ঢাকা, শনিবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৭, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ সফর ১৪৪২

আওয়ামী লীগ

ঈদের পর গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে আ’লীগ

শামীম খান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১০৯ ঘণ্টা, জুলাই ২, ২০১৬
ঈদের পর গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে আ’লীগ

ঢাকা: অব্যাহত গুপ্তহত্যা ও টার্গেট কিলিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে ঈদের পর মাঠে নামবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি দেশের মধ্যে যে গুপ্তহত্যা ও টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনাগুলো ঘটছে তা বন্ধ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর পাশাপাশি গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে রাজনৈতিকভাবে তৎপরতা চালানো হবে।

সারাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে গুপ্তহত্যা ও টর্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়ে ২০/২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও এ হত্যাকাণ্ড থেমে নেই।

শুক্রবারও (০১ জুলাই) ঝিনাইদহে এক মঠের সেবায়েতকে হত্যা করা হয়েছে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর কাস্ট সাগরা গ্রামের শ্রী শ্রী রাধামদন গোপাল মঠ মন্দিরের সেবায়েত শ্যামানন্দ দাস ওরফে বাবাজিকে (৫০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একের পর এক গুপ্তহত্যা ও টার্গেট কিলিংয়ে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগও চিন্তিত-উদ্বিগ্ন। এটা বন্ধে সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে যে কঠোর অবস্থান নিয়ে মাঠে নামিয়েছে তা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর নেতৃত্বাধীন ১৪দলকেও মাঠে রাখার চিন্তা-ভাবনা করা হয়েছে।
 
এর আগে গত বছরের শুরুতে বিএনপি-জামায়াতের টানা হরতাল-অবরোধে রাস্তায় বাসসহ যানবাহনে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়। টানা ৯২দিন ওই অবরোধ চলাকালে পেট্রোল বোমায় দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও ১৪দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে জনগণকে সংগঠিত করে। তখন ওই পেট্রোল বোমার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে উঠলে তা বন্ধ হয়। একইভাবে এ হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধেও গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 
এদিকে অতীতের ওই পেট্রোল বোমায় মানুষ হত্যার জন্য বিএনপি-জামায়াতকে সরাসরি দায়ী করে আসছে আওয়ামী লীগ। এ গুপ্তহত্যা ও টার্গেট কিলিংয়েও বিএনপি-জামায়াতের যোগসূত্র রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের অভিযোগ। আর এ কারণেই শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর উপর নির্ভর না করে রাজনৈতিকভাবেও মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ।
 
কারণ এ গুপ্তহত্যার ঘটনায় দেশের মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনসাধারণ এবং প্রগতিশীল লেখক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে জড়িতরা এসব ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেককে চিঠি দিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং সর্বস্তরের মানুষকে গুপ্তহত্যা ও টার্গেট কিলিংয়ের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করতে কর্মসূচি দেয়া হবে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান। ঈদের পর দ্রুতই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা আরও জানান।
 
এ ছাড়া গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪দলও মাঠে নামছে। ইতোমধ্যেই ১৪দল গত ১৯ জুন গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

গণপ্রতিরোগ গড়ে তুলতে সারা দেশে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ জোট। ১৫ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে গণপ্রতিরোধ সপ্তাহ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ সময় জেলা, উপজেলা পর্যায়ে সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগ করা হবে। এসব কর্মসূচিতে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।
   
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বাংলানিউজকে বলেন, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-বিএনপি যোগসাজশে গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে। আমরা আগেই দলের নেতাকর্মদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি। জনগণকে সংগঠিত করে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে বলেছি। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।  

গুপ্তহত্যার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে সহযোগীতার জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তৎপর থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের পর এর বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করতে জনসচেতনতামুলক কর্মসূচি দেওয়া হবে।  

বাংলাদেশ সময়: ১১০৮ ঘণ্টা, জুলাই ০২, ২০১৬ 
এসকে/এসএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa