ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ৩০ মে ২০২৪, ২১ জিলকদ ১৪৪৫

আওয়ামী লীগ

‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন কোনোভাবেই ভোটারবিহীন নয়’

বাংলানিউজ টিম | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৬, ২০১৮
‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন কোনোভাবেই ভোটারবিহীন নয়’ বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

ঢাকা: বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো মতেই ভোটারবিহীন নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তিনি বলেছেন, ‘দেশের কিছু লোক আছে যারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ভোটারবিহীন বলার চেষ্টা করেন। ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

এ নির্বাচন কোনোমতেই ভোটারবিহীন নয়। ’

শনিবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘(বিএনপি চেয়ারপারসন) খালেদা জিয়া জ্বালাও-পোড়াও করে, আগুনে পুড়িয়ে শত শত মানুষ হত্যা করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছেন। বাধা উপেক্ষা করে জনগণ ভোট দিয়েছে। আর জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই আওয়ামী লীগ চার বছর ধরে ক্ষমতায়। ’

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কই ’৮৮ সালে এরশাদ তো ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে খালেদা জিয়া দেড় মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। জনগণের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ’

গণতন্ত্র নিয়ে বিএনপির বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি এখন কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলে। অনেকে বলে বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছে। তারা জনগণকে গণতন্ত্র দেয়নি। গণতন্ত্র দিয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার, আল বদর, বঙ্গবন্ধু খুনিদের। যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিলো, তাদের রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছে। ’

বিএনপির জন্ম ও জিয়াউর রহমানের ক্ষমতাগ্রহণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান কিভাবে ক্ষমতায় এসেছে? কোন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিএনপির জন্ম? অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রপতি সায়েমকে (আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম) অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে নিজেকে নিজে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি সায়েম সাহেব তাঁর লেখা বইতেই সবকিছু লেখে গেছেন। (পাকিস্তানি স্বৈরশাসক) আইয়ুব খানও এভাবে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিলো। তারই পদাংক অনুসরণ করে জিয়াউর রহমান ও এরশাদ নিজেদের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিলেন। ’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘খালেদা জিয়া ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সংসদে এনে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনি হুদা (মেজর বজলুল হুদা) যার ফাঁসি হয়েছে, সেই হুদাকে পর্যন্ত এমপি বানিয়ে সংসদে বসিয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী। ভোটারবিহীন নির্বাচন জিয়া-এরশাদ-খালেদারাই করেছেন। ’ 

খালেদা জিয়ার মানসিক সুস্থতা পরীক্ষা করার দরকার মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার মানসিক সমস্যা দেখা দিলো কি-না, সেটাও বলতে পারছি না। পরীক্ষা করে দেখা দরকার, তার মাথা ঠিক আছে কি-না। ’

পদ্মা সেতু নিয়ে খালেদা জিয়ার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি। খালেদা বলেছেন, পদ্মা সেতু নাকি জোড়াতালি দিয়ে করা হচ্ছে। তিনি মানুষকে পদ্মা সেতুতে উঠতে মানা করেছেন। আমরা দেখবো, খালেদা এবং বিএনপি নেতারা পদ্মা সেতুতে ওঠেন কি-না। ’

‘শেখ হাসিনার সরকারের কেনা ২টা সাবমেরিন উদ্বোধনের পরই ডুবে গেছে’- খালেদা জিয়ার এ মন্তব্যর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নৌবাহিনীর জন্য সাবমেরিন কিনেছি। খালেদা জিয়া বলেন, তা ফুটো হয়ে পানিতে ডুবে গেছে। কিন্তু সাবমেরিন যে পানিতে ডুবে থাকে, এ জ্ঞানটুকুও তার নেই। লুটপাট, অর্থ বানানো, ধ্বংস, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা, খুন-- খালেদা জিয়া এগুলোই কেবল বোঝেন, আর কিছু বোঝেন না। ’

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবার অর্থপাচার করেছে-- বিভিন্ন মিডিয়ার বরাত দিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সম্প্রতি আইনি নোটিশ পাঠায় বিএনপি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে কেবল আমরা বলছি না, আর্ন্তজাতিকভাবে তাদের দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে আওয়ামী লীগ ও দেশের জনগণকে দোষারোপ করে লাভ কী? ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেসব মিডিয়া তাদের দুর্নীতির খবর ছাপিয়েছে, যেসব দেশ এগুলো বের করেছে, তাদের কিছু বলে না। আমাকে নোটিশ পাঠায়। যদি সাহস থাকে, যেসব মিডিয়া বিদেশ টাকা পাচারের খবর ছাপিয়েছে, যেসব দেশ এগুলো বের করেছে, তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠাক। সৌদি আরবকে নোটিশ পাঠাক। ’

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা লুটপাট করে, মানুষ পুড়িয়ে মারে, দুর্নীতি করে, তারা ক্ষমতায় এলে দেশের কল্যাণ হবে না। স্বাধীনতার পর আটাশ বছর নষ্ট হয়েছে, আর একটি দিনও যেন নষ্ট না হয়। ’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের প্রায় সব সদস্যই উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৬, ২০১৮
এসকে/এমইউএম/এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।