bangla news
পাঁচ মামলা

বয়স, অসুস্থতা, সামাজিক মর্যাদায় জামিন পেলেন খালেদা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৬-০৪-০৫ ৩:৫৪:৪৮ এএম
ছবি: জি এম মুজিবুর-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: জি এম মুজিবুর-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

হত্যা, নাশকতা, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের মোট পাঁচটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার বয়স, শারীরিক, অসুস্থতা ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় এসব মামলায় জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন পৃথক পৃথক পাঁচটি আদালত।

ঢাকা: হত্যা, নাশকতা, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের মোট পাঁচটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার বয়স, শারীরিক, অসুস্থতা ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় এসব মামলায় জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন পৃথক পৃথক পাঁচটি আদালত। অন্য একটি আদালত খালেদাকে একটি মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (০৫ এপ্রিল) সকাল পৌনে ১১টা থেকে বেলা সোয়া একটা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দু’টি জজ আদালত ও সিএমএম আদালতের চারটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানিতে হাজির ছিলেন খালেদা জিয়া।

সব মামলায় হাজিরা দিয়ে জামিন লাভ শেষে দুপুর একটা ২০ মিনিটের দিকে আদালত চত্বর ত্যাগ করে গুলশানের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন খালেদা জিয়া।  

বেলা ১২টা ১০ মিনিট থেকে সোয়া একটা পর্যন্ত ঢাকার সিএমএম আদালতে তিনটি মামলার জামিনের আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা বিস্ফোরণের মামলা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা এবং যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় খালেদার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার তিনটি পৃথক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। বোমা বিস্ফোরণের মামলায় তার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করেন অন্য একটি আদালত।

বেলা ১২টা ০৫ মিনিটে আদালতে হাজির হয়ে ওই তিনটি মামলায় জামিন চান খালেদা।

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলাটিতে সমন জারি করা হয়েছিল আসামিদের বিরুদ্ধে। এ মামলায় খালেদার জামিন মঞ্জুর করেন ম্যাজিস্ট্রেট কায়সারুল ইসলাম ও ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের আদালত।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করায় ঢাকার সিএমএম আদালতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে খালেদার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। এ মামলায়ও হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল খালেদা জিয়ার প্রতি। এ মামলায় তাকে জামিন দেন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালত।

যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যার ঘটনায় হত্যা মামলাটি (মামলা নম্বর ৫৮) দায়ের করে পুলিশ। এ মামলায় খালেদাসহ ৩৮ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক পৃথক আরও দু’টি চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এ মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হোসেনের আদালত।
 
পর্যায়ক্রমে পৃথক পৃথক ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তার জামিনের আবেদনের শুনানি করেন খালেদার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, জয়নুল আবেদিন মেজবাহ, সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে এসব আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু।


এর আগে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা ও  যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে যাত্রী হত্যার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন পৃথক দু’টি জজ আদালত।

বেলা পৌনে ১২টায় শুনানি শেষে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালত। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশনা অনুসারে বেলা সাড়ে ১১টায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চান খালেদা।

এ আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। খালেদার পক্ষে ছিলেন মাহবুব উদ্দিন খোকন।   

এর আগে বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে যাত্রী হত্যার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায়ও জামিন পান খালেদা জিয়া। শুনানি শেষে এ জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালত। একই সঙ্গে জামিন পান খন্দকার মাহবুব হোসেনও। সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে ওই মামলায় (মামলা নম্বর ৫৯) আত্মসমর্পণ করে জামিন চান খালেদা।

গত বুধবার (৩০ মার্চ) এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ পলাতক ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন একই আদালত। মামলাটির মোট আসামি ৩৮ জন।

এ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু। খালেদার পক্ষে ছিলেন এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, জয়নুল আবেদিন মেজবাহ প্রমুখ।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে আদালত চত্বরে পৌঁছান খালেদা। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

৫টি মামলায় খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বাংলানিউজকে এ তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৫২ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০১৬
ইএস/বিএস/এএসআর

** পাঁচ মামলায়ই জামিন পেলেন খালেদা
** আরও দুই মামলায় জামিন পেলেন খালেদা
** আরও তিন মামলায় জামিন চাইলেন খালেদা
** গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায়ও জামিন পেলেন খালেদা
** যাত্রী হত্যার মামলায় জামিন পেলেন খালেদা
** এজলাসকক্ষে খালেদা
** ৫ মামলায় জামিন নিতে আদালতে খালেদা

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2016-04-05 03:54:48