bangla news

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেলেন না খালেদা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০৫-২০ ১১:৪৬:৪৭ এএম

শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করা হয়ে উঠলো না। বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরার ইচ্ছে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার অপূর্ণই থেকে গেলো। সাক্ষাৎ পেলেন না তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর।

লন্ডন: শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করা হয়ে উঠলো না। বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরার ইচ্ছে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার অপূর্ণই থেকে গেলো। সাক্ষাৎ পেলেন না তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর। লন্ডন সফরের প্রায় এক মাস আগ থেকে নানা চেষ্টা তদবির করেও এই সাক্ষাৎ সময়সূচি আদায় করা সম্ভব হয়নি। লন্ডনে অবস্থানকালে শেষ মুহুর্ত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আশায় ছিলেন বিরোধী দলীয় নেত্রী হয়তো ৫ মিনিটের জন্যে হলেও ক্যামেরনের সাক্ষাৎ পাবেন। কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি।

বুধবার হাউজ অব কমন্সে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের ফাঁকেও কায়েক মিনিটের একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট আদায় করা সম্ভব হয়নি বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেত্রীর জন্যে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাংবাদিক শফিক রেহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ অগ্রবর্তী দলের সদস্য হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ ত্যাগের কয়েক দিন আগে লন্ডন এসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট আদায়ের জন্যে অনেক দৌড়ঝাঁপ করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও চেষ্টায়ই ফল ফলেনি। সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি ডেভিড ক্যামেরনের।

ক্যামেরনের সাথে বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেত্রীর কোনও সাক্ষাৎ কর্মসূচি আছে কি না, তা জানতে বাংলানিউজের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিস ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের প্রেস অফিসের সাথে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে প্রেস অফিসের কিছুই জানা নেই বলে জানানো হয় বাংলানিউজকে।

প্রেস অফিসার ডেরেক এম স্মিথ ছুটিতে থাকায় বাংলানিউজের সাথে কথা বলেন অফিসে কর্মরত মি: কনেল। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এত ব্যস্ততার মধ্যে বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেত্রীকে সাক্ষাতের সময় দেওয়া সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি না। বাংলানিউজ প্রতিনিধিকে টেলিফোনে অপেক্ষায় রেখে কনেল প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে কথা বলেও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎচেষ্টা সম্পর্কে কোনও তথ্য জানতে পারেননি বাংলানিউজকে।

এদিকে, ব্রিটিশ রাজনীতিকদের সাথে সাক্ষাৎ কর্মসূচির সর্বশেষ অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার শেষ রাতে অলপার্টি পার্লামেন্টারি গ্র“প এর চেয়ারম্যান কনজারভেটিভ দলীয় এমপি আন মেইনের দেওয়া এক ডিনার পার্টিতে অংশ নেন খালেদা জিয়া। লন্ডন থেকে ৪৫ মাইল দূরবর্তী একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এই ডিনারে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে কনজারভেটিভ পার্টির এমপিদের সমন্বয়ের গঠিত একটি গ্র“পের বাংলাদেশ সফর নিয়ে আলোচনা করেন সাবেক প্রধানন্ত্রী খালেদা জিয়া ও আন মেইন এমপি। ডিনারে খালেদার সাথে তাঁর সফরসঙ্গী সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, শুক্রবার সারাদিন ছেলে তারেক রহমান, তারেকের স্ত্রী জোবাইদা ও নাতনী জাইমা রহমানের সাথে পারিবারিকভাবে সময় কাটিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী। দীর্ঘ ব্যস্ত প্রোগ্রাম শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিছুটা অসুস্থতা বোধ করছেন বলে জানা গেছে একটি সূত্র থেকে। আর এজন্যে ছেলের বউ ডাঃ জোবায়দা রহমান তাকে নিয়ে একজন ডাক্তারের কাছেও গিয়েছিলেন শুক্রবার। বাংলানিউজকে এমনটিই জানায় ঐ সূত্র।

কেন্দ্রীয় লন্ডনের হোটেল স্যুটেই মা-ছেলে মিলে সুখদু:খের গল্প করেছেন শুক্রবার সারাদিন। খালেদা জিয়ার লন্ডন অবস্থানকালীন তারেকও স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে একই হোটেলে আছেন। মা-ছেলের এই সুখ দুঃখের গল্পে রাজনৈতিক কোনও আলোচনা বা  সিদ্ধান্ত গুরুত্ব স্থান পেয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে জানা না গেলেও, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র একটি সূত্রে জানা গেছে, দুজনের আলোচনায়ই যুক্তরাজ্য বিএনপির পরবর্তী নেতৃত্ব সম্পর্কে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। শুধু যুক্তরাজ্য নয়, দেশে দলের কার্যক্রম, সিনিয়র নেতাদের কর্মতৎপরতা, মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে ঘোষিত আন্দোলনে চারদলীয় জোটের শরীকদের সম্পৃক্ত করাসহ জোটের পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হওয়ারও কথা রয়েছে এই আলোচনায়।

শনিবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে লন্ডন ত্যাগ করবেন বিরোধী দলীয় নেত্রী। সকাল ১০টায় ভার্জিন আটলান্টিক এয়ারলাইন্সে তিনি হিথরো বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। বিমানবন্দরে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতারা তাকে বিদায় জানাবেন বলে জানা গেছে।  

উল্লেখ্য, ১৪ মে, শনিবার বাংলাদেশ সময় শেষ রাতে লন্ডন পৌছানোর পর থেকেই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া। ১ মে, রোববার কেন্দ্রীয় লন্ডনের তার হোটেল হলেই তিনি বক্তব্য রাখেন দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে। সোমবার বিশ্রাম নেয়ার পর ১৬ মে, মঙ্গলবার তিনি সাক্ষাৎ করেন ব্রিটেনের বিরোধী দলীয় নেতা এড মিলিব্যান্ডের সাথে। এসময় বিরোধী দলীয় উপনেতা হ্যারিয়েট হারম্যান ও রোশনারা আলী এমপিও উপস্থিত ছিলেন। একই দিন হাউস অব কমন্সে তাঁর জন্যে বরাদ্দ নেয়া একটি কক্ষে  ব্রিটেনের আরো কয়েকজন এমপি’র সাথেও সাক্ষাৎ হয় খালেদার।

সোমবারই তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সাথে। ঐদিন বিকালে তিনি অংশ নেন টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফর রহমানের দেওয়া এক সংবর্ধনায়। বুধবার বিরোধী দলীয় নেত্রী দেখা করেন অল পার্টি পার্লামেন্টারি হিউম্যান রাইটস গ্র“পের ভাইসচেয়ার লর্ড অ্যাভিবুরির সাথে। একই দিন তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে ফরেন অফিসের জুনিয়র মিনিস্টার অ্যান্ড্রু বিলিংহামের সাথেও। বুধবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সন সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারপার্সন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ রাজনীতিক সাঈদা ওয়ারসির সাথে। ঐ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে কনজারভেটিভ দলীয় আরও ২/১জন এমপিও উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী অ্যালান ডানকানের সাথে বৈঠক হয় বিরোধী দলীয় নেত্রীর বৃহস্পতিবার লন্ডন সময় বিকেল ৩টায়। এই বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।

এর আগে অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্র“পের দেওয়া একটি অভ্যর্থনা সভায় যোগদান করেন খালেদা জিয়া। পার্লামেন্ট স্ট্রিটের হাউজ অব লর্ডসের টেরেস রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এই অভ্যর্থনায় বিরোধী দলীয় নেত্রী ৭/৮ মিনিটের একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। বৃহস্পতিবার রাতে অলপার্টি পার্লামেন্টারী গ্র“পের চেয়ার কনজারভেটিভ দলীয় এমপি আন মেইনের দেওয়া ডিনারে অংশ নেয়ার মাধ্যমেই ইতি ঘটে বিরোধী দলীয় নেত্রীর সাক্ষাৎ ও বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্বের। শনিবার সকালেই তিনি ছেলে তারেককে ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে লন্ডন ছেড়ে যাবেন।

বাংলাদেশ সময়:২১৩৭ ঘণ্টা, মে ২০, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2011-05-20 11:46:47