ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

আওয়ামী লীগ

নাসিক নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ

শামীম খান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০৫৪ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৭, ২০১৬
নাসিক নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নির্বাচন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নির্বাচনে মেয়র পদে জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে সরকারের প্রতি জনসমর্থনের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

ঢাকা: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নির্বাচন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নির্বাচনে মেয়র পদে জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে সরকারের প্রতি জনসমর্থনের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এই প্রথম নাসিক নির্বাচনের মেয়র পদের ভোটগ্রহণ দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সফলতা-ব্যর্থতা সরাসরি দলের ওপরই গড়াবে।

নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী বিজয়ী না হলে সরকারের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এটি আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রতকর হবে। এ কারণে এ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

বিষয়টি উপলব্ধি করে শুরু থেকেই দলের ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দলের মধ্যে বিরাজমান দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, নাসিকের গত নির্বাচনে দলের দু’জন মেয়র প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যান। অবশ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কাউকেই এককভাবে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়নি।

আর এবারের দলগত নির্বাচনে নাসিকের সদ্য বিদায়ী মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিয়ে মেয়র পদে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগের বিজয়ের জন্য একটা ইতিবাচক দিক।

ওই নেতাদের মতে, এর চেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষকে এক জায়গায় আনা সম্ভব হয়েছে। প্রতিন্দ্বন্দ্বী দুই নেতা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ তাদের সমর্থক নেতাদের ডেকে নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেই শেখ হাসিনা তাদেরকে ডেকে বৈঠক করেন।

গত ২২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিজয়ী করতে হবে। বৈঠকে নারায়ণগঞ্জের নেতারা দলের প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে সন্মত হন। বিজয়ের জন্য এটিকেও অনেক বড় বিষয় হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, ‘এটি বলা যায় যে, আমরা দলীয় প্রার্থীর বিজয়ের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ এগিয়ে গেছি। কারণ, বিজয় নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জে দলের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ছিলো, নেত্রী (শেখ হাসিনা) সবাইকে ডেকে সেটির সমাধান করেছেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। এ নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন দিতে স্থানীয় পর্যায় থেকে যাদের নাম প্রস্তাব করে পাঠানো হয়েছিলো, তারাও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। সেখানে আমরা একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে পেরেছি। এটি অনেক বড় সুফল বয়ে আনবে’।

‘আর বিএনপিসহ আরও কয়েকটি দল এ নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। এতে আমরা আনন্দিত যে, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হচ্ছে’।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য। আমরা আমাদের দলের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত মনে করি। কারণ, আওয়ামী লীগের সবাইকে নেত্রী (শেখ হাসিনা) ঐক্যবদ্ধ করেছেন, তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। তবে আমরা বিএনপিসহ কোনো প্রার্থীকেই ছোট করে দেখি না’।

‘নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হচ্ছে, সেটি তুলে ধরে আগামী দিনে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানাবো’।

বাংলাদেশ সময়: ০৬৫১ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৭, ২০১৬
এসকে/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa