ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মাঘ ১৪২৯, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০ রজব ১৪৪৪

রাজনীতি

আ.লীগই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে: ফখরুল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭২৮ ঘণ্টা, আগস্ট ২৫, ২০২১
আ.লীগই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে: ফখরুল

ঢাকা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন,  আওয়ামী লীগ মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে তারা কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেনি। এই দলটি সারাক্ষণ মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে তারাই সবচেয়ে বেশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে।



বুধবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শেরে বাংলা নগরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিলো সেই আশা-আকাঙ্ক্ষাকে আওয়ামী লীগ ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিলাম, সংগ্রাম করেছিলাম তাকে তারা হরণ করেছে, ধ্বংস করেছে এবং লুটে নিয়ে গেছে। ১৯৭২ সালে যে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিলো সেই সংবিধানকে তারা কেটে-ছিড়ে তছনছ করে দিয়েছে। ছদ্মবেশি একটা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। এই দলটি ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলো, আবারও ছদ্মবেশী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগের হাতে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ গেছে। এখনো তারা সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান বীর উত্তম সাহেবের নামে তারা মিথ্যাচার করছে, অপপ্রচার করছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং মুক্তিযুদ্ধের সব আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করছে। আমরা আজকে আহ্বান জানাচ্ছি যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস না করে সত্যিকার অর্থেই দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করুন। সেজন্যে অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায়, নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার ব্যবস্থা নিন।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ ১০/১৫ জন নেতাকর্মী নিয়ে দুপুর ২টায় বিএনপি মহাসচিব শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

এর আগে সকাল থেকে চন্দ্রিমা উদ্যানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কিছু নেতারা ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। বিএনপি মহাসচিবও চন্দ্রিমা উদ্যানের মূল প্রবেশ পথ থেকে হেঁটে সমাধিস্থলে যান।

মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতাকর্মীদের প্রবেশে বাধা প্রদানের নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধ দল। দুর্ভাগ্য আমাদের আজকে যারা এখানে মুক্তিযোদ্ধা আছেন তারা অত্যন্ত পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য তারা জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। সেই মুক্তিযোদ্ধাদের, সেই মুক্তিযোদ্ধা দলকে আজকে এখানে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে, আজকে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৫, ২০২১
এমএইচ/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa