bangla news

দেশ ও জাতির স্বার্থবিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে বিএনপি অপোস করবে না : মওদুদ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০৫-১৭ ৮:৩৮:১৩ এএম

দেশ ও জাতির স্বার্থ বিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে বিএনপি অপোস করবে না বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

ঢাকা : দেশ ও জাতির স্বার্থ বিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে বিএনপি অপোস করবে না বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

আন্তর্জাতিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে ‘ফারাক্কা ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ পেশাজীবী পরিষদ এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করে।

মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘দেশ হিসেবে ভারত অনেক বড় হতে পারে। কিন্তু আমাদেরও অনেক মেধা আছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মেধার ব্যবহার না করার সংস্কৃতি ভাঙা হবে। মেধাবীদের ব্যবহার করে চুক্তি এবং অনান্য ক্ষেত্রে বিদেশিদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে আমরাও ছোট নই।’

বর্তমান সরকার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ সরকার একটি দুর্বল নতজানু সরকার। তারা যে ভোটে নির্বাচিত হয়েছে, প্রকৃত পক্ষে সে ভোট পেলে এমন নতজানু হয়ে থাকত না।’

মওদুদ বলেন, ‘আমাদের ৫৪টি নদীর পানির হিস্যা থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। ভারত কিছু চাওয়ার আগেই বর্তমান সরকার সবকিছু দিয়ে দেয়। আমরা দেওয়ার আগে ভাবতে চাই। অপমানজনকভাবে আমাদের কাছ থেকে কারো কিছু নেওয়ার ক্ষমতা নেই। তারা প্রকৃত জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে টিপাইমুখ বাঁধ ও ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে ভারতের সঙ্গে কথা বলত।’

তিনি বলেন, যে সরকার জনগণের দেশের স্বার্থ নিয়ে শক্তভাবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলতে পারে না। তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। ৫৪টি নদীর পানি প্রত্যাহার করায় আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা হিসাব করে বোঝানো যাবে না। বর্তমান সরকার বোঝে জনগণ কী চায়। কিন্তু নতজানু হওয়ায় তারা তা পূরণ করতে পারে না। নদীই হলো বাংলাদেশের মা। সে নদীই যদি শুকিয়ে যায় তাহলে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখানো হলো না। আমরা টিাপইিমুখ বাঁধ ও ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিপূরণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত গণ আন্দোলন গড়ে তুলব।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক এবং আমারদেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘সকল পেশাজীবীদের ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতি ও সমস্য সম্পর্কে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে হবে। এর মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে গণআন্দোলন ও গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ না আদায় হয়, ততদিন পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. শাহ মোহম্মদ ফারুক বলেন, ‘পরিবেশ ফোরামে যদি উন্নত বিশ্বের কার্বণ নিঃসরণের জন্য আমরা ক্ষতিপূরণ চাইতে পারি, তাহলে একটি আন্তর্জাতিক নদীকে বাঁধ দেওয়ার ফলে আমাদের বার্ষিক যে ছয় শ’ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়, তার ক্ষতিপূরণ চাইতে পারব না কেন।’

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান বলেন, ‘মওলানা ভাসানীর লংমার্চের পর জিয়াউর রহমান ফারাক্কা চুক্তি করেছিলেন। সেই চুক্তিতে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য ৭৫ ভাগ পর্যন্ত পানির নিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ভারতের সঙ্গে যে পানি চুক্তি করে, তাতে মাত্র ৫০ ভাগ পানির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। যদিও ভারত তা মানছে না।’

অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারেক শামসুর রহমান, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন ড. সদরুল আমীনসহ চিকিৎসক-শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ফোরামের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ফারাক্কা বাঁধের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পানি বিজ্ঞানী প্রকৌশলী এএনএইচ আখতার হোসাইন। তিনি প্রবন্ধে বলেন, ‘১৯৮০ সাল পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধের কারণে বছরে ৬ শ’ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বাংলাদেশ। গত ৩৬ বছরে বর্তমান বাজার মূল্যে এর পরিমান ১৫ শ’ ৫৪ বিলিয়ন টাকা। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও দশগুণ বেশি।’

বাংলাদেশ সময় : ১৮৩০ঘন্টা মে ১৭, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2011-05-17 08:38:13