bangla news

‘ব্যবসা করে টিকতে হলে মালয় মেয়েদের বিয়ে করতে হয়’

ইকরাম-উদ দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৭-১২-০৮ ৬:১৮:২৭ এএম
ছাত্রাবস্থায় মালয়েশিয়ায় আসেন বরিশালের উজ্জল। ছবি: দেলোয়ার হোসেন

ছাত্রাবস্থায় মালয়েশিয়ায় আসেন বরিশালের উজ্জল। ছবি: দেলোয়ার হোসেন

কুয়ালালামপুর (মালয়েশিয়া) থেকে: বসবাসের জন্য মালয়েশিয়া খুব পছন্দের জায়গা হলেও এখানে ব্যবসায়ীদের জন্য পর্যাপ্ত অনুকূল পরিবেশ নেই। বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীই দুই-তিন বছর পর চলে যায়। তবে যারা আদম ব্যবসায়ী অথবা স্থানীয়দের বিয়ে করেন তারাই টিকে থাকেন।

এভাবেই বলছিলেন মালয়েশিয়ায় প্রায় একযুগ ধরে বসবাসকারী মাইনুল হোসেন উজ্জল। সপরিবারে বুকিত বিনতাং এলাকায় থাকেন তিনি। 

ছাত্রাবস্থায় এখানে আসার পর ব্যবসা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। তবে এখনও মিলেনি বিজনেস ভিসা। ফলে স্থানীয় কাউকে নিয়েই চেষ্টা করে যাচ্ছেন ব্যবসায় এগিয়ে যাওয়ার, কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না।

আলাপচারিতায় বাংলানিউজকে উজ্জল বলেন, বৈধ উপায়ে এখানে (মালয়েশিয়া) ব্যবসা করার তেমন কোনো পথ নেই। তবে কোনো মালয় মেয়েকে বিয়ে করলে সব সহজ হয়ে যায়। মালয় কন্যারা আবার খরুচে স্বভাবের বাংলাদেশির দেখলে সহজেই দুর্বল হয়ে পড়ে। 

‘তবে বিয়ের পর এটা খু্ব বেশি যে অটুট থাকে তাও না। ফলে বিয়ে করেও অনেক বাংলাদেশির সব খোয়াতে হয়।’

তিনি জানান, মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী, বিজনেস ভিসা পেতে মালয় কোনো নাগরিককে অর্ধেকের বেশি শেয়ার দিতে হয়। এক্ষেত্রে অংশীদার প্রতারণা করলে সব শেষ।

সপরিবারে বুকিত বিনতাংয়ে বসবাস করেন উজ্জল।ছবি: দেলোয়ার হোসেন
মালয়েশিয়ার আইনে বলা হয়েছে, কেবল বিজনেস ভিসা সেই পাবে যার কোম্পানি আছে। তবে সেই কোম্পানির শতভাগ অংশ নিজের নামে করে কোনো বাংলাদেশি মালিক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। কোম্পানির মেয়াদ হতে হবে এক বছরের বেশি।  

এসব শর্ত পূরণ করে স্বভাবতই বিজনেস ভিসা পাওয়া যায় না এবং সফলও হওয়া যায় না। ফলে বেশিরভাগই বিনিয়োগ করে লোকসানের মুখে পড়ে সব গুটিয়ে চলে যান।

উজ্জল বলেন, বৈধভাবে এখানে ব্যবসা করা খুব কঠিন। তাই অন্য যতসব উপায় আছে অর্থাৎ যে যা পারেন, সেটাই খুঁজে নেন।

‘তবে এখানকার মালয় পার্টনাররা সবাই ঝামেলা করেন না। তবে কেউ কারো সঙ্গে করলে তার জন্য টিকে থাকা মুশকিল।’

তার ভাষ্যমতে, মালয়েশিয়ার অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশিদের অবদান অর্ধেক। তবু বাংলাদেশি শ্রমিকরা মালয় সরকারের তরফ থেকে সম্মান পান না। 

‘এ বিষয়টাকে বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কেননা, প্রবাসীরা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকে।’

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ছেলে উজ্জল এও বলেন, এদেশে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট রাখলে সেকেন্ড হোম হিসেবে থাকার অনুমতি পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে সবকিছুই সহজ হয়ে যায়। কিন্তু এ সামর্থ্য কয়জনেরই বা আছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৭
ইইউডি/এমএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

প্রবাসে বাংলাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2017-12-08 06:18:27