ঢাকা, শুক্রবার, ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬ সফর ১৪৪২

আওয়ামী লীগ

খালেক-মিজানের স্বপদে থাকা নিয়ে গুঞ্জন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৫৬ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৭, ২০১৯
খালেক-মিজানের স্বপদে থাকা নিয়ে গুঞ্জন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান।

খুলনা: খুলনা মহানগরজুড়ে চলছে সাজসাজ রব। মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ১০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার)। এ সম্মেলন ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। গোটা নগর ছেয়ে গেছে তোরণ-ফেস্টুন, ব্যানার ও পোস্টারে।

সাড়ম্বর আয়োজন নতুন উদ্দীপনা তৈরি করছে কর্মীদের মধ্যে। মহানগর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উৎসবে শামিল হচ্ছেন জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও।

খুলনার রাজনৈতিক ময়দানে এখন একটাই আলোচনা মহানগর আওয়ামী লীগের বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলন।

এ সম্মেলনে তাই নেতাকর্মীরা বাজপাখির মতো চোখ করে আছেন। তাদের মধ্যে চলছে নানামুখী গুঞ্জন। বিশেষ করে শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটবে নাকি পুরনো নেতৃত্বকেই নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া (নবায়ন) হবে, এ নিয়ে জোর গুঞ্জন এখন আওয়ামী লীগের মধ্যে।

অনেকের ধারণা বর্তমান কমিটির সভাপতি খুলনা সিটি তালুকদার আব্দুল খালেক ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজানই নতুন কমিটির নেতৃত্বে আসবেন। দলকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে তাদের বিকল্প নেই খুলনায়। খুলনায় ফের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে খালেক ও মিজানকে দেখতে চান এ পক্ষটি।

আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বহাল রাখা হবে এমন সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হতে পারে অথবা দলীয় হাই-কমান্ডের সিদ্ধান্তে সমঝোতার মাধ্যমেও নেতা নির্বাচিত হতে পারে। এবারই প্রথম একদিনে একই মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে দলটির মহানগর ও জেলা ইউনিটের সম্মেলন। সার্কিট হাউজ মাঠে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য। প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের একক নাম শোনা গেলেও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক ব্যক্তির নাম আলোচনায় আসছে। সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান ছাড়াও এই পদে অন্য যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামি এবং মহানগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানাসহ বেশ কয়েকজন নেতা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সভাপতি পদ নিয়ে আলোচনায় সেভাবে আগ্রহ দেখা না গেলেও সাধারণ সম্পাদক নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনা অঞ্চলের রাজনীতির অন্যতম স্তম্ভ। বর্ষিয়ান এ নেতা ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে উত্থান হয়ে খুলনা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনার নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটের রাজনীতিতে প্রবেশের পর টানা ছয় বার বিভিন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। একজন কমিশনার থেকে সংসদ সদস্য, সংসদ সদস্য থেকে বাংলাদেশ সরকারের সফল মন্ত্রী। এবং এরপর খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দুইবার নির্বাচিত মেয়র। একজন সৎ এবং নিষ্ঠাবান মানুষ না হলে এভাবে ধারাবাহিক বিজয় অর্জন সম্ভব হতো না। খুলনায় তার বিকল্প কোনো নেতা নেই। যার কারণে আওয়ামী লীগের মহানগর শাখায় সভাপতি হিসেবে তাকেই মানায়।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান নানা কারণে গত সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন না পেয়েও তিনি দলের সব ধরনের কার্যক্রমে সক্রিয় থেকে নেতাকর্মীদের  মধ্যে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। খুলনা-২ আসনের প্রার্থী শেখ সালাউদ্দিন জুয়েলের পক্ষে কাজ করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সহচর শামসুর রহমান মানির ছেলে মিজান। সেই দিক বিবেচনা করেও তিনি সাধারণ সম্পাদক পদের দাবিদার বলে তার অনুসারীরা মনে করছেন।

তারা মনে করছেন, মুসলিম লীগ ও বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত খুলনা-২ আসনটি ৪০ বছর পর ২০১৪ সালে ফিরে পায় আওয়ামী লীগ। এ আসনে মিজানুর রহমান মিজান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান মাঠপর্যায়ে ব্যাপক কাজ করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন ও তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে মিজানকে মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়টি এবার সাধারণ সম্পাদক পদে পুনরায় বহাল রেখে পুষিয়ে দেবে দল।

মিজানুর রহমান মিজান বাংলানিউজকে বলেন, আমি শহীদ পরিবারের সদস্য। আমার বাবা শামসুর রহমান মানি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সহচর ছিলেন। পরবর্তীতে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করেছি। জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছি। আওয়ামী লীগের সঙ্কটময় সময় বিশেষ করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যে ভূমিকা রাখার দরকার ছিল নেত্রীর নির্দেশে তা রাখার চেষ্টা করেছি। এরপর ওয়ান ইলেভেনের সময় তখন বিভিন্ন প্রলোভন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে দলের প্রতি নিষ্ঠা ও নেত্রীর প্রতি অবিচল থেকে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। এক চুলও এদিক-ওদিক হয়নি। এটা আমার অনেক বড় পাওয়া যে আমি নেত্রীর নির্দেশে কাজ করতে পেরেছি। সর্বোপরি সম্মেলনে যদি ভোটাভোটি না হয় তাহলে কেন্দ্রিয় নেতারা বা দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই আমি মাথা পেতে নেবো।

সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বাংলানিউজকে বলেন, সভাপতি-সম্পাদক পদে কে দায়িত্ব পাবেন স্বাভাবিকভাকে হাই কামান্ড থেকে আলাপ আলোচনার মধ্যমে একটা মনস্থির হয়ে আসে। এখানে এসে সেটা প্রস্তাব সমর্থনের নেওয়ার পর অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য আমাদের ১০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সবাই চায় যে আমি এই দলের একটি দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত হই। আর সেটা সম্মেলনের মাধ্যমে হোক।

খুলনায় ফের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে খালেক ও মিজান আসছেন এমন গুঞ্জন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন,  এটা আমার জানা নেই। খালেক ভাই থাকবে না মিজান ভাই থাকবে। এটা তো ১০ তারিখ সিদ্ধান্ত হবে। প্রার্থীদের মধ্য থেকে আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক করা হবে। কত জন প্রার্থী আছে তা দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হবে। তিনি সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর তালুকদার আব্দুল খালেক সভাপতি ও মিজানুর রহমান মিজান সাধারণ সম্পাদক পদে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। এর প্রায় দু’বছর পর ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৫৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৭ , ২০১৯
এমআরএম/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa