bangla news
‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ নিয়ে বিভ্রান্তি

রেড ডট’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ!

3726 |
আপডেট: ২০১৫-০৬-২৩ ১০:৩৭:০০ পিএম
‘বিউটিফুল বাংলাদেশ- স্কুল অব লাইফ-এর শ্যুটিং

‘বিউটিফুল বাংলাদেশ- স্কুল অব লাইফ-এর শ্যুটিং

১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, ট্যুরিজম বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ‘ফিল্মিএট’। এ উৎসবে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত তথ্যচিত্র ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ- স্কুল অব লাইফ-এর পরিচালক হিসেবে মঈনুল হোসেন মুকুলের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়।

লন্ডন: ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, ট্যুরিজম বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ‘ফিল্মিএট’।

এ উৎসবে  অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত  তথ্যচিত্র ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ- স্কুল অব লাইফ-এর পরিচালক হিসেবে মঈনুল হোসেন মুকুলের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়।
 
কিন্তু ঢাকার ‘রেড ডট প্রোডাকশন লিমিটেড’ দাবি করেছে, এই তথ্যচিত্রটি তাদের নির্মিত।

তবে তাদের এ দাবিকে ‘অসত্য’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করে ‘রেড ডট’-এর বিরুদ্ধেই প্রতারণার অভিযোগ উত্থাপন করেছেন প্রবাসী তথ্যচিত্র পরিচালক মঈনুল হোসেন মুকুল।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যচিত্র ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ নিয়ে মিথ্যাচার ও তাকে ‘নির্মাতা সহযোগী’ হিসেবে উল্লেখ করায় ‘রেড ডট’-এর তীব্র প্রতিবাদ করেন মঈনুল হোসেন মুকুল।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, অ্যাওয়ার্ডটি গ্রহণ করতে গিয়ে আমি কোনো মিথ্যাচার করিনি। বরং এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের মাধ্যমে প্রতারণার মুখোশ উন্মোচন করেছি আমি।

১০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ- স্কুল অব লাইফ’-এর পরিচালক হিসেবে নিজেকে দাবি করে মঈনুল হোসেন মুকুল বলেন, ‘রেড ডট’ এই তথ্যচিত্রটি তৈরির দায়িত্ব দেয় আমাকে এবং আমিই এটি পরিচালনা করি।

বক্তব্যের সপক্ষে তিনি কিছু প্রমাণাদিও দাখিল করেন বাংলানিউজের কাছে।

তিনি বলেন, ২০১১ সালে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং আইসিসির তত্ত্বাবধানে ‘স্কুল অব লাইফ’ সিরিজের দুটি তথ্যচিত্র বানানো হয়। কাজটি ‘গ্রে বিজ্ঞাপনী সংস্থা’র মাধ্যমে ‘রেড ডট প্রোডাকশন’ হাউস পায়।

সাড়ে ৩ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণের দায়িত্ব নেন গাজী আহমেদ শুভ্র এবং ১০ মিনিটের তথ্যচিত্রটি বানানোর দায়িত্ব ‘রেড ডট’ থেকে আমাকে দেওয়া হয়।

ছবির প্রোডাকশন চলাকালে তোলা কয়েকশ স্থিরচিত্র দেখেও তথ্যচিত্রটির নির্মাতা চিহ্নিত করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

কোন উদ্দেশ্যে ‘রেড ডট’ একজন ব্যক্তির স্বার্থে তার এই অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, প্রশ্ন রাখেন মঈনুল হোসেন মুকুল।

মঈনুল হোসেনের দাবি, সফলভাবে তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করায় ‘রেড ডট’-এর একজন পরিচালক জিয়াউল পাইকার জুয়েল স্বাক্ষরিত একটি থ্যাংকস লেটারও দেওয়া হয় তাকে।

এ লেটারটির একটি কপিও তিনি বাংলানিউজকে দেখান।

তিনি বলেন, সম্ভবত বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ দুটি তথ্যচিত্রই বিভিন্ন দেশের ট্যুরিজম ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জমা দেয়।

