ঢাকা, বুধবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭ শাবান ১৪৪৫

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

দেশের পোশাক কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করবে হুয়াওয়ে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৩৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ৩০, ২০২২
দেশের পোশাক কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করবে হুয়াওয়ে

ঢাকা: দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং সবুজায়নের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পোশাক কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আইসিটি অবকাঠামো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। এ লক্ষ্যে পোশাক শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বিজিএমইএর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে তারা।

জীবাশ্ম জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব এখন একটি অস্থির সময় পার করছে। এমন প্রেক্ষপটে বাংলাদেশকে সবুজায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিকল্প শক্তির উৎসের দিকে অগ্রসর হওয়া এবং সৌর প্যানেলের মতো সবুজ শক্তির বিকল্পগুলোতে মনোযোগ দেওয়া অতীতের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করে বিজিএমইএ। বিষয়টি উপলব্ধি করে তারা সবুজ জ্বালানির উৎসগুলো খুঁজে বের করার জন্য হুয়াওয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এবং হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লি. এর সিইও প্যান জুনফেং  রোববার (৩০ অক্টোবর) ঢাকায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তির অধীনে, হুয়াওয়ে এবং বিজিএমইএ পোশাক কারখানাগুলোকে শক্তির সবুজ উৎসের দিকে স্থানান্তরিত করে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরিতে’ পরিণত করতে একসঙ্গে কাজ করবে ।

ওপেক্স এবং ক্যাপেক্স নামক দু’টি মডিউল অনুসরণ করে হুয়াওয়ে বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত কারখানাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করবে। ওপেক্স মডিউলে কারখানার মালিকরা গ্রিড বিদ্যুতের চেয়েও কম শুল্কহার ভোগ করতে পারবেন। অন্যদিকে, ক্যাপেক্স মডিউল (১) এর অধীনে, কারখানার মালিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ পরিশোধের চুক্তি করবেন। অর্থ পরিশোধ সম্পন্ন হওয়ার পর, সোলার প্যানেল সিস্টেমের অধিকারী হবেন কারখানার মালিক।

এছাড়া আরও একটি ব্যবস্থা থাকবে (ক্যাপেক্স মডিউল ২), যেখানে কারখানার মালিকরা ছাদে সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য নিজেরাই বিনিয়োগ করবেন এবং সৌর শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় করতে পারবেন।

উভয় ক্ষেত্রেই, বিজিএমইএ প্রক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে এবং হুয়াওয়ে ও কারখানার মধ্যে যোগাযোগের বন্ধন হিসেবে কাজ করবে।

এদিকে, এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে হুয়াওয়ে এবং বিজিএমইএ পোশাক শিল্পে ২ গিগাওয়াটের বেশি সোলার রুফটপ সিস্টেম স্থাপন করার সুযোগ পাবে, যা প্রতি বছর আনুমানিক ২৬০০ গিগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

এরফলে, গ্রিড বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে এবং চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশকে সাহায্য করবে। এ পদ্ধতি  কারখানাগুলোকে বছরে ১.৪০ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে, যা প্রায় ২.১৪ মিলিয়ন গাছ লাগানোর সমান। এ ধরনের উদ্যোগ শিল্পকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা অনেকাংশে হ্রাস এবং একই সঙ্গে, কারখানাগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে অর্থ সাশ্রয়ে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, পোশাক শিল্পক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে শক্তির সঠিক ব্যবহার, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস নির্ধারণ এবং কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাস করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। তাই নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং শক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্মার্ট প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এই শিল্পের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলো এই শিল্পের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে অর্থের অভাবে তারা প্রায়শই নবায়নযোগ্য  শক্তিতে বিনিয়োগ করতে দ্বিধাবোধ করে। তবে, বিশ্বজুড়ে বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে বলা যায়, পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদনের ক্ষেত্রে কার্বন পদচিহ্ন হ্রাস করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

এ ক্ষেত্রে, ওপেক্স মডেল তাদের জন্য একটি আদর্শ মডেল হতে পারে। ক্যাপেক্স মডেলের মাধ্যমে কারখানাগুলো তাদের ছাদের অব্যবহৃত অংশ ব্যবহার করে সবুজ এবং নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন করতে পারবে এবং নিঃসৃত কার্বনের পরিমাণ কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লি. এর সিইও প্যান জুনফেং বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাকখাত বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করছে, যার ফলে পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়ছে। এর একটি সমাধান হিসাবে, সবুজ সমাধানের (সৌরশক্তি) মাধ্যমে আরও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে হুয়াওয়ে বিজিএমইএর সঙ্গে কাজ করছে। সর্বোপরি, এটি জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ হ্রাস এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সবুজ কারখানায় পরিণত হতে সাহায্য করবে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, পরিচালক হারুন অর রশিদ, পরিচালক নীলা হোসনে আরা, স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রেস, পাবলিকেশন অ্যান্ড পাবলিসিটির চেয়ারম্যান শোভন ইসলাম, স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ইউডি-ওভেন অ্যান্ড নিটের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম এবং বিজিএমইএর সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩২ ঘণ্টা, ৩০ অক্টোবর, ২০২২
এমকে/এমএমজেড

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।