bangla news
‘প্রধান বিচারপতিকে খন্দকার মোশাররফ’

হাত পা বাঁধা অবস্থায় যে রায় দিয়েছেন জনগণ তা মানতে বাধ্য নয়

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০৫-১৬ ৪:০৬:২৮ এএম

বিদায়ী প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘হাত পা বাঁধা অবস্থায় যে রায়গুলো দিয়েছেন জনগণ তা মানতে বাধ্য নয়।

ঢাকা: বিদায়ী প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘হাত পা বাঁধা অবস্থায় যে রায়গুলো দিয়েছেন জনগণ তা মানতে বাধ্য নয়।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিদায়ী প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের কথায় প্রমাণ হয়েছে, এতোদিন তিনি যে রায়গুলো দিয়েছেন তা সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য হাত পা বাঁধা অবস্থায় এতদিন যে রায় আপনি দিয়েছেন তা মানতে জনগণ বাধ্য নয়।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের বৈতরণী পার হবার জন্য জ্যৈষ্ঠতা লংঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন। দলীয় প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরারের প্রধান করা হলে বিএনপি সেই নির্বাচন কিছুতেই হতে দেবে না।
‘দুই বাংলা একসঙ্গে কাজ করতে চাই-’ পশ্চিম বঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।’

মততার উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘একটি অঙ্গ রাজ্যের সরকার প্রধান হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশেকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার দুঃসাহস দেখান কী করে। দুই বাংলাকে  এক করতে হলে দিল্লীর জোয়াল থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আসুন। আপনাকে আমরা স্বাগত জানাবো।’

প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার আসকারা পেয়েই মমতা ব্যানার্জি এই দুঃসাহস দেখিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন খন্দকার মোশাররফ।

মমতা ব্যানার্জিকে ফোন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের নতজানু নীতি ও হিন্দুস্তান প্রেম কত গভীর মমতার বিজয়ের পর হাসিনার টেলিফোন তা প্রমাণ করেছে।’

সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টু-থার্ড মেজরিটির বলে মহাজোট সরকারের বিশেষ কমিটি হয়তো সংবিধান পাস করিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু আল্লাহ’র ওপর পূর্ণআস্থা, রাষ্ট্রধম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধন হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’

দেশ ও জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে সংসদ ভেঙে দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেওয়ারও আহ্বান জানান বিরোধী দলের চিফ হুইপ।

জাগপা’র সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, ‘ফারাক্কা বাধ কেবল টেকনিক্যাল বিষয় নয়। এটি ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।’

এনপিপি’র চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নীলু’র সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান রাজিয়া ফয়েজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, জামায়াতের প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক তাসনীম আলম, ইসলামী ঐক্যজোটের (একাংশ) মহাসচিব আব্দুল লতিফ নেজামী, এনডিপি’র চেয়রম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপি’র মহাসচিব ফরিদুরর রহমান ফরহাদ, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র ঢাকা মহানগর আমীর এটিএম হেমায়েত উদ্দিন প্রমুখ।


বাংলাদেশ সময়: ১৪০৮ ঘণ্টা, মে ১৬, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2011-05-16 04:06:28