ঢাকা, রবিবার, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ জুলাই ২০২১, ১৪ জিলহজ ১৪৪২

রাজনীতি

আ'লীগের সংঘর্ষ-গুলির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪২৪ ঘণ্টা, জুন ১৮, ২০২১
আ'লীগের সংঘর্ষ-গুলির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা মোশারফ হোসেন মানিক (বাঁয়ে) ও আনোয়ার হোসেন

নরসিংদী: নরসিংদীর মাধবদী উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও দু’জন  গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে।  

গুলিবিদ্ধ মাধবদী পৌরসভার সাবেক কমিশনার জাকারিয়ার বড় ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মাধবদী পৌর মেয়র মোশারফ হোসেন মানিকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

 

অপরদিকে মাধবদী পৌরসভার মেয়রের পক্ষে মোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করে মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার (১৮ জুন) সকালে মাধবদী থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সৈয়দুজ্জামান।

এর আগে গত ১৬ জুন বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের সভায় পৌর মেয়রকে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় গুলিবিদ্ধ হন মাধবদী পৌরসভার সাবেক কমিশনার ও সদর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জাকারিয়া (৩৯) ও নূরালাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব আবুল কালাম (৩০)।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- মাধবদীর বিরামপুর এলাকার নান্নু মিয়ার ছেলে আব্দুল আহাদ, কোতোয়ালির চর এলাকার মো. মোজাম্মেল, টাটাপাড়া এলাকার রিপন মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা জুনিয়র, ছোট মাধবদী এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে শাহিন মিয়া, ভগিরথপুর এলাকার নান্নু ভূইয়ার ছেলে আতাউর ভূইয়া, আদনান হোসেন, সাকিব, মো. মনিরুজ্জামান ওরফে নাতি মনির, নূর মোহাম্মদ ও সেন্টু শীল।

মাধবদী থানার ওসি মো. সৈয়দুজ্জামান বলেন, শুক্রবার সকালে দুইপক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। এক পক্ষ মধাবদীর পৌর মেয়রকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অপর পক্ষ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

গত বুধবার বিকেলে মাধবদীর রমনি কমিউনিটি সেন্টারে মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা চলছিল। ওই সভায় মেয়র মোশারফ হোসেন মানিককে দওয়াত দেওয়া হয়নি। দাওয়াত না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে মেয়রের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে সেখান থেকে মেয়র চলে যান। মেয়র ও তার সমর্থকরা যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ মেয়র সমর্থকদের কটূক্তি করেন। এনিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই প্রতিবাদে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, তার ছোট ভাই পৌরসভার সাবেক কমিশনার মো. জাকারিয়া ও তাদের সমর্থকরা মিছিল বের করে। মিছিলটি পৌরসভা সংলগ্ন রাধুনী রেস্টুরেন্টের সামনে এলে দুই পক্ষের সমর্থকরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করা হয়। এতে পৌরসভার সাবেক কমিশনার মো. জাকারিয়া ও আবলু কালাম নামে দু’জন গুলিবিদ্ধসহ পাঁচজন আহত হন।

বাংলাদেশ সময়: ১৪১৮ ঘণ্টা, জুন ১৮, ২০২১
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa