bangla news

‘কেবল ভোট নয়, সহায়-সম্পদও দখল করছে তারা’

সিনিয়র স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৬-০৩-৩১ ৭:৩৪:০১ এএম
ছবি:পিয়াস-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি:পিয়াস-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, এখন যারা ক্ষমতায় আছে তারা অন্য কেবল ভোটই শুধু চায় না। মানুষের সহায় সম্পদও দখল করে নিচ্ছে। এই অবস্থা থেকে মানুষ মুক্তি চায়। সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পেতে চায়।

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, এখন যারা ক্ষমতায় আছে তারা অন্য কেবল ভোটই শুধু চায় না। মানুষের সহায় সম্পদও দখল করে নিচ্ছে। এই অবস্থা থেকে মানুষ মুক্তি চায়। সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পেতে চায়।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামি ঐক্যজোটের জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র নেই। জনগণের সরকার নেই। সুশাসন নেই। সমস্ত প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়েছে। সবখানে নৈরাজ্য। আইন-শৃঙ্খলার সীমাহীন অবনতি ঘটেছে। কারও কোনো নিরাপত্তা নেই। জাতীয় অর্থনীতি ছত্রখান হয়ে গেছে। শেয়ারবাজার ও ব্যাংকগুলো লুট হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও জনগণের অর্থ-সম্পদ নিরাপদ নয়। ডিজিটাল ডাকাতি করে সে অর্থ লুটে নিয়ে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ রয়েছে সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশায়। অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, নারীর সম্ভ্রম হরণ, দুর্নীতি, লুণ্ঠন অতীতের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত।

তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিনদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসনে আমাদের জাতীয় সংষ্কৃতি বিপন্ন। আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ক্ষমতাসীনদের কোনো উদ্যোগ নেই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন ও বন্ধুহীন করে ফেলা হয়েছে। বন্ধুত্বের বদলে গোলামির পথ বেছে নিয়ে শাসকেরা তাদের গদি রক্ষায় ব্যস্ত।

বিএনপি প্রধান বলেন, ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং আলেম সম্প্রদায় নানাভাবে নিগৃহীত ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। অন্য ধর্মের লোকদেরও কোনো নিরাপত্তা নেই। এখন যারা ক্ষমতায় আছে তারা অন্য ধর্মের নাগরিকদের ভোটই শুধু চায় না। তাদের সহায় সম্পদও তারা দখল করে নিচ্ছে। এই অবস্থা থেকে মানুষ মুক্তি চায়। সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পেতে চায়।

তিনি বলেন, যে অসুস্থ রাজনৈতিক ধারা এদেশে চালু করা হয়েছে সেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেখাতে হবে নতুন সম্ভাবনার পথ। জাতির বিরাজমান সমস্যাবলী সমাধানের জন্য সুচিন্তিত ও বাস্তবমুখী কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। সেইসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

খালেদা জিয়া ইসলামী ঐক্যজোটের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। হিংসা, হানাহানি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান ইসলামে নেই।  ইসলাম শান্তির পক্ষে, মজলুমের পক্ষে, ইনসাফের পক্ষে, সুশাসনের পক্ষে,  মৈত্রীর পক্ষে, সাম্যের পক্ষে, মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তার পক্ষে। কিন্তু মুষ্টিমেয় কিছু বিপথগামী লোক সন্ত্রাস, প্রতিহিংসা ও নিষ্ঠুরতার পথ বেছে নিয়ে আজ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামের পবিত্র শিক্ষার আলোকে আপনারা শান্তির পতাকাকে সমুন্নত রাখবেন, এই কাউন্সিলে আপনাদের প্রতি সেটাই আমার আহ্বান।

দেশের সংকট নিরসনে এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার আহ্বান জানানোর কথা স্মরণ করে বিএনপি প্রধান বলেন, বল এখন শাসক দলের কোটে। তারা সংঘাতের পথ ছেড়ে সংলাপের পথে সমস্যার সমাধান করবে বলে আমি আশা করি।  

স্বাধীন দেশের মানুষের অধিকার ও ইনসাফ কায়েমের জন্য আলেম সমাজ অকাতরে জীবন দিতেও পিছপা হননি উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, আগামীতেও আপনাদের সে ভূমিকা দেশবাসী আশা করে। আপনারা জানেন, অত্যাচারী শাসকের সামনে স্পষ্ট কথা বলাও উত্তম জিহাদ।  দেশে শান্তি, সুশাসন, গণতন্ত্র জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে, দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায়, আলেমসহ সকলের সম্মান  রক্ষায়, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায়, জুলুমের অবসান কল্পে আপনারা ঐক্যবদ্ধ  ও সোচ্চার হোন।

বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাওলানা আবদুর রকিবের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের সভাপতি নূর হোসেন কাশেমী, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল করিম খান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনালের (অব.) সৈয়দ মোহাম্মাদ ইবরাহীম (বীর প্রতীক), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জমিয়েত ওলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি আবদুর রউফ ইউসূফী, ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি ফজলুল হক জালালাবাদী, মাওলানা সৈকত আলী, নেজামী ইসলাম পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আবদুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

সম্মেলনের দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, যুব বিষষক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতার, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেক প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩০ ঘণ্টা, মার্চ ৩১, ২০১৬/আপডেট ১৮১৫ ঘণ্টা
এমএম/এইচএ/

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2016-03-31 07:34:01