ঢাকা, সোমবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১০ আগস্ট ২০২০, ১৯ জিলহজ ১৪৪১

বিএনপি

অরফানেজে সাক্ষ্যগ্রহণ ৯ জুন, চ্যারিটেবলে আত্মপক্ষ সমর্থন ২৩ জুন

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪২৪ ঘণ্টা, জুন ২, ২০১৬
অরফানেজে সাক্ষ্যগ্রহণ ৯ জুন, চ্যারিটেবলে আত্মপক্ষ সমর্থন ২৩ জুন ছবি: শোয়েব মিথুন-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৯ জুন। এ মামলায় প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করে তাকে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন আদালত।

  এছাড়া খালেদার আবেদনের প্রেক্ষিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৩৪২ ধারায় তার আত্মপক্ষ সমর্থন ফের পিছিয়ে আগামী ২৩ জুন পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (০২ জুন) এসব আদেশ দেন রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালত। এ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা দু’টির বিচারিক কার্যক্রম চলছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী মামলাটির রেকর্ডিং অফিসার এসএম গাফফারুল ইসলাম ও তৃতীয় সাক্ষী সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপ্যাল অফিসার শফিউদ্দিন মিয়াকে আসামিপক্ষের জেরা সম্পন্ন হয় বৃহস্পতিবার। খালেদার পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান, খালেদার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে বোরহান উদ্দিন এবং মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে রেজাউল করিম সরকার পর্যায়ক্রমে তাদেরকে জেরা শেষ করেন।

এরপর চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা আবুল খায়ের। তাকে আসামিপক্ষের  জেরা ও নতুন সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ-জেরার দিন আগামী ৯ জুন ধার্য করেন আদালত।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় এর আগে প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাদী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদ।

অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন ফের পিছিয়ে আগামী ২৩ জুন পুনর্নির্ধারণ করেন আদালত।

দুর্নীতি মামলা দু’টিতে হাজিরা দিতে বেলা এগারটার দিকে আদালতের এজলাসকক্ষে আসেন খালেদা জিয়া। পরে আইনজীবীদের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন পেছাতে সময়ের আবেদন জানান। সর্বোচ্চ আদালতে এ মামলা স্থগিতে খালেদার লিভ টু আপিলের শুনানি চলমান উল্লেখ করে এ আবেদন জানানো হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন খালেদার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, সানাউল্লাহ মিয়া ও আব্দুর রেজ্জাক খান।

দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।

এ সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আত্মপক্ষ সমর্থন ৬ষ্ঠবারের মতো পিছিয়ে দেন আদালত।   এর আগে গত ১৯ মে পঞ্চম দফায় পিছিয়ে ০২ জুন দিন ধার্য করে তিনি হাজির না হলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে জানিয়েছিলেন আদালত।

জামিনে থাকা অন্য দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান গত ০৭ এপ্রিল আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাদী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদসহ মোট ৩২ জন সাক্ষী।

এদিকে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন জানান খালেদা। আদালত তার এ আবেদন মঞ্জুর করলে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া তার পক্ষে আইনজীবীর হাজিরা দেন। পরে খালেদা জিয়া এজলাসকক্ষ ত্যাগ করলে আদালত ২০ মিনিট মুলতবি করেন। মুলতবি শেষে ফের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় অরফানেজ মামলার সাক্ষীদের জেরার মাধ্যমে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

জামিনে থাকা জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামি মোট ছয়জন। অন্য পাঁচ আসামি হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

আসামিদের মধ্যে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক। বাকিরা জামিনে আছেন। তারা আদালতে হাজির হন এবং তারেক রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আইনজীবীর হাজিরা দাখিল করেন।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।

অন্যদিকে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ দুই মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ঢাকা তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের আগের বিচারক বাসুদেব রায়।

এদিকে খালেদা জিয়ার আদালতে হাজির হওয়া উপলক্ষে আদালতপাড়া এবং বকশি বাজারের মোড়, বদরুন্নেছা কলেজের সামনে, আলিয়া মাদ্রাসার সামনে, কারা সদর দফতর ও আদালতের প্রবেশের প্রথম ফটকসহ আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়। পুলিশ, ৠাব ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চার শতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়।

কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড দেওয়া হয়। স্তরে স্তরে আর্চওয়ে স্থাপন করে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেক করে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৩১০ ঘণ্টা, জুন ০২, ২০১৬
এমআই/এএসআর

** জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জেরা-সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে
** খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থন ফের পিছিয়ে ২৩ জুন
** আত্মপক্ষ সমর্থন পেছাতে আবেদন খালেদার
** এজলাসকক্ষে খালেদা
** আদালতের পথে খালেদা
** দুই দুর্নীতি মামলায় আদালতে যাচ্ছেন খালেদা
** আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa