bangla news

হাসিনা-ক্যামেরন ছবি গুরুত্ব পাচ্ছে ব্রিটিশ মিডিয়ায়

সৈয়দ আনাস পাশা, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৬-০৫-২৭ ৭:৩৬:২৭ পিএম

ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করলে সেটা হবে সারা বিশ্বের 'প্রবৃদ্ধির জন্য ঝূঁকিপূর্ণ'। জাপানে সমবেত জি-৭ নেতৃবৃন্দ কনফারেন্সের শেষে এমনই একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

লন্ডন: ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করলে সেটা হবে সারা বিশ্বের 'প্রবৃদ্ধির জন্য ঝূঁকিপূর্ণ'। জাপানে সমবেত জি-৭ নেতৃবৃন্দ কনফারেন্সের শেষে এমনই একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

 

এর আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত আলোচনা চলাকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত থাকবে কি না এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ব্রিটিশ জনগণ নেবে। তবে তিনি মনে করেন, বিশ্ব যখন আরও একীভূত হওয়ার পক্ষে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন একটি কার্যকর জোট থেকে ব্রিটেনের সরে যাওয়া উচিত হবে না।
 
ক্যামেরনকে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে গেলে গোটা ইউরোপে বাংলাদেশি ডায়াসপোরাদের স্বার্থও ক্ষুন্ন হবে।


লন্ডনের জনপ্রিয় শীর্ষ সান্ধ্য দৈনিক ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড শেখ হাসিনা ও ডেভিড ক্যামেরনের কথোপকথনরত ছবি দিয়ে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছে। জি-৭ কনফারেন্সে ইইউ গণভোট বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের বক্তব্য নিয়ে দুটো রিপোর্ট করে ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড।

''ব্রেক্সিট উড 'রেক দ্যা ইকোনমি': ডেভিড ক্যামেরন কামস আউট ফাইটিং অন ইইউ ভোট''  এবং ''ক্যামেরন এপিল: লিসেন টু আওয়ার ফ্রেন্ডস, ইন জি-৭ অ্যান্ড ভোট টু স্টে'' দুটোতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনরত ছবি ব্যবহার করা হয়।

জি-৭ ভুক্ত সরকার প্রধানদের সঙ্গের ছবি ব্যবহার না করে শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করে ইইউতে থাকার পক্ষে ক্যামেরনের আহ্বানের খবর বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ব্রিটেনের ঘনিষ্ট সম্পর্কেরই ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ইইউ’তে থাকার পক্ষে আসন্ন গণভোটে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সমর্থন কামনা করে চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে ব্রিটেনের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ বিষয়ক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হুগো সুয়ায়েরের আহ্বানের পর শুক্রবার জাপানে জি-৭ সম্মলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে পরামর্শ চাওয়াকে গুরুত্বের চোখে দেখছেন অনেকে।
 
আর এ কারণেই ব্রিটেন, আমেরিকা, জাপান, জার্মানী, ফ্রান্স, ইতালী ও কানাডা জি-৭ সদস্যভুক্ত রাষ্ট্র হলেও সেইসব দেশের নেতাদের ছবি না দিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ায় শেখ হাসিনার সঙ্গে কথপোকথনরত ছবি ব্যবহার করে ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ডে ক্যামরনের মন্তব্য 'লিসেন টু আওয়ার ফ্রেন্ডস' শীরোনামের খবর প্রকাশে লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বেশ আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে একান্ত বৈঠক হয় শেখ হাসিনার। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান, আলোচনার শুরুতেই বাংলাদেশের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিস্ময় প্রকাশ করেন ডেভিড ক্যামেরন। তিনি জানতে চান, অব্যাহত এ অর্জন কীভাবে সম্ভব হলো?

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ প্রবৃদ্ধি একবারে ৬ থেকে ৭ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশ দীর্ঘ দিন টানা ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এরপর এক-দুই পয়েন্ট করে ধাপে ধাপে এগিয়ে তবেই ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিনিয়োগ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয় বৈঠকে। বাংলাদেশি ডায়াসপোরারাও এখন বড় অংকের বিনিয়োগ করছে বলে এতে উঠে আসে। আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তখন আগ্রহ প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ যে অব্যাহত উন্নয়ন করে যাচ্ছে, এ উন্নয়ন গল্পে অংশ হতে চায় তার দেশ।

বাংলাদেশ সময়: ০৫২৮ ঘণ্টা, মে ২৮, ২০১৬
আরএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

প্রবাসে বাংলাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Alexa
cache_14 2016-05-27 19:36:27