ঢাকা, শনিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৫ মে ২০২৪, ১৬ জিলকদ ১৪৪৫

রাজনীতি

রাজনীতির মাঠে খেলছেন আমলারা: জি এম কাদের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৫৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৭, ২০২০
রাজনীতির মাঠে খেলছেন আমলারা: জি এম কাদের

ঢাকা: জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, রাজনীতির মাঠে এখন আর রাজনীতিবিদরা নেই। রাজনীতির মাঠে খেলছেন আমলারা, রাজনীতিবিদরা লাইনে বসে খেলা দেখছেন।

রোববার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে বনানীতে জাপা কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির খুলনা বিভাগ আয়োজিত পোস্টার ও ক্যালেন্ডার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  

জি এম কাদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের মালিক হচ্ছেন জনগণ। তাদের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই দেশ পরিচালনা করার কথা। কিন্তু কাজ কর্মে এমপি সাহেবদের খরবই নেই, আর সচিব সাহেবরা সব কাজ করেন মন্ত্রীরা শুধু জানতে চান।  

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরাই জনগণের দুঃখ-কষ্ট সবচেয়ে ভালো বোঝেন। তারাই জনগণের বেশি উপকার করতে পারেন। আবার আমলারা হচ্ছে রোবটের মতো, তারা একটি গন্ডির ভেতরে কাজ করতে অভ্যস্ত। আমলারা রাজনীতিবিদদের মতো সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝে না।  

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মূল্য দিন। জনপ্রতিনিধিরা সুযোগ পেলে দেশের মানুষের অনেক বেশি উপকার হবে। জনপ্রতিনিধিদের উপেক্ষা করে আমলাদের দিয়ে দেশ পরিচালনা কখনোই মঙ্গলজনক হবে না।  

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে দেশ পরিচালনা করেছেন। তখন উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের অধীনে আমলারা কাজ করেছেন। জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনায় কাজ করেছেন আমলারা। কিন্তু এখন উল্টে গেছে সবকিছু। উপজেলা চেয়ারম্যান হচ্ছেন “চেয়ারম্যান” মানে চেয়ারে বসে থাকবেন। আর উপজেলা পরিষদ চালাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কথা ইউএনও সাহেব শুনলে ভালো, না শুনলে কিছুই করার নেই। জনপ্রতিনিধিরা যদি দেশ পরিচালনা করতে না পারে তা সংবিধান পরিপন্থি।

জাতীয় পার্টির খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব সাহিদুর রহমান টেপার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, এখনো চলন্ত বাসে নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। নারী ও শিশু নির্যাতন অনেক দিন ধরেই চলছে, এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।  

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য কোনো চিকিৎসা নেই। সংবিধান স্বীকৃত অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। প্রচণ্ড শীতে একটি কম্বলের জন্য মানুষের মধ্যে হাহাকার উঠেছে। আবার কেউ কেউ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। বৈষম্যের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেনি। যারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির মহাসচিব।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মিয়া, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরিফা কাদের, মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, নাজনিন সুলতানা, যুগ্ম মহাসচিব শেখ মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, হুমায়ুন খান, অ্যাডভোকেট জহিরুল হক জহির, সাইফুদ্দিন খালেদ, সম্পাদমণ্ডলীর সদস্য সুলতান মাহমুদ, এম এ রাজ্জাক খান, সুমন আশরাফ, এস এম আল জুবায়ের, জাপার কেন্দ্রীয় নেতা শেখ হুমায়ুন কবির শাওন, জিয়াউর রহমান বিপুল প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৭, ২০২০
এসএমএকে/আরআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।