ঢাকা, শনিবার, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

রাজনীতি

সংগঠন নিয়েই চিন্তিত ১৪ দলের শরিকরা

শামীম খান, সিনিয়র করেসপনডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭০২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১০
সংগঠন নিয়েই চিন্তিত ১৪ দলের শরিকরা

ঢাকা: নির্বাচনের পর মতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জোটের শরিক দলগুলো অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় সাংগঠনিকভাবে তারা দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে।



জোটের শরিক বামপন্থি কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত ১১ দল ও বামগণতান্ত্রিক ফ্রন্টও দীর্ঘ দিন ধরে নিস্ক্রিয় রয়েছে। এদের দলীয় মতাদর্শ ও বৈপ্লবিক কর্মসূচিরও কোনো প্রচারণা নেই। কর্মকান্ড না থাকায় এ সব দলের অভ্যন্তরে নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা থেকেও কর্মীরা দূরে সরে যা্েচ্ছ।

আর এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা কর্মীরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অস্তিত্ব ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। কেউ কেউ জোটের বাইরে গিয়ে সাংগঠিক কর্মসূচির কথা ভাবছেন।

বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপচারিতায় দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও তার উপলব্দি ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ১৪ দল থাকলেও জোটের তৎপরতা বা কার্যক্রম নেই। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট শরিকদের রাজনৈতিক যোগাযোগও নেই। সরকারের কোনো কর্মকান্ড, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জোটের শরিকদের মতামত বা কোনো পরামর্শ নেয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি জোটের শরিকদের মুল্যায়নও নেই। আবার ক্ষমতাসীন জোটে থাকায় নিজস্ব অবস্থান নিয়েও তারা অগ্রসর হতে পারছেন না।

এ প্রসঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মী রফিকুল ইসলাম ও ফিরোজ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, সমাজ বিপ্লবের পার্টির নিজস্ব কর্মসূচি ও মতাদর্শ আছে। কিন্তু বর্তমানে তার কোনো প্রচারণা নেই। নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও চর্চা নেই।
 
আগে জোটগতভাবেও জাতীয় ইস্যুতে রাজপথের আন্দোলনে থেকে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান ধরে রেখেছে  দলগুলো।

এছাড়াও তাদের তিনটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম বামফ্রন্ট, ১১ দল, তেল-গ্যাস জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটিসহ বিভিন্ন ফোরামের মাধ্যমে এ দলগুলো রাজপথে সোচ্চার ছিলো।

২০০৫ সালে ১৪ দল গঠনের পর পরই ১১ দল ও বাম ফ্রণ্ট নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। জোট ক্ষমতাসীন হলে তেল-গ্যাস কমিটির আন্দোলনেও সেভাবে সোচ্ছার হতে পারেনি।

এ পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অস্তিত্ব রক্ষায় তারা ১১ দলীয় জোটকে স্বক্রিয় করার চিন্তা-ভাবনা করছেন বলে নেতারা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সরকার গঠনের পর গত প্রায় ১৯ মাসে ১৪ দলীয় শরিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে মাত্র দুইটি।

এ প্রসঙ্গে গণতন্ত্রি পার্টির সাধারন সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম বাংলানিউজকে বলেন, যেহেতু ১৪ দলকে স্বক্রিয় করা হচ্ছে না সেহেতু রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে আমরা নিজেদের দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি ১১ দলকে স্বক্রিয় করে গণমানুষের দাবিগুলো তুলে ধরতে চাই।

কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক অসিত বরণ রায় বলেন, আমরা ১৪ দলগতভাবেই এতো দিন রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে এসেছি। বর্তমানে ১৪ দলের কোনো তৎপরতা নেই। এ অবস্থায় আমাদের সাংগঠনিক অবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জড়তা কাটিয়ে উঠতে দলকে স্বক্রিয় করা দরকার।  

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ-মোজাফ্ফর) সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এনামুল হক বলেন, জোটের শরিকদের কোনো মুলন্যয়ন হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ নিজেকে সর্বেসর্বা মনে করছে।

তিনি বলেন, ‘মুল্যায়ন বলতে মন্ত্রী এমপি করার বিষয় নয়। কেন্দ্র থেকে তৃণমুল পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরামর্শ, ভূমিকা বা মতামতের ব্যাপার থাকে। সেগুলোর কোনোটিই হচ্ছে না।

বিএনপি-জামায়াত দেশে সংকট সৃষ্টির পায়তারা করছে উল্লেখ করে এনামুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ যদি মনে করে তারা একাই সব মোকাবেলা করতে পারবে সেটা তাদের ব্যাপার। তবে আমরা সংগঠন গোছানোর চেষ্টা করছি, নিজস্ব কর্মসূচি নিয়েই অগ্রসর হবো। ’

গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ যা করবে সবটাই আমরা সমর্থন করে যাবো এটা তো হয় না। শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষের সমস্যগুলো নিয়ে কথা বলতে হবে। এমনিতেই অনেক কষ্ঠ করে আমাদের কর্মী সংগঠিত করতে হয়। এ জন্য বসে না থেকে নিজস্ব শক্তি দিয়ে এবং ১১ দলকে নিয়ে আমরা অগ্রসর হওয়ার কথা ভাবছি।

তবে শরিক দলওলোর কারো কারো অভিযোগ ১১ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি এ জোটকে স্বক্রিয় করতে তেমন একটা জোড়ালো ভূমিকা নিচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১১ দলের এক নেতা বাংলানিউজকে জানান, রাশেদ খান মেননকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়নি বলে ওয়ার্কার্স পার্টি এখনো মনে করে। ১১ দল রাজপথে নামলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মতানৈক্য ও দুরত্ব তৈরি হতে পারে এ কারণে ধীরে চলার চেষ্টা করছে তারা।

এ প্রসঙ্গে ১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বাংলানিউজকে বলেন, ১৪ দলের বৈঠকের কথা বলা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই তা হবে।

তিনি বলেন, ‘১১ দল আছে, প্রয়োজনে দলগতভাবে কর্মসূচি নিয়েও আমরা মাঠে থাকবো। ’

বাংলাদেশ সময় ১৪৩০ ঘন্টা, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa