ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মাঘ ১৪২৯, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০ রজব ১৪৪৪

আওয়ামী লীগ

মিয়ানমারের সঙ্গে সতর্ক আলোচনায় এগোতে চায় আ.লীগ

শামীম খান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৪৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৪, ২০১৭
মিয়ানমারের সঙ্গে সতর্ক আলোচনায় এগোতে চায় আ.লীগ রোহিঙ্গা ক্যাম্প (ফাইল ছবি)

ঢাকা: বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা সইকে (এমওইউ) রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার একটি ধাপের বড় ধরনের অগ্রগতি বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি এই অগ্রগতিকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিজয় বলেও আখ্যা দিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

তারা বলছেন, এই সমঝোতার ফলে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার কার্যক্রম বাস্তবায়নে যে ওয়ার্কিং গ্রুপ হবে তাতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা করে এগোতে হবে।  

বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা এমনটাই জানিয়েছেন।

 

দলীয় সূত্র বলছে, এমওইউ-এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমার মেনে নিয়েছে যে তাদের দেশের নাগরিকরা নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সমঝোতার ফলে যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি হবে তারাই একসঙ্গে বসে রোহিঙ্গাদের ফেরতের বিষয়ে পথ নির্দেশনা ঠিক করবেন। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বেশ কৌশলী ও সতর্কভাবে এগোতে হবে। কারণ সহজেই সবকিছু মেনে নেবে না মিয়ানমার।  

আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, গত ২৫ আগস্ট থেকে দমন-পীড়নের মধ্যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢল নামে। এ ঢলের মাত্র তিনমাসের মাথায় এ ধরনের একটি সমঝোতা সই বিশ্ব ইতিহাসে বেশ বড় দৃষ্টান্ত।  

তারা বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু বাংলাদেশের সঙ্গেই নয়। প্রতিবেশী ভারত, চীন, লাওস, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সঙ্গেও দেশটির এ সংকট রয়েছে।  

এছাড়া সাং, কারেন, কাচিনসহ প্রায় ১০/১২টি জাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে নানামুখী সমস্যা সৃষ্টি করে রেখেছে মিয়ানমার। এ কারণে আলোচনার প্রক্রিয়াটি সতর্কতার সঙ্গে চালাতে হবে বলে মনে করেন তারা।  

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘রিফিউজিদের ফিরিয়ে নিতে বিশ্বের কোথাও এতো তাড়াতাড়ি করণীয় নির্ধারণে সমঝোতা হয়নি। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বব্যাপী পরিচিতি ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিজয়। এই এমওইউ সইয়ের মধ্য দিয়ে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছে। এতে বাংলাদেশের বিজয় হয়েছে।

‘এখন সতর্কতার সঙ্গে ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিনিধিদের মিয়ানমারের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করতে হবে। কারণ মিয়ানমার নানামুখী কৌশল নিতে পারে। ’

বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর বৈঠকের পর দুই দেশ ওই সমঝোতায় সই করে।
 
আগামী দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতায় সই হয়।  

এ পর্যন্ত বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রায় ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন সময় আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।  

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে করা এই এমওইউ অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি। এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার বিজয় হয়েছে।   

বাংলাদেশ সময়: ০০৪৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০১৭
এসকে/এমএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa