[x]
[x]
ঢাকা, বুধবার, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
bangla news

কৌশলী প্রচারণায় ব্যস্ত কুমিল্লার প্রার্থীরা

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-১২-০৯ ৮:২০:১৫ এএম
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

কুমিল্লা: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। দলীয় মনোনয়নও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে এখনো প্রতীক বরাদ্দ হয়নি। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারবে না। তাই বলে থেমে নেই কুমিল্লার ১১ সংসদীয় আসনের দুই জোটের প্রার্থীরা।

উঠান বৈঠক, চা চক্র ও মতবিনিময়ের কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন প্রার্থীরা। তবে এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের প্রার্থীরা। তারা অনেকটা প্রকাশ্যেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। 

এদিকে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা বেশ গোপনে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

কুমিল্লা-১ ও ২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এবং বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দাউদকান্দি ও মেঘনার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।
কুমিল্লা-১ ও ২ আসনে
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার আজ শৃঙ্খলিত। এই সরকারের শাসনামলে কোনো নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনি এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।’

একই আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করছেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘সব বিভেদ ভুলে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়নে ব্যক্তি স্বার্থ ত্যাগ করে দলের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।’

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুণ উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত ৫ বছর মুরাদনগরবাসীদের জন্য কাজ করেছি। সব জায়গায় উন্নয়ন হয়েছে। আশা করি জনগণের রায় আমার পক্ষেই যাবে।’

অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী কেএম মজিবুল হক এখনো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পরই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবো। আমার নির্বাচনের একটি শ্লোগান থাকবে— “প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করুণ, সম্প্রীতির রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করুণ”। আমার এ শ্লোগান যারা পছন্দ করবে, তারাই আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে মুরাদনগরবাসীকে সেবা করার সুযোগ করে দিবেন। বিজয়ের বিষয়ে আমি ইনশাল্লাহ শতভাগ আশাবাদী।’
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে মাঠে সরব রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ। বিভিন্ন ইউনিয়নে তিনি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। 

এদিকে বাবার জন্য নৌকায় ভোট চাইতে মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সহ-সভাপতি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুনতাকিম আশরাফ টিটু। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উঠান বৈঠকে যোগদান করছেন তিনি।

মুনতাকিম আশরাফ বাংলানিউজকে বলেন, ‘নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে অধ্যাপক আলী আশরাফকে বিজয়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আমার বাবা চান্দিনাবাসীর কল্যাণে কাজ করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। আশা করি চান্দিনাবাসী আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আমার বাবাকে কাজের সুযোগ করে দিবে।’

এদিকে এই আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদের নেতা-কর্মীরা এলাকায় মতবিনিময় সভা করতে দেখা গেছে।
কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণের আংশিক) আসন
কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণের আংশিক) আসনে উঠান বৈঠক করে ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি । তিনি বিভিন্ন ইউনিয়নে উঠান বৈঠক ও মহিলা সমাবেশ করে তরুণ ভোটারদের মন আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের মতো উন্নয়ন কেউ করেনি। মহানগরী থেকে গ্রামের রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, কালভার্ট, সেতু উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। কুমিল্লা সদরের মাঝে প্রবাহিত গোমতী নদীর ওপরে তিনটি সেতু নির্মাণ করেছি। এলাকা থেকে ছিনতাই-চাঁদাবাজিসহ অপরাধ কমে গেছে। তাই জনগণের ভোটের রায় নৌকার পক্ষেই থাকবে।’

এদিকে বিএনপির প্রার্থী কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশিদ ইয়াছিন বাড়িতে বসে, বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে কুশল বিনিময়, চা চক্রসহ নানা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আমিনুর রশিদ ইয়াছিন বলেন, ‘গণতন্ত্র, মানুষের ভোটের অধিকার, বাক স্বাধীনতার অধিকার ফিরিয়ে আনতে আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আশা করি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি স্বৈরশাসক মুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবো।’

কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে উঠান বৈঠক করে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

এদিকে এ আসনে বিএনপির প্রকাশ্যে কোনো প্রচারণা এখনো দেখা যায়নি।

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক ও তার নেতাকর্মীরা প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করছেন।

অপরদিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বেশ গোপনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রকাশ্যে তাদের কোনো কার্যক্রম নেই।

চৌদ্দগ্রাম আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র মো. মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘গত ১০ বছরে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক চৌদ্দগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। চৌদ্দগ্রামে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বিধবা ভাতা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষিত যুবকদের চাকরিসহ এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে মানুষদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি। যার কারণে এ আসনে মুজিবুল হকের বিকল্প কিছু ভাবছে না ভোটাররা।’

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর দৃশ্যমান কোন প্রচারণা না থাকলেও নানা কৌশলে গোপনীয়তা রক্ষা করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা জামায়েতের অ্যাসিস্যান্ট সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহাজান জানান, ‘ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ডা. তাহেরের পক্ষে আমরা নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা করবো। আগামী ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পরেই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রচার-প্রচারের কথা বলা হয়েছে। সেদিন আমরা প্রচারণায় নামবো। এমনিতে আমাদের নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করছে পুলিশ। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে পুলিশের এমন আচরণ কাম্য নয়। আমরা আশা করবো সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারলে চৌদ্দগ্রামে ধানের শীষের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ০৮২০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮
জিপি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache