bangla news

সমন্বয়ের অভাবে কর্মসূচি ‘সফল হচ্ছে না’ বিএনপির

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-০৭-১৪ ১:০০:০৫ এএম

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি সমন্বয়ের অভাবে খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। দলের মধ্যম পর্যায়ের নেতাদের মধ্য থেকেই এ অভিযোগ উঠে এসেছে।

ঢাকা: প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি সমন্বয়ের অভাবে খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। দলের মধ্যম পর্যায়ের নেতাদের মধ্য থেকেই এ অভিযোগ উঠে এসেছে। আর এ কারণেই চার দলীয় জোট ও সমমনা দলগুলোর সমর্থন নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি দিলেও মাঠে নেমে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। শীর্ষ পর্যায়ের দু-একজন নেতাও বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।  তবে দলের মধ্যে কোনো কোন্দল বা অন্তর্দ্বন্ধ নেই বলেই মনে করছেন শীর্ষ নেতারা।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি’র সঙ্গে আলাপচারিতায় নেতাদের কেউ কেউ রাজপথে সমমনাদের অনুপস্থিতি ও দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ না করার মনোভাবকে দায়ী করেছেন। কেউ আবার পুলিশের ‘মারমুখি’ ভূমিকা আর প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক ক্যাডারদের ‘সহিংস’ বিরোধিতাকেও বড় কোনো কর্মসূচির পথে বাধা বলে মনে করছেন।  

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘দলের একটা চেইন অব কমান্ড থাকে। ঢাকা মহানগরীতে আমাদের একটু সমস্যা আছে। কমিটি না থাকায় আন্দোলন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা সঠিক নির্দেশনা পাচ্ছেন না।’

তবে বিএনপিতে কোনো কোন্দল নেই বলে দাবি করেন তিনি।

কেন মাঠ দখলে রাখতে পারছেন না জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ঢাকা সিটি মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘দল থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হয় তা পালন করার চেষ্টা করি। তবে পুলিশের বাড়াবাড়ি’র কারণেই আমাদের নেতাকর্মীরা রাস্তায় দাঁড়াতে পারছেন না।’

তবে নগর কমিটি না হওয়া প্রসঙ্গে কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করেই নগর মেয়র বললেন, ‘এটা মহাসচিব জানেন। এ সর্ম্পকে আমি কিছুই জানিনা।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীও বিএনপিতে কোনো কোন্দল নেই উল্লেখ করে বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ করছেন, যত সমস্যা সরকারের মধ্যে।’

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তাদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য বিরোধীদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসুচিতে বাধা দিচ্ছে। কোনো গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া এদেশের জনগণ ভালোভাবে নেবে না। অতীতেও কেউ বাধা দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। আগামীতেও কেউ বিরোধীদলকে হয়রানি আর আটক করে ক্ষমতায় থাকবে এটা জনগণ বিশ্বাস করে না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সরকারের আগ্রাসী মনোভাবকেই বড় কোনো কর্মসূচি সফল না হওয়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করছেন।

তিনি বলেন, ‘সরকার খুবই এগ্রেসিভ। সরকারের যে আচরণ তাতে এ মুহূর্তে তাদের সঙ্গে যুদ্ধে নামা যাবে না। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ বাহিনীর নির্যাতনে কেউ রাস্তায় দাঁড়াতেই পারছেন না।’

তবে দলের মধ্যে সমন্বয় হীনতার অভাবের কথা বিভিন্নভাবেই প্রকাশ করেছেন দলের মধ্যম সারির নেতারা। সরকারবিরোধী জনসমর্থন আদায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একের পর এক বিভাগীয় মহাসমাবেশ এবং সমমনা রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ও খুব একটা কাজে আসেনি বলেই মনে করছেন তারা। দেশব্যাপী ডাকা ৭ জুলাইয়ের মানববন্ধন ও ২৭ জুনের হরতালে বিএনপি নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণও ছিল হতাশাজনক।

রাজধানীতে ৭ জুলাইয়ের মানববন্ধন কর্মসূচিও মূলত ছিল প্রেসকাবকেন্দ্রিক। মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সকাল ১১টায় প্রেসকাবে উপস্থিত হলেও সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বসেছিলেন গাড়ির ভিতরে। সাড়ে ১১টার দিকে গাড়ি থেকে বের হয়ে ফটকের সামনে এলে পুলিশের টানাহেঁচড়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন দেলোয়ার। জরুরি ভিত্তিতে তাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরপরই নেতাকর্মীরা মানববন্ধন স্থল ছেড়ে চলে যান।

এদিন রাজধানীতে জামায়াতের অংশগ্রহণ কিছুটা থাকলেও সারাদেশে সমমনা আর কোনো দলকে দেখা যায়নি বিএনপির পাশে।

কর্মসূচির আগেই নেতাদের সমন্বয়হীনতাকে এ জন্য দায়ী করেছেন অনেকেই। মহাসচিবের আচরণেরও সমালোচনা করেন মধ্যম সারির নেতা-কর্মীরা।

২৭ জুনের হরতালেও জামায়াতের সীমিত অংশগ্রহণ ছাড়া সমমনা আর কোনো দল দলকে বিএনপির পাশে দেখা যায়নি। তাছাড়া হরতালের আগের দিন ছাত্রলীগের হরতালবিরোধী সমাবেশ আর পুলিশ কমিশনারের রাজপথে মিছিলের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারিতে ভীত হয়ে পড়া বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে খুব একটা উৎসাহী ছিলেন না।

ক্ষমতাসীনদের কড়া অবস্থানে ভয় পাওয়া সর্বস্তরের মানুষ রাজপথ থেকে সরে যাওয়ায় বিএনপির কড়া পিকেটিং ছাড়াই ওইদিন হরতাল সফল হয়ে যায় বলেও মনে করছেন তারা।  

বিএনপির হরতালসহ সব কর্মসূচিতে নৈতিক সমর্থন দিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিলেও রাজধানীতে জামায়াতের কিছুটা অংশগ্রহণ ছাড়া আর কোনো সমমনা দলকে মাঠে দেখা যায়নি।

আর এ কারণেই ৭ জুলাইয়ের মানববন্ধন ও ২৭ জুনের হরতালে একাই মাঠে নেমে পুলিশ আর প্রতিপক্ষের হামলায় বিএনপিকে নাস্তানাবুদ হতে হয়।

বাংলাদেশ সময় ১০৪৩ ঘণ্টা, ১৪ জুলাই ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-07-14 01:00:05