bangla news

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনগত ভিত্তি নেই: সাকা মুক্তি পরিষদ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-০৩-১৯ ৩:৪৮:৩৯ এএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা) মুক্তি পরিষদের নেতারা। তারা দাবি করেন এই ট্রাইব্যুনাল দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অসম্ভব।

ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা) মুক্তি পরিষদের নেতারা। তারা দাবি করেন এই ট্রাইব্যুনাল দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অসম্ভব।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মুক্তি পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।

পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন শেলী লিখিত বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ যেসব ওয়াদা করে ক্ষমতায় এসেছিলো তা পূরণ করতে না পেরে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে যুদ্ধাপরাধের বিচার নামে হীন   চেষ্টার আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আদালত তাকে উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও আপিল বিভাগ তা স্থগিত করেছেন। ফলে বিনা চিকিৎসায় তার জীবন এখন সংকটাপন্ন। কারাগারে তাকে ডিভিশনও দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে সিমলায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিলো তাতে বাংলাদেশের পক্ষে পাকিস্তানকে ভারত কথা দিয়েছিলো, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে না। পাকিস্তানের যুদ্ধবন্দীদের ফেরত দেওয়া হবে। ১৯৭৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দিল্লির হোটেল অশোকায় বৈঠকের পর সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ওই চুক্তির আলোকে ১৯৫জন যুদ্ধাপরাধীসহ সকল যুদ্ধবন্দীকে ফেরত পাঠানো হয়। ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজিজ আহমেদ।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান তৃপ্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, বাংলার মানুষ দেখিয়ে দিলো তারা ক্ষমা করতে জানে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ১৯৭২-৭৩ সালেই যুদ্ধারাধীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাহলে ২০১১ সালে কিভাবে তা প্রমাণ করা যাবে।  

শেলী বলেন, ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধের সময়ে সংগঠিত অপরাধকে দুই ভাগে ভাগ করেছিলেন। একটি ছিলো যুদ্ধাপরাধ ও অপরটি পাকিস্তান বাহিনীর দালাল। এই দালালদের বিচারের জন্য ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান সরকার দালাল আইন জারী করে।

ওই আইনের বলে প্রায় ১ লাখ লোককে ওই সময় গ্রেপ্তার করা হলেও অভিযোগ আনা হয় ৩৭ হাজার ৪৭১ জনের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে ৩৪ হাজার ৬২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে কোনো মামলাই দায়ের করা সম্ভব হয়নি। বিচারের মুখোমুখি হন ২ হাজার ৮৪৮জন।

ওই বিচারে মাত্র ৭৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ওই অভিযোগও গুরুত্ব দেওয়ার মত কিছু ছিলো না।

১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।

শেলী বলেন, যেসব অপরাধ সাধারণ ক্ষমার বাইরে ছিলো তা হলো খুন, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। কিন্তু দালাল আইনে দালাল আইনে আটক একজনের বিরুদ্ধেও এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরও ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আইনটি বহাল ছিলো। কিন্তু দুই বছর এক মাসে ওই চারটি অভিযোগে সারা দেশে একটি অভিযোগ বা মামলা হয়নি।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামের নতুন কুন্ডের হত্যাকারী হিসেবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের অধীনে চট্টগ্রাম জেলা সংখ্যালঘু বোর্ডের সদস্য ছিলেন। এতে প্রমাণ হয় নতুন কুন্ড পাকিস্তান সরকারের ঘনিষ্টজন ছিলেন। তাকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর হত্যার প্রশ্নই আসে না।

তার স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী বলেন, এরশাদ জেলে থাকাকালে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দেওয়া সুযোগ পেলেও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্পিকারের কাছে চিঠি দিলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি।


অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মেয়ে ফারজিন কাদের চৌধুরী, মুক্তি পরিষদের নেতা খন্দকার আহসান হাবিব, শাহজাহান সম্রাট, ফোরকানী আলম, সরোয়ারি আলম, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ, ফরিদ উদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৪৪ঘণ্টা, মার্চ ১৯, ২০১১

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2011-03-19 03:48:39