ঢাকা, শনিবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৭, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ সফর ১৪৪২

আওয়ামী লীগ

শোভন-রাব্বানীকে পদত্যাগের নির্দেশ

শামীম খান ও মহিউদ্দিন মাহমুদ | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০১৩৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
শোভন-রাব্বানীকে পদত্যাগের নির্দেশ

ঢাকা: নানা বিতর্ক, সমালোচনা আর অভিযোগের মুখে থাকা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনের অভিভাবক ও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের প্রথম সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বিষয়টি আলোচনায় উঠলে সাংগঠনিক অভিভাবক শেখ হাসিনা এই সিদ্ধান্ত দেন। বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্র বাংলানিউজকে এ তথ্য জানিয়েছে।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোভন-রাব্বানীকে পদত্যাগ করতে বলেন। একইসঙ্গে কমিটির এক নম্বর সহ সভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের কর্যনির্বাহী সংসদের সভার শেষের দিকে ছাত্রলীগের বিষয়টি উঠলে শেখ হাসিনা বিরক্তি প্রকাশ করেন।

ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক শেখ হাসিনা বলেন, তারা (শোভন-রাব্বানী) যা করেছে, এটা সহ্য করা হবে না। কেউ এ ধরনের কাজ করলে মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

শোভন ও রাব্বানীর কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা চলছিল। গত ৭ সেপ্টেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় তাদের বিতর্কিত, নেতিবাচক কর্মকাণ্ড এবং অযোগ্যতার বিষয় উঠে এলে সাংগঠনিক অভিভাবক, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই সভায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে শোভন-রাব্বানীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিতে বলেন বলেও গণমাধ্যমে খবর আসে।

এরপরে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে গেলে তাদের সাক্ষাৎ দেননি প্রধানমন্ত্রী। পরে গণভবনে প্রবেশে তাদের স্থায়ী পাসও বাতিল করে দেওয়া হয়।

শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে সেখানকার প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কমিশন দাবি, দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, ফোন না ধরা, মাদক সেবন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের অতিথি হিসেবে রেখে নিজেরা তাদের পরে অনুষ্ঠানে যাওয়া, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বির্তকিতদের পদ দেওয়া, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উচ্চারিত হচ্ছিল সাংগঠনিক বলয়ে।

এমনকি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে অর্থনৈতিক লেনদেনসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগও শোনা যাচ্ছিল শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে।

ক্ষমা চেয়ে ও অভিযোগ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিলেও শেষতক তাদের পদ হারাতেই হলো।

বাংলাদেশ সময়: ২১৩৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯
এমইউএম/এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa