত্রিশালের নজরুল একাডেমির মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ এ বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। এই সভায় নিজের অনুপস্থিতির জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছেন মাওলানা রুহুল আমীন মাদানী।  

রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাংলানিউজকে তিনি বলেছেন, ‘একসঙ্গে বসে বর্ধিত সভার তারিখ, সময় নির্ধারণ করতে রেজা আলী সাহেবকে (সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক) বলেছিলাম। কিন্তু বর্ধিত সভার সময়ে ধানীখোলা ইউনিয়নে আমার নির্বাচনী জনসভা ছিলো। আমি সেটি নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তাই সভায় আসা হয়নি। ’ 

মাদানীর এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক সবুজ বাংলানিউজকে বলেন, ‘গত ১১ ডিসেম্বর মাদানী সাহেবকে বর্ধিত সভার চিঠি দিয়েছিলাম। তিনি থাকবেন বলেছিলেন। রেজা আলী সাহেবকেও তিনি বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) একই কথা দিয়েছিলেন। ’ 

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসন। দশটি সংসদ নির্বাচনে দুইবার করে আসনটিতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এবং ছয়বার আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। সপ্তম জাতীয় সংসদে আসনটিতে নির্বাচিত হন হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী।  

এরপর অষ্টম, নবম ও দশম জাতীয় সংসদে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হন তিনি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১৭ প্রত্যাশীকে পেছনে ফেলে আবারও তার ভাগ্যে জুটে মনোনয়ন নামের ‘সোনার হরিণ’।  

দলটির কিছু নেতাকর্মীর অভিযোগ, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কমিটি থাকলেও তাদের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা ছাড়াই ইউনিয়নে ইউনিয়নে নির্বাচনী জনসভা করছেন দলীয় প্রার্থী মাদানী।  

ধানীখোলা ইউনিয়নে জনসভার অজুহাতে তিনি বর্ধিত সভায় না এলেও ওই ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঠিকই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।  

ধানীখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, দলীয় প্রার্থী তাদের সঙ্গে কথা বলে ‘ক্যাম্পেইন’ না করলেও বর্ধিত সভার পর আমরা তার ঘোষিত জনসভায়ও যোগ দিয়েছি। যেহেতু এটি বর্ধিত সভা, এ কারণে অন্তত একবার সেখানে হাজিরা হলেও দেওয়া দরকার ছিল।  

এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা বাংলানিউজকে বলেন, আমি বর্ধিত সভায় দলীয় নেতা-কর্মীদের বলেছি প্রার্থী কে এটা বড় বিষয় নয়। সব মান-অভিমান ভুলে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।  

এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী বাংলানিউজকে বলেন, মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলের জন্য কাজ করছেন।  

আওয়ামী লীগের মতোই একইরকম অভিযোগ করে উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা বলছেন, মহাজোটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ময়মনসিংহ-৭ আসন থেকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ তিন দিন আগে সরে গিয়ে মাদানীকে সমর্থন জানান। কিন্তু এখন পর্যন্ত নেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দেখা পর্যন্ত করেননি মাদানী। অথচ প্রত্যাহার ঘোষণার রাতেই তিনি রওশন এরশাদের সঙ্গে দেখা করার সময় পর্যন্ত নিয়েছিলেন। আসনটিতে জাতীয় পার্টির নির্দিষ্ট ভোট রয়েছে। এই ভোট ব্যাংকের স্বার্থেই তার উদার হওয়া প্রয়োজন।  

অবশ্য এই বিষয়ে কোনো কথা বলেননি সাবেক সংসদ সদস্য মাদানী।  

বাংলাদেশ সময়: ১৯০৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮ 
এমএএএম/এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।