তার অভিযোগ, দুটো তথ্যচিত্রের মধ্যে তার নির্মিত ১০ মিনিটের ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ-স্কুল অফ লাইফ’ দুটো আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অ্যাওয়ার্ড পেলেও তা গাজী শুভ্র তার নির্মিত বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে জানান।

তিনি বলেন, আমি জানতাম গাজী শুভ্র নির্মিত অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত তথ্যচিত্রটি ৩ মিনিটের।

বক্তব্যের সপক্ষে বলতে গিয়ে পরিচালক মঈনুল হোসেন মুকুল বলেন, জাগরেব ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ২০১২ সালের অ্যাওয়ার্ড লিস্টেও আমার নাম আছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড সাড়ে ৩ মিনিটের তথ্যচিত্রটি পুরস্কার পেয়েছে ভেবে গাজী আহমেদ শুভ্রকে নির্মাতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।

এ বিষয়ে প্রকৃত সত্য জানতে ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ তথ্যচিত্রের অভিনেত্রী ভিকি কার্টারকে জিজ্ঞাসা করারও পরামর্শ দেন মঈনুল হোসেন মুকুল।

তিনি বলেন, ভিকিকে জিজ্ঞাসা করলেই জানা যাবে, কার পরিচালনায় তিনি কাজ করেছেন।
   
প্রসঙ্গত, ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ মূল অ্যাওয়ার্ডটি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পায় ২০১২ সালে। অ্যাওয়ার্ড প্রদানের অনেক পর তথ্যচিত্রটির নির্মাতা হিসেবে মইনুল হোসেন মুকুলকে আবিষ্কার করে ‘ফিল্মএট’।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ১০ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি রেড ডট প্রোডাকশনের অধীনে নির্মাণ করেছেন নির্মাতা মঈনুল হোসেন মুকুল।

১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) স্থানীয় সময় রাত ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা) ওয়ারশ’র প্রেস্টিজিয়াস হোটেল ‘বৃস্টল’-এ এক আড়ম্বরপূর্ণ গালা ডিনারে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।
  
বিশ্বের মোট ৩৫টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পক্ষে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন পোল্যান্ডে দায়িত্বরত বাংলাদেশের অনারারি কনসাল মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবংমঈনুল হোসেন মুকুল অ্যাওয়ার্ড গ্রহন করেন ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ-স্কুল অব লাইফ’ (১০ মিনিট)-এর নির্মাতা  হিসেবে একটি ও  টিভিএন২৪-এর  পক্ষে ইউরোপ ডিরেক্টর  হিসেবে আরেকটি।

টিভিএন২৪ অ্যাওয়ার্ড পায় পর্যটন শিল্পকে প্রমোট করার জন্য।

বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশ ফিল্মএট ফেস্টিভ্যালে অ্যাওয়ার্ড পেলেও বাংলাদেশের অ্যাওয়ার্ডই ছিল সবচেয়ে আলোচিত।
 
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সব মিউজিক পেছনে ফেলে বাংলাদেশ সেরা মিউজিক অ্যাওয়ার্ড ছিনিয়ে নেওয়ায় প্রতিযোগীদের মধ্যে এ নিয়ে ছিল বেশ আলোচনা।



বাংলাদেশ সময়: ০৮৩৫ ঘণ্টা, জুন ২৪, ২০১৫/আপডেটেড: ০৯৪০ ঘণ্টা/আপডেটেড: ১৫০৫ ঘণ্টা/আপডেটেড: ১৬৪৫ ঘণ্টা
এসইউ/এবি

** দেখুন নদীমাতৃক ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ (ভিডিও)
** বাংলাদেশ এখন বিশ্ব ট্যুরফিল্মেরও অনুপ্রেরণা
** ট্যুরিজম ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ৫ অ্যাওয়ার্ড
** ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছে

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2015-06-23 22:37:00