bangla news

নয়া কৌশলে এগুচ্ছে জামায়াত

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-০৯-২১ ৭:২৫:১২ এএম

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অস্তিত্ব রক্ষায় নানামুখী কৌশল নিয়েছে জামায়াত। তাদের নয়া কৌশলে আইনী লড়াই ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মতো কর্মসূচি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কুটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি,....

ঢাকা: পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অস্তিত্ব রক্ষায় নানামুখী কৌশল নিয়েছে জামায়াত। তাদের নয়া কৌশলে আইনী লড়াই ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মতো কর্মসূচি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে কুটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি, বিদেশে সরকারবিরোধী প্রচারণা, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হুমকি তৈরি ও বিদেশী চাপে সরকারকে প্রভাবিত করার কৌশল। এছাড়া জামায়াতের একটি চৌকস দল খোদ ক্ষমতাসীনদেরই একটি শক্তিশালী গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

গোয়েন্দা সূত্রমতে, মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তদন্ত শুরুর পর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মধ্যপ্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছে জামায়াত। বাংলাদেশে বসে জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আজমও বিদেশে জোর লবিং চালাচ্ছেন।

লন্ডনে শিবিরের বেশ কয়েকজন সাবেক নেতা সরকারবিরোধী প্রচারণায় তৎপর রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে এক সময়ের শিবির নেতা ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান, চৌধুরী মইনউদ্দীন ও কামাল শিকদারসহ শতাধিক সাবেক শিবির নেতা রয়েছেন।

নিউইর্য়কসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছেন শিবিরের সাবেক নেতা শাহিনুর আলম, আরিফুর হামিদ, অধ্যাপক নাজিমসহ বেশ ক’জন জামায়াত সমর্থক।

তারা বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগ বিরোধী বক্তব্য তুলে ধরছেন। তারা বলছেন, হত্যা-খুন-মিথ্যা মামলাসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর নির্বিচারে নির্যাতন চালাচ্ছে  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তারা ধর্মান্ধতার দোহাই দিয়ে জামায়াতকে রাজনীতি করতে দিচ্ছে না। একের পর এক নেতাকর্মীকে ধরে জেলে পুরছে। সাজাচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধের মিথ্যা নাটক।

প্রচারণায় তারা আরও বলছেন, ক্ষমতাসীনরাই এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের নানা নজির তৈরি করছেন। সরকার আশ্রিত ক্যাডাররা একে অপরকে খুন করছেন, প্রয়োজনে গুম করছেন। নেতাদের মনোরঞ্জনের জন্য তুলে নিয়ে যাচ্ছেন কলেজের মেয়েদের।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসহ বাংলাদেশের শ্রমবাজার আছে এমন সব দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন জামায়াত নেতারা। তারা চেষ্টা করছেন আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নষ্ট করার হুমকি দিয়ে সরকারকে চাপে রাখতে। এভাবে বিদেশি চাপে বিভিন্ন মামলায় আটক জামায়াত নেতাদের মুক্তি ও সব ধরণের মামলা থেকে রেহাই পাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য।

এছাড়া দলটির বেশ কয়েকজন চৌকস নেতা ঢাকাস্থ বিদেশী দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এসব দূতাবাসে মিথ্যা মামলা, বানোয়াট অভিযোগ ও অসত্য তথ্য দিয়ে জামায়াত নেতাদের হয়রানি ও দলটিকে নিষিদ্ধ করার পাঁয়তারা চলছে বলে বোঝানো হচ্ছে।

এদিকে জামায়াতের একটি দল খোদ সরকারেরই একটি শক্তিশালী গ্রুপের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। এ প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জামায়াত নেতা মীর কাসেম।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে টিকে থাকার কৌশল নিয়ে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ গত রোববার রাতেও তারা এমন একটি বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এটিএম আজহারুল ইসলাম, হামিদুর রহমান আজাদ ও অধ্যাপক তাসনীম আলমসহ আরও ক’জন জ্যেষ্ঠ জামায়াত নেতা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আগামী দিনগুলোতে সম্ভাব্য আন্দোলন কর্মসূচি, আইনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন,
‘আমরা কখনো কোনো খারাপ কাজ করিনি, আগামীতেও করার কোনো কারণ নেই। তাই আমাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব মিথ্যা অভিযোগ ও সরকারের অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিবাদ প্রথমে আমরা গণতান্ত্রিক পন্থায়ই করবো। আমরা মনে করি, সরকার আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার থেকে বিরত থাকবেন। সরকার তা না করলে আমাদের কর্মসূচিও কঠিন হতে থাকবে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনও পাব বলে আশা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীনদের ক্যাডাররা তো এখন নিজেরাই কামড়াকামড়ি শুরু করেছেন। সরকার আশ্রিত ক্যাডাররের হাতে এখন খুন হচ্ছেন সরকারি মদদপুষ্ট অন্য ক্যাডাররা। তারা ইডেন কলেজের মেয়েদের আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসায় পাঠাচ্ছেন মনোরঞ্জণের জন্য। এসব কি মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়?’

ঢাকা মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির হামিদুর রহমান আযাদ এমপি বাংলানিউজকে বলেন, ‘জামায়াত একটি বড় রাজনৈতিক দল। আমরা সব সমস্যা রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করবো। আমাদের নেতাদের জন্য আমরা আইনের লড়াই চালিয়ে যাবো।’
 
জামায়াতের প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক তসনীম আলম বাংলানিউজকে বলেন, ‘সত্য কখনও মিথ্যা হয় না। যা হচ্ছে সবই মিথ্যার উপর ভর করে। কিন্তু মিথ্যা অযুহাতে কাউকে কষ্ট দিলে বা নির্যাতন করলে তার জবাব সাধারণ মানুষই দেবে। আমরা গণতান্ত্রিক ও আইনী পন্থায় এগুচ্ছি। এতেই আমাদের জয় হব।’

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-09-21 07:25:12