bangla news

আদালতে খালেদা, বাইরে হট্টগোল-মিছিল

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৬-০৪-১৭ ১:৩৭:০২ এএম

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে আদালতের এজলাসকক্ষে ঢুকেছেন প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আর আদালত চত্বরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যেও হট্টগোল, খণ্ড খণ্ড মিছিল করছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। 

ঢাকা: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে আদালতের এজলাসকক্ষে ঢুকেছেন প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আর আদালত চত্বরের বিভিন্ন প্রবেশমুখে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যেও হট্টগোল, খণ্ড খণ্ড মিছিল করছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।    

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা দু’টির বিচারিক কার্যক্রম চলছে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে।

রোববার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় আদালত চত্বরে এসে দশটা ৩৫ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থনে এজলাসকক্ষে ঢোকেন খালেদা। এর আগে সকাল নয়টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন খালেদা। সকাল সাড়ে দশটায় আদালত চত্বরে এসে পৌঁছান তিনি। পরে এজলাসকক্ষে ঢোকেন। দশটা ৩৫ মিনিট থেকে দশ মিনিট আসামির কাঠগড়ার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। দশটা ৪৫ মিনিট বিচারক এজলাসে বসার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া তার বসার অনুমতি প্রার্থনা করেন। আদালত অনুমতি দিলে কাঠগড়ার সামনে রাখা তার জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসেন তিনি।

পরে খালেদার পক্ষে করা একটি আবেদনের পক্ষে শুনানি করছেন তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। এ শুনানি শেষে শুরু হবে খালেদার বক্তব্য উপস্থাপন।

খালেদা জিয়ার আদালতে হাজির হওয়া উপলক্ষে নিরাপত্তার স্বার্থে আদালতপাড়া ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, ৠাব ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চার শতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এ নিরাপত্তার মধ্যেই আদালত চত্বরে প্রবেশ নিয়ে দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। চকবাজার মোড় সংলগ্ন গেট দিয়ে বেশ কয়েকজন আইনজীবী ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাধা দেন চকবাজার থানার এসআই আজিজ। ১০০ জন আইনজীবীর তালিকা রয়েছে যারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন বলে তিনি জানান আইনজীবীদের। তারপরও আইনজীবীরা ভেতরে যেতে চাইলে হট্টগোল, হই-চই শুরু হয়ে যায়। এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের ডিসি মফিজুল ইসলাম এসে গেটটি বন্ধ করে দেন। পরে আইনজীবীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল শুরু করেন।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২ এর সামনের রাস্তা, হানিফ ফ্লাইওভারের ঢালে জড়ো হয়েছেন বিএনপির শত শত নেতাকর্মী। তারাও খণ্ড খণ্ড মিছিল করছেন। নারী নেতাকর্মীরা ফুটপাতে বসে স্লোগান দিচ্ছেন।  

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম অর রশিদ তালুকদার বাংলানিউজকে জানান, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এডিসি সঞ্জিত কুমার রায় জানান, কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। স্তরে স্তরে আর্চওয়ে স্থাপন করে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেক করে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ, ৠাব, সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চার শতাধিক সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সরজেমিনে দেখা গেছে, বকশি বাজারের মোড়, বদরুন্নেছা কলেজের সামনে, আলিয়া মাদ্রাসার সামনে, কারা সদর দফতর ও আদালতের প্রবেশের প্রথম ফটকসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এসব এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকলেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসা ও বকশিবাজার মোড়ে এপিসিসহ পুলিশের সাজোয়া যান দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যান চলাচল বন্ধ রয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন প্রধান সড়কেও।

খালেদার হাজিরাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে দলের সিনিয়র নেতারাও আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

গত ৭ এপ্রিল জামিনে থাকা তিন আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য থাকলেও খালেদা জিয়া হাজির না হয়ে আইনজীবীদের দিয়ে সময়ের আবেদন জানান। এ আবেদন মঞ্জুর করে ১৭ এপ্রিল দিন পুনর্নির্ধারণ করে তাকে হাজির থাকার আদেশ দেন আদালত।

ওইদিন জামিনে থাকা অন্য দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে বক্তব্য দেন। তারা কোনো সাফাই সাক্ষী দেবেন না এবং পরে লিখিত বক্তব্য দেবেন বলেও জানান।

গত ৩১ মার্চ ৩২তম ও শেষ সাক্ষী তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদকে আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে শেষ হয় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা।

অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদকে আসামিপক্ষের জেরা চলছে। অসমাপ্ত জেরা ও নতুন সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের দিনও ধার্য রয়েছে রোববার।

খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে রয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াসহ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

দুদকের পক্ষে আছেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।   

বাংলাদেশ সময়: ১১৩০ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৭, ২০১৬
এজেডএস/এএসআর

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2016-04-17 01:37:02