bangla news

হাসিনার নির্দেশেই আমার ছেলেকে গুম করে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে: আমিনী

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০৪-২২ ২:১৬:২৬ এএম

‘কোরআনের আন্দোলন বন্ধ করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমার ছেলেকে গুম করে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ এ অভিযোগ করেছেন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমীর মুফতি ফজলুল হক আমিনী।

ঢাকা: ‘কোরআনের আন্দোলন বন্ধ করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমার ছেলেকে গুম করে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’ এ অভিযোগ করেছেন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমীর মুফতি ফজলুল হক আমিনী।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় লালবাগস্থ ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আমিনীর ছেলে মাওলানা আবুল হাসানাত ১৩ দিনের বন্দিদশার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন।

মুফতী আমিনী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এখনো পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, কোরআনের আন্দোলন বন্ধ করতে শেখ হাসিনার নির্দেশে আমার ছেলেকে গুম করা হয়েছিল। আবার তার নির্দেশেই আমার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

আপনি যেহেতু সুনির্দিষ্ট করে বলছেন, প্রধানমন্ত্রীই আপনার ছেলেকে গুম করেছিলেন। এখন তার বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা? এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুনিয়ার আদালতে আমার কোনো নালিশ নেই। এর বিচার আল্লাহর আদালতেই হবে।’

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন মুফতী আমিনী।

তিনি বলেন, ‘আমি এখন পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ব্যাপারে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির মহাসচিব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি লিখলেও গত ১০ দিনে সে ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’

ছেলেকে ফিরে পাওয়ার ৫ ঘণ্টা পর পুলিশকে জানানোর কথাও অস্বীকার করেন আমিনী। তিনি বলেন, ‘৫ ঘণ্টা নয়, আধা ঘণ্টার মধ্যেই লালবাগ থানাকে জানানো হয়েছে।’

আমিনীর ছেলে মাওলনা আবুল হাসানাত কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবাকে আন্দোলন থেকে দূরে রাখতেই আমাকে আটক রাখা হয়েছিল।’

তিনি জানান,  গত ১০ এপ্রিল বেলা এগারটায় ধোলাইখাল এলাকায় গাড়ি মেরামতের জন্য গেলে অস্ত্রধারী কয়েকজন লোক তাকে জোর করে গাড়িতে তোলে। গাড়িতে তোলার পরই পরই চোখ বেঁধে ফেলায় তিনি কাউকে চিনতে পারেননি।

আবুল হাসনাত বলেন, ‘১৩ দিনের প্রতিটি মুহূর্তই  আমার কাছে শেষ মুহূর্ত মনে হয়েছে। কারণ, কিছুক্ষণ পরপর তারা এসে বলত ‘তোর শেষ ইচ্ছা কী বল।’

আপনাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে কি-না? এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাকে শারিরীক কোনো নির্যাতন করা হয়নি। কেবল হাতে হ্যান্ডকাপ ও চোখ বেঁধে রাখা হতো।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে বারবার বলা হতো- তোকে ছেড়ে দিতে পারি এক শর্তে, তোর বাবাকে দুই মাস ঘরে বসিয়ে রাখবি। তোর বাবা বড় বেশি বেড়ে গেছে।’

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৪টায় আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে ছেড়ে দেওয়ার সময় তাকে বারবার বলা হয়েছে, ৪ দিন শ্বশুর বাড়িতে থাকবি। ঘর থেকে বের হবি না। তাহলে গুলি করে মেরে ফেলব।’  

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির নায়েবে আমীর আব্দুল লতিফ নেজামী, মুজিবুর রহমান পেশোয়ারী, জুবায়ের আহমেদ, ঢাকা মহানগর কমিটির আমীর আবুল কাশেম প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১২০৯ ঘণ্টা, এপ্রিল ২২, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2011-04-22 02:16:26