ঢাকা, বুধবার, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৪ জুলাই ২০১৯
bangla news

বিএনপির এমপিরা সংসদে গেলে জাতীয় বেঈমান হবে: অলি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৪-১৭ ৮:৩৯:৫০ পিএম
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

ঢাকা: ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, গত নির্বাচনের আগে দেশের ১৬ কোটি মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, জাতি ধর্ম দলমত নির্বিশেষ সবার প্রতি নির্যাতন অত্যাচার অবিচার করা হয়েছে। তাদের অসম্মান করে সংসদে যাওয়াটা মানবিক, সামাজিক, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। যে বা যারা যাবে তারা জাতীয় বেইমান হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ডিওএইচএসের নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্নেল অলি বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশ একদলীয় শাসনের দিকে অগ্রসর হয়েছে। ২০১৮ সালের ইলেকশনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে আমার নিজের চোখে দেখা ও অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ২৯ তারিখ রাতে শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ভোট পুলিশ, বিজিবি, ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীরা এক হয়ে ব্যালট পেপার কেটে বাক্স ভর্তি করেছে। এরই মধ্যে আশ্চর্যজনকভাবে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ৮ জনকে বিপুল ভোটে জয়লাভের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। অন্য যেখানে বিরোধী দলের প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার কথা সেখানে নির্বাচিত না হয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে যেখানে বিরোধী প্রার্থীদের ৮০ ভাগ ভোট পাওয়ার কথা সেখানে শূন্য ভোট পেয়েছে। এ অবস্থায় ড. কামালের ২ জনসহ বিএনপির ৬ জনের বিজয় লাভ একটি অষ্টম আশ্চর্য ও বিস্ময়কর ঘটনা।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে বিএনপির এমপিদের সংসদে যাওয়ার কথাবার্তা হচ্ছে, এ বিষয়ে কর্নেল অলি বলেন, যদি এটা সত্য হয়ে থাকে তাহলে আমি মনে করি কেউ লোভের বশীভূত হয়ে খালেদা জিয়াকে ব্লাকমেইল করছে এবং বিএনপিকে বিপদগামী করছে।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে যতদূর জানি বা চিনি, আমার থেকে তাকে বেশি কেউ ঘনিষ্ঠভাবে জানেন না। রাজনৈতিক, পারিবারিক সামাজিক, আমি তার সঙ্গে যেভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলাম এভাবে বিএনপির আর কেউ ছিল না। আমি যতদূর জানি, তিনি কখনও নিজের সুবিধার জন্য কারও সাথে আপস করবেন না।

নির্বাচিত আট এমপি শপথ নিলে এলডিপির অবস্থান কী হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল অলি বলেন, লোভ ও জাতির সঙ্গে বেইমানি করা কোনো কাজে এলডিপি কখনও সমর্থন করবে না। ১৮ কোটি ভোটারের সঙ্গে বেঈমানি করে যদি সংসদে যায় সেটা আমি সমর্থন করবো না।

সোনাগাজীতে পুরিয়ে মারা নুসরাতের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে একাধিক জায়গায় প্রতিনিয়ত রেপ করা হচ্ছে। এই প্রথমবার সোনগাজীর ঘটনা নিয়ে সারাদেশ উত্তপ্ত হয়েছে। এখানে বোধগম্য নয়, এই রেপটাকে এত গুরুত্ব কেন দিল। আগের রেপগুলি যেখানে হয়েছে সেগুলি কেন গুরুত্ব পেল না। সোনাগাজীতে রেপ হওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী ওই মেয়ের মা-বাবাকে ডেকে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। আগামীতেও তাদের আর্থিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে আমি শুনেছি। তাকে এজন্য আমি এলডিপির পক্ষ থেকে দলের সভাপতি ও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এখানে আমার মনে একটি প্রশ্ন তিনি একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অন্যান্য যেসব রেপ হয়েছে, তাদের সুযোগসুবিধাগুলি কেন দিলেন না? এবার যেভাবে রেপিস্টগুলিকে ধরে নিয়ে আসলো, অন্যান্য জায়গায় রেপগুলি হয়েছে তারা এখনও কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এগুলির বিচার হচ্ছে না। রেপ এর বিচার এদেশে নেই বললেই চলে। এই প্রথমবার দেখলাম সোনাগাজীর ঘটনায় দ্রুত ধরা পড়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৭ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৭, ২০১৯
এমএইচ/এমজেএফ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-04-17 20:39:50