ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ অক্টোবর ২০১৯
bangla news

বিএনপির রাজনীতি রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত: তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৮-৩১ ৩:০০:৩২ পিএম
সভায় বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: শাকিল/বাংলানিউজ

সভায় বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: শাকিল/বাংলানিউজ

ঢাকা: বিএনপির রাজনীতি মানুষের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরিষদের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে ড. হাছান বলেন, গতকাল (শুক্রবার) সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব গত ১০ বছরে কত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন-সে কথা বলেছেন। অথচ এই বিএনপি গঠিত হয়েছে জিয়াউর রহমানের রক্তে রঞ্জিত হাতে। মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি গঠন করা হয়েছে।
 
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য একহাজার ৬০০ সেনাসদস্যকে হত্যা করেছেন। সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য ছুটিতে ছিলেন, তাদের ডেকে পাঠিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ তারা জানতেও পারেননি তার অপরাধ কী। 

‘সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্যকে হত্যা করেছেন স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান। যে বিএনপি মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তারা আবার বড় বড় কথা বলছে কী করে?’ 

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ২০১৪-১৫ সালে পেট্রোল বোমা কারা নিক্ষেপ করেছে? পেট্রোল ও বোমা হামলায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ সময় প্রায় ৪ হাজার গাড়ি পুড়িয়েছে, ৩০টি লঞ্চে আগুন দিয়েছে, ৫০০ স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে। 

‘বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন দিয়েছে, ৩০টি সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগ করেছে। যারা এভাবে মানুষ হত্যা করে তাদের এমন বক্তব্য রাখার কোনো অধিকার নেই। শুধু বিএনপি নয়, বিএনপির প্রশ্রয়ে জঙ্গিরাও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নানা সময় অনেক মানুষ হত্যা করেছে।’ 

তিনি বলেন, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অগ্নিসন্ত্রাসে বিএনপি নেতারা হুকুমের আসামি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর- আপনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং মহাসচিব হওয়ার পর আপনার নেতৃত্বে এসব হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি একটি কমিশন গঠন করে এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা উচিৎ। 

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করার বিষয়টিও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
 
১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনে শুধুমাত্র গুটিকয়েক সেনাসদস্য জড়িত ছিল না। যারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কুশীলব ছিল তার মধ্যে অন্যতম প্রধান জিয়াউর রহমান। কর্নেল ফারুক, রশীদরা যখন জিয়াউর রহমানের কাছে গেলো তখন জিয়াউর রহমান বলেছিল আমি সিনিয়র অফিসার তাই সরাসরি যেতে পারি না, গো অ্যাহেড। 

‘তিনি (জিয়া) যদি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত না থাকতেন তাহলে একথা জানার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে সেটি অবহিত করতেন। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর জিয়াউর রহমানকে জানালে- তিনি বলেছিলেন, সো হোয়াট! ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার।’

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জিয়াউর রহমান যদি এই হত্যাকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত না থাকতেন তাহলে হত্যাকাণ্ডের পর সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যেতেন এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। তিনি সেটা  করেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক। তাই জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কুশীলব। 

পরবর্তীতে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন ছাড়াও সংসদে ইনডেমিনিটি আইন পাস করে খুনিদের বিচারের প্রক্রিয়া বন্ধ করেছেন জিয়া। এসব ঘটনা দিবালোকের মতো সাক্ষ্য দেয় তিনি-ই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান নেপথ্যের কারিগর। এদের মুখোশ উম্মোচন করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো আজকে সময়ের দাবি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ। 

বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, এমএ করিম, জিনাত আলী খান জিন্নাহ, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, মো. শাহাদাত হোসেন টয়েল।

সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জাকির আহমদ। পরিচালনা করেন স্বাধীনতা পরিষদের সিনিয়র সভাপতি শেখ নওশের আলী। 

বাংলাদেশের সময়: ১৪৪৮ ঘণ্টা, আগস্ট ৩১, ২০১৯ 
আরকেআর/এমএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   আওয়ামী লীগ ১৫ আগস্ট
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2019-08-31 15:00:32