ঢাকা, সোমবার, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৩ আগস্ট ২০২০, ১২ জিলহজ ১৪৪১

প্রবাসে বাংলাদেশ

সাগর-রুনি হত্যা: জার্মানিতে বাঙালি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

জার্মানি থেকে | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১২-০৪-০৮ ১০:৩৩:২৩ পিএম
সাগর-রুনি হত্যা: জার্মানিতে বাঙালি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

ম্যুনশেন গ্লাডবাখ, জার্মানি: সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবাদের গণমাধ্যমকর্মীদের কর্মসূচি প্রতাহারে সমালোচনা করে জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা বলেছেন, গণমাধ্যম থেকে যেন এ বিষয়টি হারিয়ে না যায়। আর গণমাধ্যম যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করলে বিকল্প মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও কর্মসূচির প্রচারণা অব্যাহত রাখা হবে।



রোববার জার্মানির ম্যুনশেন গ্লাডবাখে বাংলাদেশ থেকে আগত শির্ক্ষাথীদের এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলা হয়। ৮ এপ্রিল বাংলাদেশে গণমাধ্যম কর্মীদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে গণমাধ্যম কর্মীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা করায় হতাশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থী রাশেদুল আলম বলেন, ‘‘দেশের প্রশাসন জানুক প্রতিবাদ করার জন্য মানুষ আছে। সবাই নিশ্চুপ হয়ে যায়নি। প্রচলিত গণমাধ্যম যাই ভূমিকা পালন করুক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচারনা চালিয়ে নিতে হবে”।

শিক্ষার্থী আসিফ হায়দায় বলেন, “আমাদের দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে বলে মনে হয় না। সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের যদি বিচার না হয়- তাহলে দেশে কথা বলার মানুষ হারিয়ে যাবে। আর কেউই সাহস করে কথা বলবে না। দেশ কি কোনও সরকার পরিচালনা করে? এখনও কেন বিচারের কোনও খবর পাই না”।

ভারতীয় শিক্ষার্থী কালপেশ জৈন বলেন, ‘‘আমি এর আগে এ ধরনের কোনও কর্মসূচিতে অংশ নেইনি। কিন্তু আজ মানবিক দিক চিস্তা করে এ কর্মসূচিতে এসেছি। আমাদের দেশ ভিন্ন হতে পারে। আমাদের দু দেশের মধ্যে অনেক সমস্যাই থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের দাবি এক। আমরা প্রতিটি দেশের মানুষের নিরাপত্তা চাই। ”
 
সৌরভ মাহমুদ বলেন, ‘‘আমার বাবা একজন সাংবাদিক। আমার বাবা-মার ক্ষেত্রেও কি একই ঘটনা ঘটতে পারতো। আমার ছোটবোনের পরিনতিও কি মেঘের মতো হতে পারে”।

আসিফ রহমান বলেন, ‘‘আজকে স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে মনে হয় আমাদের দেশে কি আসলেই স্বাধীনতা আছে। যে দেশে দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললে মেরে ফেলা হয় সেদেশের স্বাধীনতা বা বাক স্বাধীনতা আদৌ আছে কিনা সেটি প্রশ্নের বিষয়”।

জাহেদুল আলম, “আমরা মনে করি শক্তিশালী কোনও চক্র এর সঙ্গে জড়িত। যেন তেন লোকের পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব না। ”

তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর আচরণে হতাশ। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের কথা কেউই আশা করে না। আমরা বেড রুমে নিরাপত্তা চাই। দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা চাই। ”

রাশেদুল আলম বলেন, ‘‘ঢাকায় সাংবাদিকদের চাচক্রে আমন্ত্রণ করেছেন। এর পর থেকে গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিলেন। আমার মনে হয় এটি চাচক্র নয়। এটি চা-চক্র। এখানে কোনও চক্র জড়িত আছে। কর্মসূচি প্রত্যাহারের পিছনে কোনও কারণ আছে। ”

বাংলাদেশ সময় ২২১৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৮, ২০১২

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa